<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><?xml-stylesheet href="http://hajjbd.wetpaint.com/xsl/rss2html.xsl" type="text/xsl" media="screen"?><?xml-stylesheet href="http://hajjbd.wetpaint.com/scripts/wpcss/wiki/hajjbd/skin/autumnfire/rss" type="text/css" media="screen"?><rss version="2.0" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"><channel><title>হজ্জ, উমরাহ্ ও যিয়ারত - Recently Updated Pages</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/pageSearch/updated</link><description>Recently Updated Pages on http://hajjbd.wetpaint.com</description><language>en-us</language><webMaster>info@wetpaint.com</webMaster><pubDate>Tue, 27 Nov 2007 07:53:08 CST</pubDate><lastBuildDate>Tue, 27 Nov 2007 07:53:08 CST</lastBuildDate><generator>wetpaint.com</generator><ttl>60</ttl><image><title>হজ্জ, উমরাহ্ ও যিয়ারত</title><url>http://www.wetpaint.com/img/logo.gif</url><link>http://hajjbd.wetpaint.com</link></image><item><title>মদীনার ফযীলত</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AB%E0%A6%AF%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%A4</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AB%E0%A6%AF%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%A4</guid><pubDate>Tue, 27 Nov 2007 07:53:08 CST</pubDate><description>মদীনার ফযীলত এবং সেখানে বসবাস ও যিয়ারতের আদবসমূহ &lt;br&gt;মূলঃ   শাইখ আব্দুল মুহসিন ইবনে হামাদ আল আব্বাদ আল বাদর   শিক্ষক মসজিদে নববী, ভূতপূর্ব প্রো-ভিসি, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   মদীনা মুনাওয়ারা, সাউদী আরব৷   অনুবাদকের কথা   আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা আদায় করছি, যিনি আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন, আর তাঁর রাসূলের পবিত্র মদীনা নগরীতে জীবনের এক বিরাট অংশ পড়ালেখা ও বসবাসে কাটাবার সুযোগ দিয়েছেন৷ পবিত্র মদীনায় অবস্থানকালে আমার দেশীয় বাংলাভাষাভাষীগণ আমাকে ও আমার কিছু বন্ধু বান্ধব ছাত্র ভাইদেরকে প্রায়ই মদীনা শরীফ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করতো৷ তখন থেকেই এমন একটি গ্রন্থের সন্ধান করছিলাম যা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে &amp;lsquo;মদীনা&amp;rsquo; সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জওয়াব হতে পারে৷ ইতিমধ্যেই পেয়ে গেলাম আমারই উস্তাদ শাইখ আব্দুল মুহ্সিন আল্ বাদ্র এর অধিকাংশ জিজ্ঞাসার জবাব সমৃদ্ধ এমন একখানা গ্রন্থ৷ তাই বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যেও বইটি অনুবাদ করতে দেরী করা সমীচিন মনে করিনি৷   শাইখ আব্দুল মুহসিন আল আব্বাদ &amp;ldquo;আল্লাহ তাকে তাঁর দ্বীনের খেদমতের জন্য দীর্ঘজীবি করুন&amp;rdquo; তিনি বর্তমান যমানার মুহাদ্দিসদের মধ্যে অন্যতম৷ তাঁর নিকট আমি আক্বীদা বিষয়ের সবক গ্রহণ করি আমার অনার্স পর্বে ৷ তার পর মাঝে মধ্যে মাসজিদুন নববীতে তার দারসে বসার সুযোগ পাই, যেখানে তিনি পর্যায়ক্রমে হাদীসের ছয়টি কিতাবের দারস দিয়ে যাচ্ছেন৷ যার দারসের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো হাদীসের সনদ ও মতন দু&amp;rsquo; অংশের সঠিক জ্ঞান দান, যার তুলনা বিরল৷ তার ছাত্র হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি৷ আশা করছি এ ছোট বইটি মদীনা বসবাস ও যিয়ারতের পক্ষে যথেষ্ট সহায়ক হবে৷ আল্লাহ আমার এ প্রচেষ্টা কবুল করুন৷   আমীন৷   আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া   পবিত্র মদীনা নগরী৷   ১৯/০২/১৪২৪ হিঃ   বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম   আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, তার কাছেই ক্ষমা চাচ্ছি, আমাদের আত্মার সমূহ অনিষ্ট ও কর্মকান্ডের খারাপি হতে আল্লাহর কাছেই আশ্রয় নিচ্ছি, যাকে আল্লাহ হিদায়াত করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেয়ার কেউ নেই৷ আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা&amp;lsquo;বুদ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা, রাসূল, অন্তরঙ্গ বন্ধু ও তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি৷ তাকে আল্লাহ কিয়ামতের আগে সুসংবাদদান কারী ও ভয়প্রদর্শনকারী রূপে, আল্লাহর দিকে তাঁর নির্দেশে আহ্বানকারী হিসাবে এবং প্রজ্জলিত আলোকবর্তিকা রূপে প্রেরণ করেছেন৷ তিনি উম্মতকে যাবতীয় কল্যাণের পথনির্দেশ করেছেন, আর যাবতীয় অকল্যাণকর বস্তু থেকে সাবধান করেছেন৷ হে আল্লাহ, আপনি তার উপর সালাত, সালাম ও বরকত দিন, অনুরূপভাবে তার বংশধর ও সাহাবী গণ সহ যারা কিয়ামত পর্যন্ত তার পথে চলবে, তার আদর্শের অনুসরণ করবে তাদের উপর৷   তার পরঃ মদীনা নগরী; রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনা, যার অপর নাম ত্বাইবাতুত্বাইবা তথা পবিত্র পূণ্যভূমি, ওহী নাযিল হওয়ার স্থান, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিব্রীল আল-আমীনের অবতরণ স্থান, ঈমানের আশ্রয়স্থল, মুহাজির ও আনসারদের মিলনকেন্দ্র, যারা ঈমান এনেছিল ও বসতি স্থাপন করেছিল তাদের জন্মভূমি, মুসলমানদের প্রথম রাজধানী, এখান থেকেই আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য পতাকাসমূহ উত্তোলিত হয়েছিল, সত্যের পতাকাবাহী সেনানীগণ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য বের হয়ে পড়েছিল৷ আর এখান থেকেই আলোর বিচ্ছুরণ ঘটেছিল, ফলে হিদায়াতের আলোয় আলোকিত হয়েছিল জমীন৷ মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের স্থান, এদিকেই তিনি হিজরত করেছিলেন, এখানেই তিনি জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছিলেন, এখানেই তার মৃত্যু হয়েছে, এখানেই তাকে কবর দেয়া হয়েছে, আবার এখান থেকেই (তাঁকে হাশরের জন্য) পূনরুত্থিত করা হবে৷ আর তার কবরই প্রথম কবর যা তার বাসিন্দাকে (হাশরের জন্য) প্রথম বের করবে৷ আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর ব্যতীত অন্য কোন নবীর কবর কোথায় আছে সে সম্পর্কে অকাট্য কোন প্রমাণ নেই৷   এ বরকতময় মদীনা নগরীকে আল্লাহ তা&amp;lsquo;আলা সম্মানিত করেছেন এবং শ্রেষ্টত্ব প্রদান করেছেন, আর একে করেছেন মক্কা নগরীর পরে সবচেয়ে উত্তম স্থান৷ মক্কা নগরী মদীনা নগরী থেকে শ্রেষ্ঠ এ কথার প্রমাণ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- যখন তাকে কাফেরগণ মক্কা থেকে বের করে দিচ্ছিল আর তিনি মদীনার দিকে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লেন তখন তিনি মক্কা নগরীকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ   &amp;quot;وَاللهِ إنّكِ لَخَيْرُ أرْضِ اللهِ، وَأَحَبُّ أَرْضُ اللهِ إلى اللهِ، ولو لا أنِّي أُخْرِجْتُ منكِ مَا خَرَجْتُ&amp;quot;   &amp;ldquo;আল্লাহর শপথ নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর জমিনের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম জায়গা, আর আল্লাহর নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ভূমি, যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে না দেয়া হতো আমি বের হতাম না&amp;rdquo;৷ এটা একটি সহীহ হাদীস যা ইমাম তিরমিযি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন৷   অপরপক্ষে যে হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্পর্কিত করা হয়ে থাকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দো&amp;lsquo;আ করেছেন এবং বলেছেনঃ   &amp;quot;اللهُمَّ إِنَّكَ أَخْرَجْتَنِيْ مِنْ أَحَبِّ الْبِلاَدِ إليّ ـ يعني مكةَ ـ فَأَسْكِنِّيْ فِيْ أَحَبِّ البِلادِ إلَيْكَ ـ يعني المدينةَ ـ&amp;quot;   &amp;ldquo;হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার সবচেয়ে প্রিয় দেশ থেকে বের করেছেন অর্থাৎ, মক্কা নগরী- সুতরাং আপনি আমাকে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় দেশের অধিবাসী করুন অর্থাৎ, মদীনা নগরী-&amp;rdquo; এ হাদীসটি বানোয়াট৷ অর্থের দিক থেকেও তা সঠিক নয়; কেননা তাতে এ কথা বুঝা যায় যে, আল্লাহর কাছে যা সর্বাধিক প্রিয় রাসূলের কাছে তা সর্বাধিক প্রিয় নয়, আর রাসূলের কাছে যা প্রিয় তা আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় নয়৷ অথচ জানা কথা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা মহান আল্লাহর ভালোবাসার অনুগত৷ আল্লাহর কাছে যা সবচেয়ে বেশী প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছেও তা সবচেয়ে বেশী প্রিয়৷   এ বরকতময় মদীনা নগরীর ফযীলত, বসবাসের আদব কায়দা এবং যিয়ারত সম্পর্কে আলোচ্য বইটি লিখতে ইচ্ছা করছি, এতে এর কিছু ফযীলত , বসবাস ও যিয়ারতের কিছু আদব বা নিয়মনীতির উল্লেখ করব।&lt;br&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>এক নজরে- হজ্জের কার্যাবলী</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87-+%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87-+%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80</guid><comments>Rename</comments><pubDate>Tue, 27 Nov 2007 04:58:25 CST</pubDate><description>&lt;br&gt;&lt;br&gt; &lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt; &lt;br&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>Home</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home</guid><pubDate>Tue, 27 Nov 2007 04:54:34 CST</pubDate><description>&lt;table align=&quot;bottom&quot; cellpadding=&quot;3&quot; class=&quot;wp-border-none&quot; width=&quot;100%&quot;&gt;  &lt;tbody&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;সচিত্র পরিচিতি ও পথনির্দেশ&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;&lt;/tbody&gt;&lt;/table&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;a class=&quot;external&quot; href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.comhttp://www.geocities.com/islamicmiracles/the_islamic_images.htm&quot; rel=&quot;nofollow&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt; &lt;/a&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;হজ্জ ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির অন্যতম একটি। পবিত্র কা&amp;#39;বার পথের অভিযাত্রীদের জন্য এই সাইট আমাদের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।&lt;br&gt;&lt;br&gt;আমরা চেষ্টা করবো হজ্জ, উমরাহ্ এবং মদীনা যিয়ারত সংক্রান্ত যাবতীয় মৌলিক ও সূক্ষ্ম বিষয়াদির প্রতি আলোকপাত ও দিকনির্দেশনা দানের জন্য।&lt;br&gt;&lt;br&gt;সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট তৌফিক কামনা করছি আমাদের সফলতার এবং হাজী সাহেব ও যিয়ারতকারীগণের জন্য, যেন তারা সঠিকভাবে তাঁর ইবাদাত সম্পন্ন করার মাধ্যমে তাঁর প্রিয়ভাজন হতে সক্ষম হন।&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;br&gt;..........................................................................&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  [ সাইটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, পূর্ণতা আসতে সময় লাগবে। সম্মানিত ভিজিটরদের প্রতি ধৈর্য্য রাখার অনুরোধ রইল। ]&lt;br&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;br&gt;&lt;b&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot; size=&quot;4&quot;&gt;লিফলেট:&lt;/font&gt;&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;b&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot; size=&quot;4&quot;&gt;&lt;/font&gt;&lt;/b&gt; &lt;br&gt;&lt;b&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot;&gt;খুব সহজে হজ্জের কার্যাবলী সম্পর্কে দিকনির্দেশনা সমৃদ্ধ লিফলেটটি সংগ্রহে রাখতে পারেন-&lt;br&gt;&lt;/font&gt;&lt;/b&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87%3A+%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80-%E0%A7%A8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot; size=&quot;4&quot;&gt;এক নজরে: হজ্জের কার্যাবলী&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;br&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#808080&quot; size=&quot;4&quot;&gt;হজ্জ সংক্রান্ত ও হাজী সাহেবদের জন্য উপকারী দু&amp;#39;টি বই:&lt;/font&gt;&lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#808080&quot; size=&quot;4&quot;&gt;&lt;/font&gt; &lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%A4&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot; size=&quot;4&quot;&gt;হজ্জের হাকীকত&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;  আরবী ভাষায় &amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo; অর্থ যিয়ারতের সংকল্প করা৷ যেহেতু খানায়ে কা&amp;rsquo;বা যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে মুসলমানরা পৃথিবীর চারদিক থেকে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দিকে চলে আসে, তাই এর নাম রাখা হয়েছে &amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo;৷ কখন কিভাবে হজ্জের সূচনা হয়েছিল, সেই ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং শিক্ষাপ্রদ৷ গভীর মনোযোগের সাথে সেই ইতিহাস অধ্যয়ন করলে হজ্জের কল্যাণকারিতা হৃদয়ঙ্গম করা পাঠকের জন্য সহজ হবে৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;কি মুসলমান, কি খৃস্টান- হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নাম কারো অজানা নয়৷ দুনিয়ার তিন ভাগের দু&amp;rsquo;ভাগেরও বেশী লোক তাঁকে &amp;lsquo;নেতা&amp;rsquo; বলে স্বীকার করে ৷ হয়রত মূসা আলাইহিস সালাম, হয়রত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এ তিনজন শ্রেষ্ঠ নবীই তাঁর বংশজাত, তাঁর প্রজ্জলিত আলোকবর্তিকা থেকে সমগ্র দুনিয়ার সত্যের জ্যোতি বিস্তার করেছে ৷ চার হাজার বছরেরও বেশীকাল পূর্বে ....................... &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%A4&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;বইটি পড়ুন&lt;/a&gt;।&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt; &lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;b&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;হাজী সাহেবদের প্রতি ক&amp;#39;টি খোলা চিঠি&lt;/a&gt;&lt;/b&gt;&lt;/div&gt;সুপ্রিয় হাজী ভাই,   &lt;br&gt;আপনাকে মহান আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলমানদের মধ্য থেকে তাঁর পবিত্র ঘর যিয়ারতের জন্য মনোনীত করেছেন। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলার কাছে আবেদন করি তিনি যেন দুনিয়া ও আখেরাতে আপনাকে অভিভাবকত্ব দান করেন এবং যেখানেই থাকুন না কেন সেখানেই আপনাকে বরকতময় করেন। &lt;br&gt;&lt;br&gt;সম্মানিত ভাই, &lt;br&gt;আপনি অনেক কষ্ট বরদাশ্ত করেছেন। অনেক কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করেছেন। অনেক সম্পদ-অর্থ-কড়ি ব্যয় করেছেন। নিজ দেশ, আপন-জন, পরিবার পরিজন,সন্তান-সন্ততি ছেড়ে এসেছেন। এসব কেবলমাত্র এ জন্য যে আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা আপনার উপর তাঁর পবিত্র ঘরের হজ্জ পালন করা ফরজ করেছেন, তা সম্পন্ন করার জন্যই আপনার এ আগমন। আল্লাহ্ আপনার হজ্জকে কবুল ও কলুষমুক্ত করুন। &lt;br&gt;&lt;br&gt;সম্মানিত হাজী ভাই, &lt;br&gt;আপনার আগমনে আমার ভালবাসা ও অনুরাগ আপনার প্রতি। আপনার সন্তুষ্টি ও আনন্দ, আপনার নিরাপত্তা ও শান্তিতে আমার মানসিক আনন্দ, আর এটাই আমাকে আপনার প্রতি আমার কিছু করণীয় আদায়ের লক্ষ্যে কয়েকটি উন্মুক্ত চিঠি প্রেরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;বিস্তারিত পড়ুন...&lt;/a&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  _________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;Home&lt;/a&gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/a&gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/a&gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/a&gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/a&gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/a&gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;ছবি&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>বই-পুস্তক</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95</guid><pubDate>Tue, 27 Nov 2007 04:47:22 CST</pubDate><description>&lt;table align=&quot;bottom&quot; cellpadding=&quot;3&quot; class=&quot;wp-border-all&quot; width=&quot;100%&quot;&gt;  &lt;tbody&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;33%&quot;&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;সচিত্র পরিচিতি ও পথনির্দেশ&lt;/a&gt;&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;&lt;/tbody&gt;&lt;/table&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#808080&quot; size=&quot;4&quot;&gt;হজ্জ সংক্রান্ত ও হাজী সাহেবদের জন্য উপকারী দু&amp;#39;টি বই:&lt;/font&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;=&amp;gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%A4&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot;&gt;হজ্জের হাকীকত&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;br&gt;=&amp;gt; &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot;&gt;হাজী সাহেবদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot;&gt;&lt;/font&gt; &lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ________________________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;Home&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;ছবি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;/font&gt;  &lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F</guid><pubDate>Tue, 27 Nov 2007 04:25:25 CST</pubDate><description>&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot; size=&quot;4&quot;&gt;&lt;b&gt;লিফলেট:&lt;/b&gt;&lt;/font&gt;&lt;br&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87%3A+%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80-%E0%A7%A8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;এক নজরে: হজ্জের কার্যাবলী&lt;/a&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#0000ff&quot; size=&quot;4&quot;&gt;&lt;b&gt;মসজিদুন্ নববীর খোৎবা:&lt;/b&gt;&lt;/font&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;/font&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ______________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;Home&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;ছবি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>হজ্জের হাকীকত</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%A4</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%A4</guid><pubDate>Tue, 20 Nov 2007 08:07:32 CST</pubDate><description>&lt;font size=&quot;3&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#808080&quot;&gt;লিখেছেন সাইয়েদ আবুল আ&amp;rsquo;লা মওদূদী&lt;/font&gt;&lt;/font&gt;&lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#808080&quot;&gt;&lt;/font&gt; &lt;br&gt;&lt;font color=&quot;#808080&quot;&gt;&lt;/font&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#808080&quot;&gt;&lt;/font&gt;&lt;b&gt;&lt;font size=&quot;4&quot;&gt;হজ্জের গোড়ার কথা&lt;/font&gt; &lt;/b&gt;&lt;/div&gt;  আরবী ভাষায় &amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo; অর্থ যিয়ারতের সংকল্প করা৷ যেহেতু খানায়ে কা&amp;rsquo;বা যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে মুসলমানরা পৃথিবীর চারদিক থেকে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দিকে চলে আসে, তাই এর নাম রাখা হয়েছে &amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo;৷ কখন কিভাবে হজ্জের সূচনা হয়েছিল, সেই ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং শিক্ষাপ্রদ৷ গভীর মনোযোগের সাথে সেই ইতিহাস অধ্যয়ন করলে হজ্জের কল্যাণকারিতা হৃদয়ঙ্গম করা পাঠকের জন্য সহজ হবে৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;কি মুসলমান, কি খৃস্টান- হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নাম কারো অজানা নয়৷ দুনিয়ার তিন ভাগের দু&amp;rsquo;ভাগেরও বেশী লোক তাঁকে &amp;lsquo;নেতা&amp;rsquo; বলে স্বীকার করে ৷ হয়রত মূসা আলাইহিস সালাম, হয়রত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এ তিনজন শ্রেষ্ঠ নবীই তাঁর বংশজাত, তাঁর প্রজ্জলিত আলোকবর্তিকা থেকে সমগ্র দুনিয়ার সত্যের জ্যোতি বিস্তার করেছে ৷ চার হাজার বছরেরও বেশীকাল পূর্বে তিনি ইরাকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন৷ তখন সমগ্র দুনিয়ার মানুষ আল্লাহকে ভুলে বসেছিল ৷ পৃথিবীর একজন মানুষও তার প্রকৃত মালিক ও প্রভুকে জানতো না এবং তাঁর সামনে বন্দেগী ও আনুগত্যের ভাবধারায় মস্তক অবনত করতো না৷ যে জাতির মধ্যে তাঁর জন্ম হয়েছিল সে জাতির লোকেরা যদিও তদানীন্তন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা উন্নত জাতি ছিল; কিন্তু পথভ্রষ্ট হওয়ার দিক দিয়েও তারাই ছিল অগ্রনেতা ৷সৃষ্ট জীব কখনও মা&amp;#39;বুদ বা উপাস্য হতে পারে না৷ জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং শিল্প-ভাস্কর্যে চরম উন্নতি লাভ করা সত্ত্বেও এ সহজ কথাটি তারা বুঝতে পারতো না ৷ তাই তারা আকাশের তারকা এবং (মাটি বা পাথর নির্মিত) মূর্তি পূজা করতো ৷ জ্যোতিষ শাস্ত্র, ভালো-মন্দ জানার জন্য &amp;#39;ফাল&amp;#39; গ্রহণ, অজ্ঞাত কথা বলা, যাদু বিদ্যা প্রয়োগ এবং দোয়া তাবীয ও ঝাড়-ফুঁকের খুবই প্রচলন ছিল৷ বর্তমানকালের হিন্দু পন্ডিত ও ব্রাহ্মণগণের মতো তখনকার সমাজে ঠাকুর-পুরোহিতেরও একটি শ্রেনী ছিল৷ তারা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করতো, অপর লোকের পক্ষ থেকে পূজা করে দিত, বিপদে- আপদে বা আনন্দে- খুশিতে তারা বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করতো এবং অজ্ঞাত কথা বলে লোকদেরকে প্রতারিত করতো৷ সাধারণ লোকেরা এদেরকেই ভাগ্য নির্ধারক বলে মনে করতো৷ তারা এদেরই অংগুলি নির্দেশে ওঠা-বসা করতো এবং চুপচাপ থেকে নিতান্ত অন্ধের ন্যায় তাদের মনের লালসা পূর্ণ করে যেতো৷ কারণ তারা মনে করতো যে, দেবতাদের ওপরে এসব পূজারীর কর্তৃত্ব রয়েছে৷ এরা খুশি হলে আমাদের প্রতি দেবতাদের অনুগ্রহ বর্ষিত হবে৷ অন্যথায় আমরা ধ্বংস হয়ে যাব৷ এ পূজারী দলের সাথে তৎকালীন রাজা-বাদশাহদের গোপন যোগাযোগ ছিল৷ জনসাধারণকে দাসানুদাস বানিয়ে রাখার ব্যাপারে রাজা-বাদশা ও পূজারীগণ পরস্পর সাহায্য করতো ৷ একদিকে সরকার পূজারীদের পৃষ্ঠপোকতা করতো এবং অন্যদিকে পূজারীগণ জনগণের মনে এ ধারণা বদ্ধমূল করে দিত যে, রাজা-বাদশাহরাও &amp;lsquo;আল্লাহর&amp;rsquo; মধ্যে গণ্য; তারা দেশ ও প্রজাদের একচ্ছত্র মালিক, তাদের মুখের কথাই আইন এবং প্রজাদের জান-মালের ওপর তাদের যা ইচ্ছা করার অধিকার আছে৷ শুধু এতটুকুই নয়, রাজা -বাদশাহের সামনে (সিজদায় মাথা নত করা সহ) তাদের বন্দেগীর যাবতীয় অনুষ্ঠানই পালন করা হতো -যেন প্রজাদের মন-মগযের ওপর তাদের প্রভুত্বের ছাপ স্থায়ীভাবে অংকিত হয়ে যায়৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;এহেন পরিবেশের মধ্যে এবং এ জাতির কোনো এক বংশে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের জন্ম৷ আরও মজার ব্যাপার এই যে, যে বংশে তাঁর জন্ম হয়েছিল, সেই বংশটাই ছিল পেশাদার ও বংশানুক্রমিক পূজারী৷ তাঁর বাপ-দাদা ছিলেন আপন বংশের পন্ডিত-পুরোহিত ব্রাহ্মণ৷কাজেই একজন ব্রাক্ষণ সন্তানের পক্ষে যেরূপ শিক্ষা -দীক্ষা লাভ করা সম্ভব, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামও ঠিক তাই লাভ করলেন৷ সেই ধরনের কথা-বার্তা শৈশবকাল হতেই তাঁর কানে প্রবেশ করতো৷ তিনি তার ভাই -ভগ্নীদের মধ্যে পীর ও পীরজাদাদের মতো আড়ম্বর এবং বড়লোকী চাল-চলন দেখতে পেতেন৷ স্থানীয় মন্দিরের পৌরহিত্যের মহাসম্মানিত গদি তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল৷ সেই গদিতে বসলে তিনি অনায়াসেই &amp;lsquo;জাতির নেতা&amp;rsquo; হয়ে বসতে পারতেন৷ তাঁর গোটা পরিবারের জন্য চারদিকে থেকে যেসব ভেট-বেগাড় আর নযর -নিয়াজ জড়ো হতো, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জন্যও তা বর্তমান ছিল৷ দেশের লোক নিজেদের চিরকালীন অভ্যাস অনুসারে তাঁর সামনে এসে হাত জোড় করে বসার এবং ভক্তি -শ্রদ্ধা ভরে মাথানত করার জন্য প্রস্তুত ছিল৷ দেবতার সাথে সম্পর্ক পেতে অজ্ঞাত কথা বলার ভান করে তিনি সাধারণ কৃষক থেকে তদানীন্তন বাদশাহ পর্যন্ত সকলকে আজ্ঞানুবর্তী গোলাম বানিয়ে নিতে পারতেন৷ এ অন্ধকারে যেখানে সত্য জ্ঞানসম্পন্ন সত্যের অনুসারী একজন মানুষ কোথাও ছিল না সেখানে একদিকে তাঁর পক্ষে সত্যের আলো লাভ করা যেমন সম্ভবপর ছিল না তেমনি ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক উভয় দিক দিয়েই এ বিরাট স্বার্থের ওপর পদাঘাত করে নিছক সত্যের জন্য দুনিয়া জোড়া বিপদের গর্ভে ঝাপিয়ে পড়তে প্রস্তুত হওয়াও কোনো সাধারণ লোকের পক্ষে সম্ভব ছিল না৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;কিন্তু হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন না৷তাঁকে &amp;lsquo;স্বতন্ত্র মাটি&amp;rsquo; দ্বারাই সৃষ্টি করা হয়েছিল৷ জ্ঞান হওয়ার সাথে সাথেই তিনি ভাবতে শুরু করলেন চন্দ্র, সূর্য, তারকা নিতান্ত গোলামের মতই উদয়-অস্তের নিয়ম অনুসরণ করছে, মূর্তি তো মানুষের নিজের হাতে পাথর দিয়ে গড়া, দেশের বাদশাহ আমাদের ন্যায় একজন সাধারণ মানুষ, এরা রব হতে পারে কেমন করে ? যেসব জিনিস নিজের ইচ্ছায় এতটুও নড়তে পারে না, নিজের সাহায্য করার ক্ষমতাও যেসবের মধ্যে নেই, জীবন ও মৃত্যুর ওপর যাদের বিন্দুমাত্র হাত নেই, তাদের সমনে মানুষ কেন মাথা নত করবে ? মানুষ কেন তাদের দাসত্ব ও পুজা -উপাসনা করবে ? প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির জন্য তাদের গোলামীই বা কেন করবে ? আকাশ ও পৃথিবীতে যত কিছুই আমরা দেখতে পাই, যেসব জিনিস সম্পর্কে কোন না কোন ভাবে আমরা ওয়াকিফহাল, তার মধ্যে একটি জিনিসও স্বাধীন নয়, নিরপেক্ষ নয়, অক্ষয়- চিরস্থায়ীও নয়৷ এদের প্রত্যেকটিরই অবস্থা যখন এরুপ তখন এরা মানুষের &amp;#39;রব বা প্রভু&amp;#39; কিরুপে হতে পারে ?এদের কেউই যখন আমাকে সৃষ্টি করেনি, আমার জীবন-মৃত্যু ও লাভ-ক্ষতির এখতিয়ার যখন এদের কারো হাতে নেই,আমার রিযিক ও জীবিকার চাবিকাঠি যখন এদের কারো হাতে নয়, তখন এদের কাউকেও আমি &amp;lsquo;রব&amp;rsquo; বলে স্বীকার করবো কেন ? এবং তার সামনে মাথা নত করে দাসত্ব ও উপসনাই বা কেন করবো ? বস্তুত আমার &amp;lsquo;রব&amp;rsquo; কেবল তিনিই হতে পারেন যিনি সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন, সকলেই যার মুখাপেক্ষী এবং যার হাতে সকলেরই জীবন -মৃত্যু ও লাভ -ক্ষতির উৎস নিহিত রয়েছে৷ এসব কথা ভেবে হযরত ইরাহীম (আ) জাতির উপাস্য মূর্তিগুলোকে পূজা না করে বরং পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত করলেন এবং এ সিদ্ধান্তে পৌছেই তিনি উদাত্ত কন্ঠে ঘোষণা করলেনঃ &lt;br&gt;إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ &lt;br&gt;&amp;lsquo;&amp;lsquo;তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক বলে মনে কর তাদের সাথে আমরা কোন সম্পর্ক নেই৷&amp;rdquo; - সূরা আল আন&amp;#39;আমঃ ৭৮ &lt;br&gt;إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ &lt;br&gt;&amp;lsquo;&amp;lsquo;আমি সবদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বিশেষভাবে কেবল সেই মহান সত্ত্বাকেই ইবাদাত - বন্দেগীর জন্য নির্দিষ্ট করলাম যিনি সমস্ত আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল নই৷&amp;rsquo;&amp;rsquo; - সূরা আল আন&amp;#39;আমঃ ৭৯ &lt;br&gt;&lt;br&gt;এ বিপ্লবাত্মক ঘোষণার পর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ওপর বিপদ - মুসিবতের পাহাড় ভেংগে পড়লো৷ পিতা বললেন, আমি তোমাকে পরিত্যাগ করবো, বাড়ী হতে তাড়িয়ে দেব৷ সমগ্র জাতি বলে ওঠলো আমরা কেউ তোমাকে আশ্রয় দেব না৷ স্থানীয় সরকার ও তার বিরুদ্ধে লেগে গেল, বাদশাহর সামনে মামলা দায়ের করা হলো, কিন্তু হযরত ইবরাহীম আলাহীস সালাম একাকী এবং নিঃসংগ হয়েও সত্যের জন্য সকলের সামনেই মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেন৷ পিতাকে বিশেষ সম্মানের সাথে বললেন: &amp;lsquo;&amp;lsquo;আমি যে জ্ঞান লাভ করেছি৷ আপনি তা আদৌ জানেন না৷ কাজেই আমি আপনাদের কথা শুনবো না, তার পরিবর্তে আমার কথা আপনাদের সকলের শোনা উচিত৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;&lt;br&gt;জাতির লোকদের হুমকির উত্তরে নিজ হাতে সবগুলো মূর্তি ভেংগে ফেলে তিনি প্রমাণ করলেন যে, তোমরা যাদের পূজা করো, তাদের কোন ক্ষমতা নেই৷ বাদশাহর প্রকাশ্য দরবারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বললেনঃ &amp;ldquo;তুমি আমার &amp;lsquo;রব&amp;rsquo; নও, আমার &amp;lsquo;রব&amp;rsquo; তিনিই যাঁর মুষ্ঠিতে তোমার আমার সকলেরই জীবন ও মৃত্যু নিহিত রয়েছে এবং যাঁর নিয়মের কঠিন বাঁধনে চন্দ্র, সূর্য সবই বন্দী হয়ে আছে৷&amp;rdquo; রাজ দরবার থেকে শেষ পর্যন্ত ফয়সালা হলো, ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে জীবন্ত জ্বালিয়ে ভষ্ম করা হবে৷ কিন্তু ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দিল ছিল পর্বত অপেক্ষা অধিকতর শক্ত - একমাত্র আল্লাহর ওপরেই ছিল তাঁর ভরসা৷ তাই এ ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করতেও তিনি অকুন্ঠ চিত্তে প্রস্তুত হলেন৷ অতপর আল্লাহ তাআলা যখন তাঁকে কাফেরদের অগ্নিকুন্ড হতে মুক্তি দিয়েছিলেন তখন তিনি জন্মভুমি , জাতি, আত্মীয়-বান্ধব সবকিছু পরিত্যাগ করে শুধু নিজের স্ত্রী ও ভ্রাতুষ্পুত্রকে সাথে নিয়ে পথে পথে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন৷ যার জন্য ঘরে পৌরোহিত্যের গদি অপেক্ষা করছিলো, সেই গদিতে বসে যিনি গোটা জাতির পীর হয়ে যেতে পারতেন এবং সেই গদিকে যিনি বংশানুক্রমিকভাবে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে নিতে পারতেন, তিনি নিজের ও নিজের সন্তান সন্তুতির জন্য নির্বাসন, সহায়-সম্বল হীনতার নিদারুণ দুঃখ- মসিবতকেই শ্রেয় মনে করে গ্রহণ করলেন৷ কারণ দুনিয়াবাসীকে অসংখ্য &amp;lsquo;মিথ্যা রবের&amp;rsquo; দাসত্ব নিগড়ে বন্দী করে সুখের জীবন যাপন করা তিনি মাত্রই বরদাশত করতে পারলেন না৷ বরং তার পরিবর্তে তিনি একমাত্র প্রকৃত রবের দাসত্ব কবুল করে সমগ্র দুনিয়াকে সেই দিকে আহ্বান জানাতে লাগলেন এবং এ &amp;lsquo;অপরাধে&amp;rsquo; (?) তিনি কোথাও একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারলেন না৷ &lt;br&gt;জন্মভূমি থেকে বের হয়ে হযরত ইবরাহীম (আ) সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিসর এবং আরব দেশসমূহে ঘুরতে -ফিরতে লাগলেন৷ এই ভ্রমণ ব্যাপদেশ তাঁর ওপর অসংখ্য বিপদ এসেছে, ধন-সম্পদ বা টাকা-পয়সা তার সাথে কিছু ছিল না৷ বিদেশে গিয়েও তিনি রুযি-রোযগার করার জন্য একটু চিন্তা-ভাবনা করেন নি৷ রাত দিন তিনি কেবল একটি চিন্তা করতেন , দুনিয়ার মানুষকে অসংখ্য রবের গোলামীর নাগপাশ থেকে মুক্ত করে কিরূপে একমাত্র আল্লাহর বান্দায় পরিণত করা যেতে পারে৷ এ খেয়াল ও চিন্তা -ভারাক্রান্ত মানুষটিকে যখন তাঁর পিতা এবং নিজ জাতি মোটেই সহ্য করলো না, তখন তাঁকে আর কে বরদাশত করতে পারে? কোন্ দেশের লোক তাঁকে আদর -অভ্যর্থনা জানাবে? সকল স্থানে সেই একই ধরনের মন্দিরের পুরুহিত আর খোদায়ীর দাবীদার রাজা- বাদশাহরাই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল এবং সর্বত্র একই ধরনের অজ্ঞ- মূর্খ জনসাধারণ বাস করতো, যারা এ &amp;lsquo;মিথ্যা খোদাদের&amp;rsquo; গোলামীর জালে বন্দী হয়ে ছিল৷ এদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কি করে শান্তিতে দিন কাটাতে পারে, যিনি নিজের রব ছাড়া অন্য কারো গোলামী করতে প্রস্তুত ছিলেন না৷ যিনি অন্য লোকদেরও বলে বেড়াতেন যে, আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর কেউ মালিক, মনিব ও প্রভু নেই, সকলের প্রভুত্ব ও খোদায়ীর আসন চূর্ণ করে কেবলমাত্র আল্লাহর বান্দারূপে জীবনযাপন কর৷ ঠিক এ কারণেই হযরত ইবরহীম আলাইহিস সালাম কোথাও শান্তিতে বসবাস করতে পারেননি৷ বছরের পর বছর ধরে তিনি উদভ্রান্ত পথিকের ন্যায় ঘুরে বেড়িয়েছেন৷ কখনও কেনানের জনপদে, কখনও মিসরে এবং কখনও আরবের মরুভুমিতে গিয়ে পৌঁছেছেন৷ এভাবেই তাঁর গোটা যৌবনকাল অতিবাহিত হয়ে গেল, কালো চুল সাদা হয়ে গেল৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;জীবনের শেষ ভাগে নব্বই বছর পূর্ণ হতে যখন মাত্র চারটি বছর বাকী ছিল এবং সন্তান লাভের কোনো আশাই যখন ছিল না তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সন্তান দান করলেন৷ কিন্তু তখনও এ আল্লাহর বান্দা এতটুকু চিন্তিত হয়ে পাড়েননি যে, নিজের জীবনটা তো আশ্রয়হীনভাবে কেটে গেছে, এখন অন্তত ছেলে পেলেদেরকে একটু রুজী- রোযগারের যোগ্য করে তুলি৷ না, এসব চিন্তা তাঁর মনে উদয় হয়নি৷ বরং এ বৃদ্ধ পিতার মনে একটি মাত্র চিন্তাই জেগেছিল , তা এই যে, যে কর্তব্য সাধনে তিনি নিজের জীবন অতিবিহিত করেছেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেই কর্তব্য পালন করার এবং তাঁর দাওয়াত চারদিকে প্রচার করার মতো লোকের বিশেষ অভাব রয়েছে৷ ঠিক এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে সন্তান কামনা করেছিলেন এবং আল্লাহ যখন তাঁকে সন্তান দান করলেন, তখন তিনি তাকে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কাজ চালিয়ে যাবার উপযোগী করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করলেন৷ এ পূর্ণ মানুষটির জীবন একজন সত্যিকার মুসলমানের আদর্শ জীবন ছিল৷ যৌবনের সূচনাতেই - বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই যখন তিনি তাঁর রবকে চিনতে পারলেন তখন আল্লাহ তাকে বলেছিলেনঃ أَسْلِمْ - ইসলাম গ্রহণ কর - স্বেচ্ছায় আমার কাছে আত্মসমর্পণ কর, আমার দাসত্ব স্বীকার করো৷ তিনি তখন উত্তরে পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলেনঃ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ - আমি ইসলাম কবুল করলাম৷ আমি সারাজাহানের প্রভুর উদ্দেশ্যে নিজেকে উৎসর্গ করলাম, নিজেকে তার কাছে সোপর্দ করলাম৷ সমগ্র জীবন ভরে একথা ও এ ওয়াদাকে এই সাচ্চা মানুষটি সবদিক দিয়ে পূর্ণ করে দেখিয়েছেন৷ তিনি রাব্বুল আলামিনের জন্য শত শত বছরের পৈত্রিক ধর্ম এবং তার যাবতীয় আচার অনুষ্ঠান ও আকীদা - বিশ্বাস পরিত্যাগ করেছেন৷ পৌরহিত্যের গদিতে বসলে তিনি যেসব সুযোগ - সুবিধা লাভ করতে পারতেন তা সবই তিনি ছেড়ে দিয়েছেন৷ নিজের বংশ - পরিবার, নিজের জাতি ও মাতৃভূমি ত্যাগ করেছেন৷ নিজের জীবনকে উপেক্ষা করে আগুনের বুকে ঝাঁপ দিয়েছেন৷ দেশত্যাগ ও নির্বাসনের দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন, দেশের পর দেশ পরিভ্রমণ করেছেন, নিজের জীবনের এক একটি মূহুর্তকে রাব্বুল আলামীনের দাসত্ব অনুগত্যের কাজে এবং তাঁর দ্বীন ইসলামের প্রচারে কাটিয়েছেন৷ বৃদ্ধ বয়সে যখন সন্তান লাভ হলো তখন তাঁর জন্যও এ ধর্ম এবং এ কর্তব্যই নির্ধারিত করলেন৷ কিন্তু এসব কঠিন পরীক্ষার পর আর একটি শেষ ও কঠিন পরীক্ষা অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল৷ যে পরীক্ষায় উত্তির্ণ না হওয়া পর্যন্ত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সব কিছু অপেক্ষা রাব্বুল আলামীনকেই বেশী ভালবাসেন কিনা, তার ফয়সালা হতে পারতো না৷ সেই কঠিন এবং কঠোর পরীক্ষার সামনে এসে পড়লো৷ বৃদ্ধ বয়সে একেবারে নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তাঁর যে সন্তান লাভ হয়ে ছিল, সেই একমাত্র সন্তানকেও আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করতে পারেন কিনা, তারই পরীক্ষা নেয়া হলো৷ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এ পরীক্ষায়ও উত্তীর্ন হলেন এবং আল্লাহর নির্দেশ লাভ করার সাথে সাথে যখন তিনি নিজের পুত্রকে নিজের হাতে যবেহ করতে প্রস্তুত হলেন, তখন চূড়ান্তরূপে ঘোষণা করা হলো যে, এখন তুমি প্রকৃত মুসলিম হওয়ার দাবীকে সত্য বলে প্রমাণ করেছো৷ আল্লাহর কাছেও তাঁর এ কুরবানী কবুল হলো এবং তাকে বলে দেয়া হলো যে, এখন তোমাকে সারা দুনিয়ার ইমাম বা নেতা বানিয়ে দেয়া যেতে পারে - এখন তুমি সেই জন্য সম্পূর্ণরূপে যোগ্য হয়েছো৷ কুরআন শরীফের নিম্নলিখিত আয়াতে একথাই বলা হয়েছেঃ &lt;br&gt;وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ &lt;br&gt;&amp;ldquo;এবং যখন ইবরাহীমকে তার &amp;lsquo;রব&amp;rsquo; কয়েকটি ব্যাপারে পরীক্ষা করলেন এবং সে সেই পরীক্ষায় ঠিকভাবে উত্তীর্ণ হলো তখন তাকে জানিয়ে দেয়া হলো যে, আমি তোমাকে সমগ্র মানুষের ইমাম (অগ্রবর্তী নেতা) নিযুক্ত করেছি৷ তিনি বললেন, আমার বংশধরদের প্রতিও কি এ হুকুম ? আল্লাহ তায়ালা বললেনঃ যালেমদের জন্য আমার ওয়াদা প্রযোজ্য নয়৷&amp;rdquo; - সূরা আল বাকারাঃ ১২৪ &lt;br&gt;এভাবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে দুনিয়ার নেতৃত্ব দান করা হলো এবং তাঁকে ইসলামের বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের &amp;lsquo;নেতা&amp;rsquo; নিযুক্ত করা হলো৷ এখন এ আন্দোলনকে অধিকতর সম্প্রসারিত করার জন্য এবং বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণ করে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য তাঁর কয়েকজন সহকর্মী একান্ত আবশ্যক হয়ে পড়লো৷ এ ব্যাপারে তিন ব্যক্তি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের &amp;lsquo;দক্ষিণ হাত&amp;rsquo; স্বরূপ কাজ করেছেন৷ একজন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হযরত লূত আলাইহিস সালাম, দ্বিতীয় তার জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম যিনি - আল্লাহ তাঁর জীবন চান জানতে পেরে অত্যন্ত খুশী ও আগ্রহের সাথে - যবেহ হবার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন এবং তৃতীয় হচ্ছেন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;ভ্রাতুষ্পুত্রকে তিনি &amp;lsquo;সাদুম&amp;rsquo; (ট্রান্স জর্দান) এলাকায় বসালেন৷ এখানে সেকালের সর্বাপেক্ষা ইতর - লম্পট জাতি বাস করতো৷ সেখানে একদিকে সেই জাতির নৈতিকতার সংস্কার সাধন এবং সেই সাথে দূরবর্তী এলাকাসমূহেও ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোই ছিল তাঁর কাজ৷ ইরান, ইরাক এবং মিসরের ব্যবসায়ী দল এ এলাকা দিয়েই যাতায়াত করতো৷ কাজেই এখানে বসে উভয় দিকেই ইসলাম প্রচারের কাজ সুষ্ঠু রূপে সম্পন্ন করা তাঁর পক্ষে বিশেষ সুবিধাজনক হয়েছিল৷ &lt;br&gt;কনিষ্ঠ পুত্র হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামকে তিনি কেনান বা ফিলিস্তিন এলাকায় রাখলেন৷ এটা সিরিয়া ও মিসরের মধ্যবর্তী স্থান, তদুপরি এটা সমূদ্র - উপকূলবর্তী এলাকা বলে এখান থেকেই অন্যান্য দেশ পর্যন্ত ইসলামের আওয়াজ পৌঁছানো সহজ ছিল৷ এ স্থান থেকেই হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামের পুত্র হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম যার নাম ছিল ইসরাঈল এবং পৌত্র হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের মারফতে ইসলামী আন্দোলন মিসর পর্যন্ত পোঁছেছিল৷ &lt;br&gt;জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে হিজাযের মক্কা নগরীতে বসালেন এবং দীর্ঘকাল যাবত নিজেই তাঁর সাথে থেকে আরবের কোণে কোণে ইসলামের শিক্ষা বিস্তার করেছিলেন৷ তারপর এখানেই পিতা-পুত্র দু&amp;rsquo;জনে মিলে ইসলামী আন্দোলনের বিশ্ববিখ্যাত কেন্দ্র খানায়ে কা&amp;rsquo;বা প্রতিষ্ঠা করেন৷ আল্লাহ তায়ালা নিজেই এ কেন্দ্র নির্দিষ্ট করেছিলেন, নিজেই এটা গড়ে তোলার স্থান ঠিক করেছিলেন৷ খানায়ে কা&amp;rsquo;বা সাধারণ মসজিদের ন্যায় নিছক ইবাদাতের স্থান নয়, প্রথম দিন থেকেই এটা দীন ইসলামের বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের প্রচার কেন্দ্ররূপে নির্ধারিত হয়েছিল৷ এ কা&amp;rsquo;বা ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল এই যে, পৃথিবীর দূরবর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী সকল মানুষ এখানে এসে মিলিত হবে এবং সংঘবদ্ধ ভাবে এক আল্লাহর ইবাদাত করবে, আবার এখান থেকেই ইসলামের বিপ্লবী পয়গাম নিয়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে৷ বিশ্ব মুসলিমের এ সম্মেলনেরই নাম হলো &amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo;৷ এ ইবাদাত কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা কি করে হলো, কোন সব পূত ভাবধারা এবং দোআ প্রার্থনা সহকারে পিতা-পুত্র মিলে এ ইমারত তৈরী করেছিলেন আর &amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo; কিভাবে শুরু হলো তার বিস্তারিত বিবরণ কুরআন শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ &lt;br&gt;إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ - فِيهِ آَيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آَمِنًا &lt;br&gt;&amp;ldquo;মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্দিষ্ট করা হয়েছিল তা মক্কার ঘর তাতে সন্দেহ নেই৷ এটা অত্যন্ত পবিত্র, বরকতপূর্ণ এবং সারা দুনিয়ার জন্য হেদায়াতের কেন্দ্রস্থল৷ এতে আল্লাহর প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ বর্তমান রয়েছে, &amp;lsquo;মাকামে ইবরাহীম&amp;rsquo; রয়েছে এবং যে-ই এখানে প্রবেশ করবে সেই নিরাপদে থাকবে৷&amp;rdquo; - সূরা আলে ইমরানঃ ৯৬-৯৭ &lt;br&gt;أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا آَمِنًا وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ &lt;br&gt;&amp;ldquo;আমরা মানুষের জন্য কিরূপে বিপদশূন্য ও শান্তিপূর্ণ হেরেম তৈরী করেছি তা কি তারা দেখতে পায়নি? অথচ তার চারপাশে লোক লুন্ঠিত ও ছিনতাই হয়ে যেতো৷&amp;rdquo;- সূরা আল আনকাবুতঃ ৬৭ &lt;br&gt;অর্থাৎ আরবের চারদিকে যখন লুঠ -তরাজ , মার-পিট এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি অশান্তির সয়লাব বয়ে যেত তখনও এ হেরেমে সর্বদা শান্তি বিরাজ করতো৷ এমন কি দুর্ধর্ষ মরু বেদুঈন যদি এর সীমার মধ্যে তার পিতৃহন্তাকে দেখতে পেত, তবুও এর মধ্যে বসে তাকে স্পর্শমাত্র করতে সাহস পেত না৷ &lt;br&gt;وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ - وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آَمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آَمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ &lt;br&gt;&amp;ldquo;এবং স্মরণ কর, যখন আমরা এ ঘরকে লোকদের কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয় স্থল বানিয়েছিলাম এবং ইবরাহীমের ইবাদাতের স্থানকে &amp;lsquo;মুসাল্লা&amp;rsquo; (জায়নামায) বানাবার নির্দেশ দিয়েছিলাম আর তাওয়াফকারী , অবস্থানকারী এবং নামাযীদের জন্য আমার ঘরকে পাক ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম৷ পরে যখন ইবরাহীম দোয়া করলো, হে পালনকর্তা আপনি এ শহরকে শান্তিপূর্ণ জনপদে পরিণত করুন এবং এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী তাদের জন্য ফল-মূল দ্বারা জীবিকার সংস্থান করে দিন৷&amp;rdquo; - সূরা আল বাকারাঃ ১২৫-১২৬ &lt;br&gt;وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ - رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ - رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ &lt;br&gt;&amp;ldquo;এবং স্মরণ কর, ইবরাহীম ও ইসমাঈল যখন এ ঘরের ভিত্তি স্থাপনকালে দোয়া করছিলঃ পরওয়ারদিগার ! আমাদের এ চেষ্টা কুবল কর, তুমি সবকিছু জান ও শুনতে পাও৷ পরওয়ারদিগার ! তুমি আমাদের দু&amp;rsquo;জনকেই মুসলিম- অর্থাৎ তোমার অনুগত কর এবং আমাদের বংশাবলী থেকে এমন একটি জাতি তৈরী কর যারা একান্তভাবে, তোমারই অনুগত হবে৷ আমাদেরকে তোমার ইবাদাত করার পন্থা বলে দাও, আমাদের প্রতি ক্ষমার দৃষ্টি নিক্ষেপ কর, তুমি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াময়৷ পরওয়ারদিগার! তুমি সে জাতির প্রতি তাদের মধ্য থেকে এমন একজন রাসূল পাঠাও যিনি তাদেরকে তোমার বাণী পড়ে শুনাবে, তাদেরকে কিতাব ও জ্ঞানের শিক্ষা দেবে এবং তাদের চরিত্র সংশোধন করবে৷ নিশ্চয় তুমি সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন এবং বিজ্ঞ৷&amp;rdquo; - সূরা আল বাকারাঃ ১২৭-১২৯ &lt;br&gt;وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آَمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ - رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ - رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ &lt;br&gt;&amp;ldquo;এবং স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম দোয়া করেছিলঃ হে আল্লাহ ! এ শহরকে শান্তিপূর্ণ বানিয়ে দাও, আমাকে এবং আমার সন্তানকে মূর্তিপূজার শির্ক থেকে বাচাও৷ হে আল্লাহ ! এ মূর্তিগুলো অসংখ্য লোককে গোমরাহ করেছে৷ অতএব, যে আমার পন্থা অনুসরণ করবে সে আমার, আর যে আমার পন্থার বিপরীত চলবে -তখন তুমি নিশ্চয়ই বড় ক্ষমাশীল ও দয়াময়৷ পরাওয়ারদিগার ! আমি আমার বংশধরদের একটি অংশ তোমার এ মহান ঘরের নিকট, এ ধূসর মরূভূমিতে এনে পুনর্বাসিত করেছি- এ উদ্দেশ্যে যে, তারা নামাযের ব্যবস্থা কায়েম করবে৷ অতএব, হে আল্লাহ ! তুমি লোকদের মনে এতদূর উৎসাহ দাও যেন তারা এদের জীবিকার ব্যবস্থা করে৷ হয়ত এরা তোমার কৃতজ্ঞ বান্দা হবে৷&amp;rdquo;-সূরা ইবরাহীমঃ ৩৫-৩৭ &lt;br&gt;وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ - وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ - لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ &lt;br&gt;&amp;ldquo;এবং স্মরণ কর, যখন ইবরাহীমের জন্য এ ঘরের স্থান ঠিক করেছিলাম -একথা বলে যে, এখানে কোনো প্রকার শিরক করো না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী ও নামাযীদের জন্য পাক-সাফ করে রাখ৷ আর লোকদেরকে হজ্জ করার জন্য প্রকাশ্যভাবে আহবান জানাও - তারা যেন তোমার কাছে আসে, পায়ে হেঁটে আসুক কিংবা দূরবর্তী স্থান থেকে কৃশ উটের পিঠে চড়ে আসুক৷ এখানে এসে তারা যেন দেখতে পায় তাদের জন্য দ্বীন -দুনিয়ার কল্যানের কত সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর দেয়া জন্তুগুলোকে আল্লাহর নামে কুরবানী করবে, তা থেকে নিজেরাও খাবে এবং দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত লোকদেরও খেতে দেবে৷&amp;rdquo; - সূরা আল হজ্জঃ ২৬-২৮ &lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo; শুরু হওয়ার এটাই গোড়ার ইতিহাস৷ এটাকে ইসলামের পঞ্চম রোকন (স্তম্ভ) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে৷ এ থেকে জানা গেলে যে, দুনিয়ায় যে নবী বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলন পরিচালনার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন, মক্কা-ই ছিল তাঁর প্রধান কার্যালয়৷পবিত্র কা&amp;rsquo;বাই ছিল এর প্রধান কেন্দ্র - যেখানে থেকে ইসলাম দুনিয়ায় দূরবর্তী অঞ্চলে প্রচারিত হতো৷আর দুনিয়ায় যারাই এক আল্লাহর বন্দেগী করতে চাবে এবং বাস্তব কর্মজীবনে তার আনুগত্য করে চলবে, তাঁরা যে জাতি আর যে দেশেরই অধিবাসী হোক না কেন, সকলেই একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে প্রতি বছর এসে সমবেত হবে, এজন্য &amp;lsquo;হজ্জ&amp;rsquo; করার পন্থা নির্দিষ্ট করা হয়েছে৷ এ দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়া যাবে যে, চাকা যেমন নিজ অক্ষের চতুর্দিকে ঘোরে, মুসলমানদের জীবনও তেমনি আপন কেন্দ্রেরই চতুর্দিকে আবর্তিত হয়- এ গূঢ় রহস্যেরই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে হজ্জ৷ &lt;br&gt;_____________________________________&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;6&quot;&gt;&lt;b&gt;হজ্জের ইতিহাস&lt;/b&gt;&lt;/font&gt; &lt;/div&gt;কিভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে হজ্জ শুরু হয়েছিল সে কথা পূর্বের প্রবন্ধে আলোচনা করেছি৷ হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম মক্কায় ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে এখানে বসিয়ে ছিলেন, যেন তার পরে তিনি এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন, একথাও পূর্বের প্রবন্ধে বলা হয়েছে৷ হযরত ইসমাইল আলাইহীস সালামের পর তার বংশ ধরগণ কতকাল দীন ইসলামের পথে চলেছে তা আল্লাহ তাআলাই অবগত আছেন৷ কিন্তু পরবর্তী কয়েক শতাদ্বীর মধ্যেই তারা যে পূর্ববর্তী মহাপুরুষদের শিক্ষা ও প্রদর্শিত পথ ভুলে গিয়েছিল এবং অন্যান্য &amp;lsquo;জাহেল&amp;rsquo; জাতির ন্যায় সর্বপ্রকার গোমরাহী ও পাপ- প্রথার প্রচলন করেছিল, তাতে সন্দেহ নেই৷যে কা&amp;rsquo;বা ঘরকে কেন্দ্র করে এককালে এক আল্লাহর ইবাদাতের দাওয়াত ও প্রচার শুরু হয়েছিল, সেই কাবা ঘরে শত শত মূর্তি স্থাপন করা হলো৷ এমনকি, মূর্তি পূজা বন্ধ করার সাধনা ও আন্দোলনে যে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের সারাটি জীবন অতিবাহিত হয়েছিল তাদের মূর্তি নির্মাণ করেও কাবা ঘরে স্থাপন করা হয়েছিল৷ চন্দ্র, বুধ, শুক্র, শনি ইত্যাদি গ্রহ - নক্ষত্রের পুজাও করতো৷ ভুত- প্রেত, ফেরেশতা এবং মৃত পূর্বপুরুষদের &amp;lsquo;আত্মা&amp;rsquo;র পূজাও করতো৷ তাদের মূর্খতা এতদূর প্রচন্ড রূপ ধারনা করেছিল যে, ঘর থেকে বের হবার সময় নিজেদের বংশের মূর্তি না পেলে পথ চলার সময় যে কোনো রঙীন পাথর দেখতে পেতো তারা তারই পূজা শুরু করতো৷ পাথর না পেলে পানি ও মাটির সংমিশ্রণে একটি প্রতিমূর্তি বানিয়ে তার ওপর ছাগ দুগ্ধ ছিটিয়ে দিলেই তাদের মতে সেই নিস্প্রাণ পিন্ডটি খোদা হয়ে যেত এবং এরই পুজা করতো ৷ যে পৌরোহিত্য ও ঠাকুরবাদের বিরুদ্ধে তাদের &amp;lsquo;পিতা&amp;rsquo; হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সমগ্র ইরাকের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তা-ই আবার তাদের ঘরে প্রবেশ করেছিল, কা&amp;rsquo;বাকে তারা মূর্তিপূজার আড্ডাখানা বানিয়ে নিজেরাই সেখানকার পুরোহিত সেজেছিল৷ হজ্জকে তারা &amp;lsquo;তীর্থযাত্রা&amp;rsquo;র অনুরূপ বানিয়ে তাওহীদ প্রচারের কেন্দ্রস্থল কা&amp;rsquo;বা ঘর থেকে মূর্তিপূজার প্রচার শুরূ করেছিল এবং পূজারীদের সর্বপ্রকার কলা -কৌশল অবলম্বন করে আরবের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকদের কাছ থেকে &amp;lsquo;নযর- নিয়ায ও ভেট - বেগাড়&amp;rsquo; আদায় করতো এভাবে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম যে মহান কাজ শুরু করেছিলেন, তা সবই বিনষ্ট হয়ে গেল৷   &lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;এ ঘোর জাহেলী যুগে হজ্জের যে চরম দুর্গতি হয়েছিল একটি ব্যাপার থেকে তা ষ্পষ্টরূপে অনুমান করা যায়৷ মক্কায় একটি বার্ষিক মেলা বসতো, আরবের বড় বড় বংশ ও গোত্রের কবি কিংবা &amp;lsquo;কথক&amp;rsquo; নিজ নিজ গোত্রের খ্যাতি, বীরত্ব, শক্তি, সম্মান ও বদান্যতার প্রশংসায় আকাশ- বাতাস মুখরিত করে তুলতো এবং পারষ্পরিক গৌরব ও অহংকার প্রকাশের ব্যাপারে রীতিমত প্রতিযোগিতা করতো৷ এমন কি অপরের নিন্দার পর্যায়ও এসে যেত ৷ সৌজন্য ও বদান্যতার ব্যপারেও পাল্লা দেয়া হতো৷ প্রত্যেক গোত্র -প্রধান নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করার জন্য ডেগ চড়াতো এবং একে অন্যকে হেয় করার উদ্দেশ্যে উটের পর উট যবেহ করতো৷ এ অপচয় ও অপব্যয়ের মূলে তাদের একটিমাত্র লক্ষ্য ছিল ; তা এই যে, এ সময় কোনো বদান্যতা করলে মেলায় আগত লোকদের মাধ্যমে আরবের সর্বত্র তাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে এবং কোন গোত্রপতি কতটি উট যবেহ করেছিল এবং কত লোককে খাইয়েছিল ঘরে ঘরে তার চর্চা শুরু হবে ৷ এসব সম্মেলনে নাচ -গান, মদ পান, ব্যভিচার এবং সকল প্রকার নির্লজ্জ কাজ - কর্মের অনুষ্ঠান বিশেষ জাক- জমকের সাথে সম্পন্ন হতো৷ এ উৎসবের সময় এক আল্লাহর দাসত্ব করার কথা কারো মনে জাগ্রত হতো কিনা সন্দেহ৷ কা&amp;rsquo;বা ঘরের চতুর্দিকে তাওয়াফ করা হতো৷ কিন্তু তার পদ্ধতি বিকৃত হয়ে গিয়েছিল ৷ নারী - পুরুষ সকলেই উলংগ হয়ে একত্রে ঘুরতো আর বলতো আমরা আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় যাব, যেমন অবস্থায় আমাদের মা আমাদেরকে প্রসব করেছে৷ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতিষ্ঠিত মসজিদে &amp;lsquo;ইবাদাত&amp;rsquo; করা হতো একথা ঠিক; কিন্তু কিভাবে ? খুব জোরে হাততালি দেয়া হতো, বাঁশি বাজান হতো, শিংগায় ফুঁৎকার দেয়া হতো৷ আল্লাহর নামও যে সেখানে নেয়া হতো না, এমন নয়৷ কিন্তু কিরূপে ? তারা বলতো: &lt;br&gt;لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ إِلاَّ شَرِيْكاً هُوَ لَكَ تَمْلِيْكُهُ وَمَا مَلَكَ &lt;br&gt;&amp;ldquo;আমি এসেছি হে আমার আল্লাহ ! আমি এসেছি, তোমার কেউ শরীক নেই ; কিন্তু যে তোমর আপন,সে তোমার অংশীদার৷ তুমি তারও মালিক এবং তার মালিকানারও মালিক৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;&lt;br&gt;আল্লাহর নামে সেখানে কুরবানীও দেয়া হতো৷ কিন্তু তার পন্থা ছিল কত নিকৃষ্ট ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ৷ কুরবানীর রক্ত কা&amp;rsquo;বা ঘরের দেয়ালে লেপে দিত এবং এর গোশত কা&amp;rsquo;বার দুয়ারে ফেলে রাখতো৷ কারণ, তাদের ধারণা মতে আল্লাহ এসব রক্ত ও গোশত তাদের কাছ থেকে কবুল করছেন (নাউযুবিল্লাহ)৷ হযরত ইবরাহীম আলাহিস সালামের সময়ই হজ্জের চার মাসে রক্তপাত হারাম করে দেয়া হয়েছিল এবং এ সময় সকল প্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল৷ পরবর্তী - কালের লোকেরা এ নিষেধ অনেকটা মেনে চলেছে বটে ; কিন্তু যুদ্ধ করতে যখন ইচ্ছা হতো, তখন তারা এক বছরের নিষিদ্ধ মাসগুলোকে &amp;lsquo;হালাল&amp;rsquo; গণ্য করতো এবং পরের বছর তারা &amp;lsquo;কাযা&amp;rsquo; আদায় করতো৷ &lt;br&gt;এছাড়া অন্যান্য যেসব লোক নিজ ধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান ছিল তারাও নিতান্ত মূর্খতার কারণে আশ্চর্য রকমের বহু রীতিনীতির প্রচলন করেছিল৷ একদল লোক কোনো সম্বল না নিয়ে হজ্জ যাত্রা করতো এবং পথে ভিক্ষা মেগে দিন অতিবাহিত করতো৷ তাদের মতে এটা খুবই পুণ্যের কাজ ছিল৷ মুখে তারা বলতো -&amp;ldquo;আমরা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করেছি, আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করার জন্য যাচ্ছি- দুনিয়ার সম্বল নেয়ার প্রয়োজন কি ?&amp;rdquo; হজ্জে গমনকালে ব্যবসা করা কিংবা কামাই - রোযগারের জন্য শ্রম করাকে সাধারণত নাজায়েয বলেই ধারণা করা হতো৷ অনেক লোক আবার হজ্জের সময় পানাহার পর্যন্ত বন্ধ করে দিত এবং এরূপ করাকেও তারা ইবাদত বলে মনে করতো৷ কোনো কোনো লোক হজ্জে যাত্রা করলে কথাবার্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দিত৷ এর নাম ছিল &amp;lsquo;হজ্জে মুছমিত&amp;rsquo; বা &amp;lsquo;বোবা হজ্জ&amp;rsquo;৷ এভাবে আরও যে কত প্রকার ভ্রান্ত ও কুপ্রথার প্রচলন হয়েছিল তার ইয়ত্তা নেই৷ সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ লিখে সময় নষ্ট করতে চাই না৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;এরূপ ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা কম- বেশী দু&amp;rsquo; হাজার বছর পর্যন্ত ছিল৷ এ দীর্ঘ সময়ে আরব দেশে কোন নবীর আবির্ভাব হয়নি, আর কোনো নবীর প্রকৃত শিক্ষাও সেই দেশে পৌছেনি৷ অবশেষে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দোয়া পুর্ণ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসলো৷ তিনি কা&amp;rsquo; বা ঘর প্রতিষ্ঠার সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেনঃ &amp;ldquo;হে আল্লাহ !এ দেশে একজন নবী এ জাতির মধ্য থেকেই প্রেরণ কর, যে এসে তাদেরকে তোমার বাণী শুনাবে ; জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবে এবং তাদের নৈতিক চরিত্র সংশোধন করবে৷&amp;rdquo; এ দোয়া আল্লাহর কাছে মঞ্জুর হয়েছিল, তাই তাঁরই অধস্তন পুরুষে একজন কামেল ইনসান&amp;rsquo; আবির্ভুত হলেন, যাঁর পাক নাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম ইবনে আবদুল্লাহ৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যেরূপ পূজারী ও পুরোহিতের বংশে জন্মলাভ করেছিলেন, এ &amp;lsquo;কামেল ইনসান&amp;rsquo; হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও অনুরূপ এমন এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- শতাব্দীকাল ধরে যারা কা&amp;rsquo;বা ঘরের পৌরোহিত্য করে আসছিল৷ একচ্ছত্রভাবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যেরূপ আপন বংশের পৌরোহিত্যবাদের ওপর আঘাত হেনেছিলেন, শেষ নবী হযরাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ঠিক তেমনি প্রচন্ড আঘাত হেনেছিলেন নিজ বংশীয় পৌরোহিত্য ও পন্ডিতগিরির ওপর৷ শুধু তাই নয়, তাঁর আঘাতে তা একেবারে মূলোৎপাটিত হয়েছিল৷ হযরত ইবারাহীম আলাইহিস সালাম যেমন বাতিল মতবাদ ও সমগ্র মিথ্যা খোদায়ী ধ্বংস করা এবং এক আল্লাহর প্রভুত্ব কায়েম করার উদ্দেশ্যে চেষ্টা করেছিলেন, শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাই করেছিলেন৷ তিনি হযরত ইবারাহীম আলাইহিস সালামের প্রচারিত প্রকৃত ও নির্মল দ্বীন ইসলামকে পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন৷ একুশ বছরের চেষ্টায় তার এসব কাজ যখন পূর্ণতা লাভ করে তখন আল্লাহ তায়ালার হুকুমে কা&amp;rsquo;বা ঘরকেই তিনি সমগ্র দুনিয়ায় এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসীদের কেন্দ্ররূপে স্থাপনের কথা ঘোষণা করলেন এবং দুনিয়ার সকল দিক থেকেই হজ্জ করার জন্য কা&amp;rsquo;বা ঘরে এসে জমায়েত হওয়ার আহবান জানালেনঃ &lt;br&gt;وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ &lt;br&gt;&amp;ldquo;মানুষের ওপর আল্লাহর হক এই যে, এ কা&amp;rsquo;বা ঘর পর্যন্ত আসার সামর্থ যাদের আছে তারা হজ্জ করার জন্য এখানে আসবে৷ যারা কুফুরী করবে (অর্থাৎ সামর্থ থাকা সত্ত্বেও হজ্জ করতে আসবে না), তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন৷&amp;rdquo;- সূরা আলে ইমরানঃ ৯৭ &lt;br&gt;&lt;br&gt;এভাবে নব পর্যায়ে হজ্জ প্রবর্তন করার সাথে সাথে জাহেলী যুগে দু&amp;rsquo; হাজার বছর যাবত প্রচলিত যাবতীয় কুসংস্কার একেবারে বন্ধ করা হলো৷ কা&amp;rsquo;বা গৃহের মূর্তিগুলো ভেংগে ফেলা হলো৷ আল্লাহ ছাড়া মূর্তির যে পূজা সেখানে হতো তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হলো৷ মেলা এবং সকল প্রকার তামাশা ও উৎসব নিষিদ্ধ করে দেয়া হলো৷ আল্লাহর ইবাদাত করার সঠিক এবং স্বাভাবিক পদ্ধতি প্রচলন করা হলো, আল্লাহর আদেশ হলোঃ &lt;br&gt;وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِنْ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ &lt;br&gt;&amp;ldquo;(আল্লাহর স্মরণ এবং ইবাদাত করার,) যে পন্থা আল্লাহ তোমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, ঠিক তদনুযায়ী আল্লাহর স্মরণ (ও ইবাদাত) কর যদিও এর পূর্বে তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে (অর্থাৎ স্মরণ ও ইবাদাত করার সঠিক পন্থা জানতে না)&amp;rdquo; - সূরা আল বাকারাঃ ১৯৮ &lt;br&gt;সকল অন্যায় ও বাজে কর্মতৎপরতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলোঃ &lt;br&gt;فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ &lt;br&gt;&amp;ldquo;হজ্জ উপলক্ষে কোনরূপ ব্যাভিচার, অশ্লীলতা, আল্লাহদ্রোহিতা, ফাসেকী কাজ এবং ঝগড়া -বিবাদ বা যুদ্ধ - বিগ্রহ করা যাবে না৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;কাব্য আর কবিত্বের প্রতিযোগিতা, পূর্বপুরুষদের কাজ -কর্মের কথা নিয়ে গৌরব -অহংকার এবং পরের দোষ -ক্রটি প্রচার করা বা গালাগাল দেয়া বন্ধ করা হলোঃ &lt;br&gt;فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آَبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا &lt;br&gt;&amp;ldquo;হজ্জের অনুষ্ঠানগুলো যখন সম্পন্ন হয়ে যাবে তখন তোমাদের পূর্ব-পুরুষগণ যেভাবে বাপ -দাদার স্মরণ করতো ঠিক অনুরূপ কিংবা তদপেক্ষা বেশী করে তোমরা আল্লাহর স্মরণ কর৷&amp;rdquo; সূরা আল বাকারাঃ২০০ &lt;br&gt;শুধু লোকদের দেখাবার জন্য বা খ্যাতি অর্জন করার যেসব বদান্যতা ও দানশীলতার গৌরব করা হতো তা সবই বন্ধ হলো এবং তদস্থলে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আমলের পশু যবেহ করার রীতি প্রচলিত হলো৷ কারণ এর ফলে গরীব হাজীদেরও কুরবানীর গোশত খাওয়ার সুযোগ মিলত৷ &lt;br&gt;&amp;ldquo;খাও, পান কর, কিন্তু অপচয় করো না ; কারণ আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীদেরকে ভালবাসেন না৷&amp;rdquo;-সুরা আল আরাফঃ ৩১ &lt;br&gt;&amp;ldquo;খালেছ আল্লাহর উদ্দেশ্যেই এবং তারই নামে এ জন্তুগুলোকে যবেহ কর৷ যবেহ করার পর যখন প্রাণ একেবারে বের হয়ে যাবে, তখন নিজেরাও তা খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্ত প্রার্থীকেও খেতে দাও৷&amp;rdquo;- সুরা আল হাজ্জঃ ৩৬ &lt;br&gt;কুরবানীর পশুর রক্ত খানায়ে কা&amp;rsquo;বার দেয়ালে মর্দন করা এবং গোশত নিক্ষেপ করার কুপ্রথা বন্ধ হলো৷ পরিস্কার বলে দেয়া হলোঃ &lt;br&gt;&amp;ldquo;এসব পশুর রক্ত বা গোশত আল্লাহর কাছে পৌছায় না, তোমাদের তাকওয়া এবং পরহেযগারীই আল্লাহর কাছে পৌঁছতে পারে৷&amp;rdquo; সুরা আল হাজ্জঃ৩৭ &lt;br&gt;উলংগ হয়ে তাওয়াফ করা একেবারে নিষিদ্ধ হয়ে গেল এবং বলা হলোঃ &amp;ldquo;হে নবী! আপনি তাদেরকে বলে দিন যে, আল্লাহ তার বান্দাহদের জন্য যেসব সৌন্দর্যবর্ধক জিনিস (অর্থ্যাৎ পোশাক পরিচ্ছদ) মনোনীত করেছেন, তা কে হারাম করলো? &amp;rdquo;- সূরা আল আরাফঃ ৩২ &lt;br&gt;&amp;ldquo;হে নবী ! আপনি বলে দিন যে, আল্লাহ কখনও নির্লজ্জতার হুকুম দেন না৷&amp;rdquo;- সূরা আল আরাফঃ ৬৮ &lt;br&gt;&amp;ldquo;হে আদম সন্তান! সকল ইবাদাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ (পোশাক পরিধান) কর৷&amp;rdquo; সূরা আল আরাফঃ৩১ &lt;br&gt;হজ্জের নির্দিষ্ট মাসগুলোকে উল্টিয়ে দেয়া এবং নিষিদ্ধ মাসকে যুদ্ধের জন্য &amp;lsquo;হালাল&amp;rsquo; মনে করাকে বিশেষ কড়াকড়ির সাথে বন্ধ করা হলোঃ &lt;br&gt;&amp;ldquo;নাসী কুফরীকে অধিকতর বাড়িয়ে দেয় (কুফরীর সাথে স্পর্ধাকে যোগ করে)৷ কাফেরগন এভাবে আরও অধিক গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়৷ এক বছর এক মাসকে হালাল মনে করে আবার দ্বিতীয় বছর তার বদলে আর একটি মাসকে হারাম বেঁধে নেয় -যেন আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর সংখ্যা সমান থাকে৷ কিন্তু এরূপ কাজ করলে আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিসকেই হালাল করা হয়৷&amp;rdquo; সুরা আত তওবাঃ ৩৭ &lt;br&gt;সম্বল না নিয়ে হজ্জযাত্রা করা নিষিদ্ধ হলো এবং পরিস্কার বলে দেয়া হলোঃ &lt;br&gt;&amp;ldquo;হজ্জ গমনকালে সম্বল অবশ্যই নেবে৷ কারণ, (দুনিয়ার সফরের সম্বল না নেয়া আখেরাতের সম্বল নয়) আখেরাতের উত্তম সম্বল তো হচ্ছে তাকওয়া ৷&amp;rdquo; সুরা আল বাকারাঃ ১৯৭ &lt;br&gt;হজ্জের সময় ব্যবসা করা বা অন্য কোনো উপায়ে রুজি -রোযগার করা নিতান্ত অপরাধের কাজ, আর এসব না করাকেই বড় পুণ্যের কাজ মনে করা হতো৷ আল্লাহ তাআলা এ ভুল ধারণার প্রতিবাদ করে নাযিল করলেনঃ&lt;br&gt;&amp;ldquo;(হজ্জে গমনকালে) ব্যবসা করে আল্লাহর অনুগ্রহ স্বরূপ কিছু কামাই রোযগার করলে তাতে কোন অপরাধ নেই৷&amp;rdquo; -সুরা আল বাকারা ১৯৮&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;#39;বোবা&amp;rsquo; হজ্জ এবং &amp;#39;ক্ষুধার্ত -পিপাসার্ত&amp;rsquo; হজ্জ হতেও মানুষকে বিরত রাখা হলো৷ শুধু তাই নয়, এছাড়া জাহেলী যুগের আরও অসংখ্য কুসংস্কার নির্মূল করে দিয়ে তাকওয়া, আল্লাহর ভয়, পবিত্রতা এবং অনাড়ম্বরতাকে মানবতার পূর্ণাংগ আদেশ বলে ঘোষনা করা হলো, হজ্জযাত্রীদেরকে নির্দেশ দেয়া হলো যে, তারা যেন ঘর থেকে বের হবার সময় নিজেদেরকে সকল প্রকার পার্থিব সম্পর্ক থেকে মুক্ত করে নেয়, নফসের খাহেশ ও লালসা যেন ত্যাগ করে, হজ্জ গমন পথে স্ত্রী-সহবাসও যেন না করে, গালাগাল, কুৎসা রটানো, অশ্লীল উক্তি প্রভৃতি জঘন্য আচরণ থেকে যেন দূরে সরে থাকে৷ কা&amp;rsquo;বায় পৌঁছার যত পথ আছে, প্রত্যেক পথেই একটি স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে৷ সেই স্থান অতিক্রম করে কা&amp;rsquo;বার দিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে এহরাম বেঁধে গরীবানা পোশাক পরিধান করে নেবে৷ এতে আমীর গরীব সকলেই সমান হবে, পৃথক কওম, গোত্র প্রভৃতির পার্থক্য ঘুচে যাবে এবং সকলেই এক বেশে- নিতান্ত দরিদ্রের বেশে এক আল্লাহর সামনে বিনয় ও নম্রতার সাথে উপস্থিত হবে৷ এহরাম বাঁধার পর মানুষের রক্তপাত করা তো দুরের কথা, পশু শিকার করাও নিষিদ্ধ৷ মানুষের মধ্য থেকে যেন কোনো যুদ্ধ -বিগ্রহ না হয়, এজন্য এ চারটি মাসকে &amp;lsquo;হারাম&amp;rsquo; করে দেয়া হয়েছে৷ এর ফলে কা&amp;rsquo;বা গমনের সমস্ত পথ নিরাপদ হবে ; হজ্জ যাত্রীদের পথে কোনোরূপ বিপদের আশংকা থাকবে না৷ এরূপ পবিত্র ভাবধারা সহকারে তারা &amp;lsquo;হেরেম শরীফে&amp;rsquo; প্রবেশ করবে- কোনো রূপ রং- তামাশা, নাচ - গান এবং মেলা আর খেলা দেখার উদ্দেশ্যে নয়৷ এখানে প্রতি পদে পদে আল্লাহর স্মরণ - আল্লাহর নামের যিকর, নামায, ইবাদাত ও কুরবানী এবং কাবা ঘর প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ) করতে হয়৷ আর এখানে একটি মাত্র আওয়াযই মুখরিত হয়ে উঠে, &amp;lsquo;হেরেম শরীফের &amp;rsquo; প্রাচীর আর পাহাড়ের চড়াই উৎরাইয়ের প্রতিটি পথে উচ্চারিত হয়ঃ &lt;br&gt;&amp;ldquo;তোমার ডাকেই হাজির হয়েছি, হে আল্লাহ !আমি এসেছি, তোমার কোন শরীক নেই, আমি তোমারই কাছে এসেছি৷ সকল তা&amp;rsquo; রীফ প্রশংসা একমাত্র তোমারই জন্য৷ সব নেয়ামত তোমারই দান, রাজত্ব আর প্রভুত্ব সবই তোমার৷ তুমি একক- কেউ তোমার শরীক নেই৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;এরূপ পূত -পবিত্র এবং ঐকান্তিক নিষ্ঠাপূর্ণ হজ্জ সম্পর্কে বিশ্বনবী ইরশাদ করেছেনঃ &lt;br&gt;&amp;ldquo;যে ব্যক্তি খাঁটিভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করে এবং এ ব্যাপারে সকল প্রকার লালসা এবং ফাসেকী থেকে দূরে থাকে, সে সদ্যজাত শিশুর মতই (নিষ্পাপ হয়ে) ফিরে আসে৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;অতপর হজ্জের কল্যাণ ও কার্যকারিতা বর্ণনা করার পূর্বে হজ্জ কি রকমের ফরয, তা বলা আবশ্যক৷ আল্লাহ কালামে পাকে বলেনঃ &lt;br&gt;&amp;ldquo;আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছার মতো সামর্থ যার আছে, হজ্জ করা তার ওপর আল্লাহর একটি অনিবার্য নির্দিষ্ট &amp;lsquo;হক&amp;rsquo;৷ এতদসত্ত্বেও যে তা অমান্য করবে সে কাফের এবং আল্লাহ দুনিয়া জাহানের মুখাপেক্ষী নন৷&amp;rdquo;- সূরা আল ইমরানঃ ৯৭ &lt;br&gt;এ আয়াতেই হজ্জ করার সামর্থ থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করাকে পরিষ্কার কুফরী বলা হয়েছে৷ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে যা বলেছেন, তার মধ্যে দু&amp;rsquo;টি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছেঃ &lt;br&gt;مَنْ مَلَكَ زَادًا وَرَاحِلَةً تُبَلِّغُهُ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ وَلَمْ يَحُجَّ فَلَا عَلَيْهِ أَنْ يَمُوتَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا &lt;br&gt;&amp;ldquo;আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছার জন্য পথের সম্বল এবং বাহন যার আছে সে যদি হজ্জ না করে, তবে এ অবস্থায় তার মৃত্যু ইহুদী ও নাসারার মৃত্যুর সমান বিবেচিত হবে৷&amp;rdquo; [তিরমিযী] &lt;br&gt;مَنْ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ الْحَجِّ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ أَوْ سُلْطَانٌ جَائِرٌ أَوْ مَرَضٌ حَابِسٌ فَمَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا وَإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا &lt;br&gt;&amp;ldquo;যার কোনো প্রকাশ্য অসুবিধা নেই, কোন যালেম বাদশাও যার পথ রোধ করেনি এবং যাকে কোন রোগ অসমর্থ করে রাখেনি - এতদসত্ত্বেও সে যদি হজ্জ না করেই মরে যায়, তবে সে ইয়াহুদী ব খৃষ্টান হয়ে মরতে পারে৷&amp;rdquo; [দারেমী] &lt;br&gt;হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বাখ্যা করে বলেছেনঃ&lt;br&gt;&amp;ldquo;সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা হজ্জ করেনা ,তাদের ওপর জিজিয়া কর আরোপ করতে ইচছা হয়; কারণ তারা মুসলমান নয়,মুসলমান নয়৷&amp;rsquo;&amp;rsquo;&lt;br&gt;আল্লাহ তায়ালার উল্লিখিত ইরশাদ এবং রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তারঁ খলিফার এ ব্যাখ্যা দ্বারা প্রত্যেকেই বুঝতে পারেন যে, হজ্জ করা সামান্য ফরয নয়৷ তা আদায় করা না করা মুসলমানদের ইচছাধীন করে দেওয়া হয়নি৷ বস্তুত যে সব মুসলমানদের কা&amp;rsquo;বা পর্যন্ত যাওয়া আসার আর্থিক সামর্থ আছে ,শারীরিক দিক দিয়েও যারা অক্ষম নয় তাদের পক্ষে জীবনের মধ্যে একবার হজ্জ করা অবশ্য কর্তব্য ৷ তা না করে কিছুতেই মুক্তি নেই ৷ দুনিয়ার যে কোণেই বাস করুক না কেন এবং যার ওপর ছেলে-মেয়ে ও কারবার কিংবা চাকরি-বাকরির যত বড় দায়িত্বই অর্পিত হোকনা কেন, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও একজন মুসলমান যদি হজ্জকে এড়াতে চায় এবং অসংখ্য ব্যস্ততার অজুহাতে বছরের পর বছর তাকে ক্রমাগত পিছিয়ে দেয়-সময় থাকতে আদায় না করে ,তবে তার ঈমান আছে কিনা সন্দেহ ৷ আর যাদের সমগ্র জীবনও হজ্জ আদায় করার কর্তব্য পালনের কথা মনে জাগে না , দুনিয়ার দিকে দিকে, দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়- ইউরোপ-আমেরিকা যাতায়াতকালে হেজাযের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে -কা&amp;rsquo;বা ঘর যেখান থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টার পথ, তবুও হজ্জ আদায় করার খেয়ালও তাদের মনে জাগ্রত হয়না -তারা কিছুতেই মুসলমান নয়; মুসলমান বলে দাবী করার কোনোই অধিকার তাদের নেই, দাবী করলেও সেই দাবী হবে মিথ্যা৷ আর যারা তাদেরকে মুসলমান মনে করে ,তারা কুরআন শরীফের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ, জাহেল ৷এসব লোকের মনে যদি মুসলিম জাতির জন্যে দরদ থাকে তবে থাকতে পারে ; কিন্তু তার কোনোই সার্থকতা নেই ৷ কারণ তাদের হৃদয়-মনে আল্লাহর আনুগত্য ও তার বিধানের প্রতি ঈমানের কোনো অস্তিত্ব নেই, একথা স্বতঃসিদ্ধ ৷&lt;br&gt;____________________________________&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;6&quot;&gt;&lt;b&gt;হজ্জের বৈশিষ্ট্য&lt;/b&gt;&lt;/font&gt; &lt;/div&gt;কুরআন শরীফে যেখানে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে হজ্জের জন্যে সাধারণ দাওয়াত দেয়ার হুকুমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে এর প্রথম কারণ হিসেবে বলা হয়েছেঃ  &lt;br&gt;-মানুষ এসে দেখুক যে ,এ হজ্জব্রত উদযাপনে তাদের জন্যে কি কি কল্যাণ নিহিত রয়েছে অর্থাৎ হজ্জের সময় আগমন করে কা&amp;rsquo;বা শরীফে একত্রিত হয়ে তারা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করবে যে , তা তাদের জন্যে বস্তুতই কল্যাণ কর ৷ কেননা এতে যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে , তা মানুষ নিজ চোখে দেখেই অনুধাবন করতে পারে৷একটি বর্ণনা হতে জানা যায় যে হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ আলাইহি হজ্জ করার পূর্ব পর্যন্ত ঠিক বুঝতে পারেননি যে, ইসলামি ইবাদত সমুহের মধ্যে কোনটি সর্বোত্তম; কিন্তু যখনই তিনি হজ্জ করে তার অন্তর নিহিত কল্যাণ প্রত্যক্ষ করলেন, তখন স্পষ্ট কন্ঠে বলে উঠলেন, &amp;lsquo;হজ্জ-ই সর্বোত্তম ইবাদত&amp;rsquo;৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;এখানে হজ্জের বৈশিষ্ট্য ও কল্যাণকারিতা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হচেছ৷ দুনিয়ার মানুষ সাধারনত দু&amp;rsquo;প্রকারের ভ্রমণ করে থাকে৷ এক প্রকারের ভ্রমণ করা হয় রুযি-রোযগারের জন্যে আর এক প্রকারের ভ্রমণ হয় আনন্দ-র্ষ্ফুতি ও অবসর বিনোদনের উদ্দেশ্যে৷ এ উভয় প্রকারের ভ্রমনেই মানুষের নিজের স্বার্থ ও প্রবৃত্তিই তাকে ভ্রমণে বের হতে উদ্বুদ্ধ করে ৷ নিজের গরজেই ঘর-বাড়ী ত্যাগ করে , নিজের কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যেই সন্তান সন্ততি ও আত্মীয় -স্বজন হতে দূরে চলে যায় ৷ আর এ ধরনের সফরে সে টাকা- পয়সা যা কিছুই খরচ করে নিজের উদ্দেশ্য লাভের জন্যেই করে থাকে ৷ কাজেই এসব সফরে মানুষকে আসলে কিছুই কুরবানী বা আত্মত্যাগ করতে হয়নি ৷ কিন্তু হজ্জ উপলক্ষ্যে যে সফর করা হয় তা উল্লেখিত সফর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা৷ এটা নিজের কোনো গরযে কিংবা নিজের প্রবৃত্তির লালসা পূরণ করার জন্যে করা হয়না ; বস্তুত এটা করা হয় খালেছভাবে আল্লাহ তায়ালার জন্যে এবং আল্লাহর র্নিদিষ্ট উদ্দেশ্য পূর্ণ করার মানসে ৷ এজন্যেই মানুষের মনে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর প্রেম ভালোবাসা ও আল্লাহর ভয় জাগ্রত না হবে এবং আল্লাহর নির্ধারিত ফরযকে ফরয বলে মনে না করা হবে , ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ এ সফরে যাওয়ার জন্যে কিছুতেই উদ্যোগী হতে পারে না৷ কাজেই যে ব্যক্তি একটি দীর্ঘকালের জন্যে নিজের ঘর-বাড়ী, আত্বীয় -স্বজনের সাথে সর্ম্পক ত্যাগ করে এবং নিজের কারবার এর ক্ষতি, অর্থ ব্যয় ও সফরের কষ্ট স্বীকার করে হজ্জের জন্যে বের হবে ,তার এভাবে বের হওয়াই প্রমাণ করে যে তার মনে আল্লাহর ভয় ও ভালবাসা আছে ৷ আল্লাহর ফরযকে সে ফরয বলে মনে করে এবং মানসিকভাবে সে এত দূর প্রস্তুত যে , বাস্তবিকই যদি কখনো আল্লাহর পথে বের হওয়ার প্রয়োজন হয় তখন সে অনায়াসেই গৃহ ত্যাগ করতে পারবে ৷ কষ্ট স্বীকার করতে পারবে , নিজের ধন-সম্পদ এবং আরাম-আয়েশ সবকিছু আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্যে কুরবান করতে পারবে ৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;এ পবিত্র ইচছা নিয়ে যখন সে হজ্জের সফরে যাবার জন্যে তৈরী হয় তখন স্বভাব -প্রকৃতি সম্পূর্ন আলাদা ধরনের হয়ে যায় ৷ তার অন্তরে বাস্তবিকই আল্লাহর প্রেমের উদ্দিপনা স্বতঃষ্ফূর্ত হয়ে ওঠে৷ বস্তুত সে সেই দিকের জন্যে পাগল হয়ে ওঠে ,তার মনে তখন নেক ও পবিত্র ভাবধারা ছাড়া অন্য কিছুই জাগ্রত হতে পারেনা ৷ &lt;br&gt;সে পূর্বকৃত যাবতীয় গুনাহ থেকে তাওবা করে ,সকলের কাছে ভুল -ত্রুটির জন্যে মাপ চায় , পরের হক যা এ যাবত আদায় করেনি তা আদায় করে , কারণ ঋণের বোঝা নিয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হওয়া সে মোটেই পসন্দ করেনা ৷ সকল প্রকার পাপ ও অন্যায় চিন্তা থেকে তার মন পবিত্র হয়ে যায় ৷স্বভাবতই তার মনের গতি মংগলের দিকেই নিবদ্ধ হয়, সফরে বের হওয়ার পর সে যতই অগ্রসর হতে থাকে ততই তার হৃদয় -মনে পৃণ্য ও পূত ভাবধারার তরংগ খেলে ওঠে ৷ তার কোনো কাজ যেন কারো মনে কোনোরূপ আঘাত না দেয়, আর যারই যতটুকু উপকার করা যায় সেই সমস্ত চিন্তা এবং চেষ্টাই সে করতে থাকে৷ অশ্লীল ও বাজে কথা-বার্তা, নির্লজ্জতা, প্রতারণা-প্রবঞ্চনা এবং ঝগড়া-ফাসাদ ইত্যাদি কাজ থেকে তার প্রকৃতি স্বভাবতই বিরত থাকে৷ কারণ সে আল্লাহর &amp;lsquo;হারাম শরীফের&amp;rsquo; যাত্রী তাই অন্যায় কাজ করে এ পথে অগ্রসর হতে সে লজ্জিত না হয়ে পারে না ৷ তার সফরটাই যে ইবাদত, এ ইবাদতের কাজে যুলুম, আর পাপ কাজের কি অবকাশ থাকতে পারে? অতএব দেখা যাচ্ছে যে, অন্যান্য সকল প্রকার সফর থেকে এ সফর সম্পূর্ণ আলাদা৷ মানুষের মনকে এ সফর প্রতিনিয়ত পূত-পবিত্র করতে থাকে ৷ সত্য বলতে গেলে এটা একটি বিরাট সংশোধনকারী কোর্স বিশেষ, প্রত্যেক হজ্জ যাত্রী মুসলমানকেই এ অধ্যায় অতিক্রম করতে হয়৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;সফরের একটি অংশ সমাপ্ত করার পর এমন একটি স্থান সামনে আসে যেখানে পৌছে প্রত্যেক মক্কাযাত্রী মুসলমান &amp;lsquo;এহরাম&amp;rsquo; বাঁধতে বাধ্য হয় ৷ এটা না করে কেউ সামনে অগ্রসর হতে পারে না৷ এই &amp;lsquo;এহরাম&amp;rsquo; কি ? একটি সিলাই না করা লুংগী, একখানি চাদর এবং সিলাইবিহীন জুতা ছাড়া অন্য কিছুই নয়৷ এর অর্থ এই যে, এতকাল তুমি যাই থাক না কেন , কিন্তু এখন তোমাকে ফকিরের বেশেই আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে৷ কেবল বাহ্যিক ফকীরই নয়, প্রকৃতপে অন্তরেও ফকীর হতে চেষ্টা কর৷ রঙীন কিংবা জাকজমকপূর্ণ সকল পোশাক খুলে রাখ, সাদাসিধে ও দরবেশ জনোচিত পোশাক পরিধান কর৷ মোজা পরবে না, পা উন্মুক্ত রাখ, কোনো প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করবে না, চুল কেট না, সকল প্রকার অলংকার ও জাকজমক পরিহার করা৷ স্বামী -স্ত্রী সংগম হতে দূরে থাক, যৌন উত্তেজক কোন কাজ করো না, শিকার করো না৷ আর কোনো শিকারীকে শিকারের কাজে সাহায্য করো না৷ বাহ্যিক জীবনে যখন এরূপ বেশ ধারণ করবে তখন মনের ওপরও তার গভীর ছাপ মুদ্রিত হবে ভিতর হতেও তোমার মন সত্যিকারভাবে &amp;lsquo;ফকির&amp;rsquo; হবে৷ অহংকার ও গৌরব দূরীভুত হবে, গরীবানা ও শান্তি -প্রিয়তার ভাব ফুটে ওঠবে৷ পার্থিব সুখ- সম্ভোগে লিপ্ত হওয়ার ফলে তোমার আত্মা যতখানি কলংকিত হয়েছিল তা দূর হয়ে যাবে এবং আল্লাহর বন্দেগী করার পবিত্র ভাবধারা তোমরা জীবনের ভিতর ও বাইর উভয় দিককেই মহীয়ান করে তুলবে৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;lsquo;এহরাম&amp;rsquo; বাঁধার সাথে সাথে হাজীকে একটি বিশেষ দোয়া বার বার পড়তে হয়৷ প্রত্যেক নামাযের পর, পথের প্রত্যেক চড়াই- উৎরাইয়ের সময়, কাফেলার সাথে মিলিত হবার সময় এবং প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময়৷ দোআটি এইঃ &lt;br&gt;لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ &lt;br&gt;বস্তুত হযরত ইবারাহীম আলাইহিস সালাম সাড়ে চার হাজার বছর পূর্বে আল্লাহর আদেশে (হজ্জ করার জন্য) যে সার্বজনীন আহবান জানিয়েছিলেন, তার জবাবেই এ দোয়া পাঠ করার নিয়ম হয়েছে৷ পঁয়তাল্লিশ শত বছর আগে, আল্লাহর এ আহ্ববানকারী ডেকে বলেছিলেনঃ &amp;ldquo;আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহর ঘরের দিকে আস, পৃথিবীর প্রতি কোণ থেকে ছুটে আস৷ পায়ে হেটে আস, কিংবা যানবাহনে চড়ে আস৷&amp;rdquo; এর জবাব স্বরূপ আজ পর্যন্ত &amp;lsquo;হারাম শরীফের&amp;rsquo; প্রতিটি মুসাফির উচ্চৈস্বরে বলে ওঠেছেঃ &amp;ldquo;আমি এসেছি, হে আল্লাহ, আমি হাজির হয়েছি৷ কেউ তোমার শরীক নেই, আমি কেবল তোমারই আহবানক্রমে এসেছি, সব তারীফ প্রশংসা তোমারই দান, কোন কিছুতেই তোমার কেউ শরীক নেই৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;&lt;br&gt;এভাবে &amp;lsquo;লাব্বায়েকের&amp;rsquo; প্রত্যেকটি ধ্বনির মারফত হযরত ইবারাহীম আলাইহিস সালাম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের আমল থেকে প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের সাথে &amp;lsquo;হাজী&amp;rsquo;র নিবিড় সম্পর্ক স্থাপিত হয়৷ সাড়ে চার হাজার বছরের দূরত্ব মাঝখান হতে সরে গিয়ে একাকার হয়ে যায়৷ মনে হয় যেন এদিক থেকে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহর তরফ থেকে ডাকছেন, আর ওদিক থেকে প্রত্যেক হাজীই তার জবাব দিচ্ছে- জবাব দিতে দিতে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ৷ যতই সামনে অগ্রসর হয় ততই তার মনে প্রাণে উৎসাহ উদ্দীপনা এবং আধ্যাত্মিক ভাবের ঝর্ণাধারা অধিকতর বেগে প্রবাহিত হতে থাকে৷ পথের প্রত্যেক চড়াই - উৎরাইয়ের সময় তার কানে আল্লাহর আহবান ধ্বনিত হয়, আর সে তার জবাব দিতে দিতে অগ্রসর হয়৷ কাফেলার পর কাফেলা আসে, আর প্রত্যেকেই প্রেমিক পাগলের ন্যায় এই পয়গাম শুনে বলে উঠেঃ &amp;ldquo;আমি এসেছি, আমি হাজির হয়েছি৷&amp;rdquo; প্রতিটি নূতন প্রভাত তার কাছে বন্ধুর পয়গাম বহন করে আনে,আর উষার ঝলকে চোখ খোলার সাথে সাথেই আমি এসেছি,&amp;rsquo;হে আল্লাহ! আমি হাজির হয়েছি&amp;rsquo;, বলে আওয়াজ দিতে থাকে ৷ মোটকথা বারবার দেয়া এ আওয়াজ এহরামের গরীবানা পোশাক, সফরের অবস্থা এবং প্রত্যেকটি মঞ্জিলে কা&amp;rsquo;বা ঘরের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য নৈকট্যের ভাব উম্মাদনায় এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে হাজী আল্লাহর অতল স্পর্শ গভীর প্রেমে আত্মমগ্ন হয়ে যায় এবং সেই এক বন্ধুর স্মরণ ভিন্ন তার জীবনের কোথাও অন্য কিছুর অস্তিত্ব থাকে না৷ &lt;br&gt;এ অবস্থার ভিতর দিয়ে হাজী মক্কায় উপনীত হয় এবং সেখানে পৌছেই সোজা আসল লক্ষ্যস্থলের দিকে ছুটে যায়৷ বন্ধুর আস্তানাকে চুম্বন করে৷তারপর নিজের আকীদা-বিশ্বাস, ঈমান, মতবাদ, দ্বীন ও ধর্মের কেন্দ্রস্থলের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে ততবারই আস্তানাকে চুম্বন করে৷(১)প্রত্যেক বারের তাওয়াফ কা&amp;rsquo;বা ঘরের কালো পাথর চুমু দিয়ে শুরু ও শেষ করা হয়৷ এখানে থেকে বের হয়ে &amp;lsquo;সাফা&amp;rsquo; পর্বতে আরোহণ এবং এখান থেকে যখন কা&amp;rsquo;বা ঘরের দিকে তার দৃষ্টি পড়ে, তখন সে উচ্চস্বরে বলে ওঠেঃ &lt;br&gt;لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ &lt;br&gt;&amp;quot;আল্লাহ ছাড়া আর কেউ মা&amp;rsquo;বুদ নেই, আমরা অন্য কারো বন্দেগী করি না ; আমরা কেবল একনিষ্টভাবে আল্লাহরই আনুগত্য স্বীকার করি - কাফেরদের কাছে এটা যতই অসহনীয় হোক না কেন৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;অতপর &amp;lsquo;সাফা&amp;rsquo; ও মারাওয়া পাহাড়দ্বয়ের মধ্যস্থলে দৌঁড়াতে হয়৷ এর দ্বারা হাজী একথা প্রমান করে যে, সে আল্লাহর নৈকট্য এবং তার সন্তোষ হাসিল করার উদ্দেশ্যে সবসময় এমন করে দৌড়াতে প্রস্তুত থাকবে৷ এ দৌড়ের সময়ও তার মুখ থেকে উচ্চারিত হতে থাকেঃ &lt;br&gt;أَللَّهُمَّ اسْتَعْمَلْنِيْ بِسُنَّةِ نَبِيِّكَ وَتَوَفَّنِيْ عَلَى مِلَّتِهِ وَأَعِذْنِيْ مُّضِلاَّتِ الْفِتَنِ &lt;br&gt;&amp;ldquo;হে আল্লাহ ! আমাকে তোমার নবীর আদর্শ ও রীতিনীতি অনুসারে কাজ করার তাওফীক দাও৷ তোমার নবীর পথেই যেন আমার মৃত্যু হয় এবং সত্য পথভ্রষ্টকারী ফেতনা থেকে আমাকে রক্ষা কর৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;কখনো কখনো এই দোয়া পড়া হয়ঃ&lt;br&gt;&lt;br&gt;اغْفِرْ وَأَرْحَمْ وَتَجَا وَزَعَمَّا تَعْلَمُ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ &lt;br&gt;&amp;ldquo;হে রব! ক্ষমা কর, দয়া কর, আমার যেসব অপরাধ সম্পর্কে তুমি অবহিত তা মাফ করে দাও৷ তোমার শক্তি সবচেয়ে বেশী, দয়াও অতুলনীয়৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;এরপর হাজী যেন আল্লাহর সৈনিকে পরিণত হয়৷ তাই পাচঁ ছয় দিন পর্যন্ত তাকে ক্যাম্পে জীবন কাটাতে হয়৷ একদিন &amp;lsquo;মিনা&amp;rsquo;র ছাউনীতে অতিবাহিত করতে হয়, পরের দিন আরাফাতে অবস্থান করতে হয় এবং সেনাপতির &amp;lsquo;খুতবার&amp;rsquo; নির্দেশ শুনতে হয়৷ রাতে মুজাদালিফায় গিয়ে ক্যাম্প স্থাপন করতে হয়৷ দিন শেষে আবার &amp;lsquo;মিনায়&amp;rsquo; ফিরে যেতে হয় এবং এখানে পাথর টুকরা নিক্ষেপ করে &amp;lsquo;চাঁদমারী&amp;rsquo; করতে হয়৷ আবরাহা বাদশার সৈন্য- সামন্ত কা&amp;rsquo;বা ঘর ধ্বংস করার জন্য এ পর্যন্ত এসে পৌছেছিল ৷ প্রত্যেকটি পাথর নিক্ষেপ করার সাথে সাথে আল্লাহর সিপাহী বলে উঠেঃ &lt;br&gt;اَللهُ أَكْبَرْ رَغَماً لِلشَّيْطَانِ وَحِزْبِهِ &lt;br&gt;&amp;ldquo;আল্লাহ মহান৷ শয়তান ও তাঁর অনুসারীদের মুখ ধূলায় মলিন হোক৷&amp;rdquo; এবং- أَللَّهُمَّ تَصْدِيْقاً بِكِتَابِكَ وَإِِتِّبَاعاً لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ &amp;ldquo;হে আল্লাহ ! তোমার গ্রন্থের সত্যতা ঘোষণার ও তোমার নবীর আদেশ অনুসরণের তাওফীক দাও৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;পাথর টুকরা দিয়ে চাঁদমারী করার অর্থ এ কথা প্রকাশ করা যে, হে আল্লাহ ! তোমার দ্বীন ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য কিংবা তোমার আওয়াজকে স্তব্ধ করার জন্য যে -ই চেষ্টা করবে, আমি তোমার বাণীকে উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার বিরুদ্ধে এমনি করে লাড়াই করবো৷ তারপর এ স্থানেই কুরবানী করা হয়৷ এটা দ্বারা আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিসর্জন দেয়ার ইচ্ছা ও বাসনার বাস্তব এবং সক্রিয় প্রমান উপস্থিত করা হয়৷ এরপর সেখান থেকে কা&amp;rsquo;বার দিকে যাত্রা করা হয়- যেন ইসলামের মুজাহিদগন কর্তব্য সমাধা করে বিজয়ীর বেশে &amp;lsquo;হেড কোয়ার্টারের&amp;rsquo; দিকে ফিরে যাচ্ছে৷ তাওয়াফ এবং দু&amp;rsquo; রাকআত নামায পড়ার পর এহরাম খোলা হয়৷ এহরাম বাঁধার কারণে যেসব কাজ হারাম হয়েছিল এখন তা হালাল হয়ে যায়, হাজীর জীবন এখন স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে৷ এ জীবন শুরু হওয়ার পর আবার তাকে &amp;lsquo;মিনায়&amp;rsquo; গিয়ে ক্যাম্প গাড়তে হয় এবং পরের দিন পাথরের সেই তিনটি স্তম্ভের ওপর আবার কংকর দ্বারা চাঁদমারী করতে হয়৷ এটাকে ইসলামী পরিভাষায় বলা হয় &amp;lsquo;জুমরাত&amp;rsquo;৷ এটা আবরাহা বাদশার মক্কা আক্রমণকারী ফৌজের পশ্চাদপসরণ ও তাকে পরাভুত করার প্রতীক মাত্র৷ রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের বছর হজ্জের সময়ই আল্লাহর ঘর ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়ে আবরাহা এসেছিল৷ আল্লাহর তরফ থেকে আসমানী পাখী কংকর নিক্ষেপ করেই তাদেরকে নাস্তানাবুদ করে দেয়৷ তৃতীয় দিবসে পুনরায় সেই স্তম্ভগুলোর ওপর পাথর নিক্ষেপ করার পর হাজী মক্কা প্রত্যাবর্তন করে এবং সাতবার তার দ্বীনের কেন্দ্র কা&amp;rsquo;বা ঘরের তাওয়াফ করে৷ এ তাওয়াফকে বিদায়ী তাওয়াফ বলা হয়৷ এটা সম্পন্ন হলেই হজ্জের কাজ সমাপ্ত হয়৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;হজ্জের নিয়ত এবং সে জন্য প্রস্তুতি ও যোগাড় যন্ত্র থেকে শুরু করে পুনরায় নিজ বাড়িতে ফিরে আসা পর্যন্ত কমবেশী তিন মাস কাল ধরে হাজীর মন- মগযে কত বিরাট ও গভীর খোদায়ী ভাবধারা পুঞ্জীভূত হয়ে থাকে ওপরের এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে তা অনুমান করা খুবই সহজ৷ এ কাজে শুরু থেকেই সময়ের কুরবানী করতে হয়, অর্থের কুরবানী করতে হয, সুখ-শান্তি ত্যাগ করতে হয়, অসংখ্য পার্থিব সম্পর্ক - সম্বন্ধ ছিন্ন করতে হয়৷ হাজীর নিজের মনের অনেক ইচ্ছা - বাসনা স্বাদ - আস্বাদনকে উৎসর্গ করতে হয়৷ আর এ সবকিছুই তাকে করতে হয় কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য - নিজস্ব কোনো স্বার্থ তাতে স্থান পেতে পারে না৷ তারপর এ সফরে তাকওয়া-পরহেযগারীর সাথে সাথে আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর দিকে মনের ঔৎসুক্য ও আগ্রহ যত বৃদ্ধি পায়, তাও মানুষের মনের ওপর স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে, বহুদিন পর্যন্ত সেই প্রভাব স্থায়ী হয়ে থাকে৷হারাম শীরফে&amp;rsquo; কদম রেখে হাজী প্রত্যেক পদে পদে সেসব মহামানবদের অতীত কর্মধারার স্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পায়৷ যারা আল্লাহর বন্দেগী ও আনুগত্য করে এবং আল্লাহর দীন ইসলামকে কায়েম করতে গিয়ে নিজেদের যথাসর্বস্ব কুরবানী করেছেন, যারা সারা দুনিয়ার বিরুদ্ধে লাড়াই করেছেন, নানা প্রকার দুঃখ - লাঞ্জনা অকাতরে সহ্য করেছেন, নির্বাসন দন্ড ভোগ করেছেন, অসংখ্য যুলম বরদাশত করেছেন, কিন্তু আল্লাহর দীনকে কায়েম না করা পর্যন্ত তারা এতটুকু ক্লান্তিবোধ করেননি৷ যেসব &amp;lsquo;বাতিল&amp;rsquo; শক্তি মানুষকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দাসত্ব করতে বাধ্য করছিল, তাঁরা তাদের সকলেরই মস্তক চূর্ণ করে দীন ইসলামের পতাকা উন্নত করে ধরেছেন৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;এসব সুস্পষ্ট নিশানা ও বরকত মন্ডিত নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করে একজন আল্লাহ বিশ্বাসী ব্যক্তি প্রবল ইচ্ছা-বাসনা, সাহস ও আল্লাহর পথে জিহাদ করার যে প্রাণস্পর্শী শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে৷ তা অন্য কোন জিনিস থেকে গ্রহণ করতে পারে না৷ কা&amp;rsquo;বা ঘরের তাওয়াফ করায় দ্বীন ইসলামের কেন্দ্র বিন্দুর সাথে হাজীর নিবিড় সম্পর্ক স্থাপিত হয়৷ হজ্জ সম্পর্কীয় অন্যান্য কার্যাবলী দ্বারা হাজীর জীবনকে সৈনিকের ট্রেনিং দিয়ে গঠন করা হয় ৷ নামাজ, রোজা এবং যাকাতের সাথে এসবকে মিলিয়ে যাচাই করলে পরিস্কার মনে হবে যে, ইসলাম এসব কিছুর সাহায্যে কোন এক বিরাট উদ্দেশ্যে মানুষকে ট্রেনিং দান করে৷ এর জন্যই মক্কা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি হজ্জ ফরজ করা হয়েছে৷ এর উদ্দেশ্য এই যে, প্রতি বছরই অধিক থেকে অধিকতর সংখ্যক মুসলমান ইসলামের এ প্রাণ কেন্দ্রে আসবে এবং ট্রেনিং লাভ করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের দিকে ফিরে যাবে৷ &lt;br&gt;অতপর আরো একটি দিক লক্ষ্য না করলে হজ্জের কল্যাণ ও স্বার্থকতা পরিপূর্ণরূপে হৃদয়ংগম করা যাবে না৷ এক একজন মুসলমান কখনো একাকী হজ্জ করে না৷ দুনিয়ার সমগ্র মুসলমানের জন্যই হজ্জ করার একটি তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে৷ হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মুসলমান একত্রিত হয়ে একই সময়ে হজ্জ করে৷ ওপরের কথা দ্বারা আপনি শুধু এতটুকু বুঝতে পারেন যে, আলাদাভাবে একজন মুসলমান হজ্জ করলে তার ওপর তার কতখানি প্রভাব পড়া সম্ভব৷ পরবর্তী প্রবন্ধের মারফতে আপনি বিস্তারিতরূপে জানতে পারেবেন যে, দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য হজ্জের একটি সময় নির্দিষ্ট করে দিয়ে হজ্জের কল্যাণ কত লক্ষগুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে একটি কাজে দু&amp;rsquo;টি ফল নয়, কয়েক হাজার ফল লাভের সুযোগ করে দেয়া একমাত্র ইসলামেরই এক অতুলনীয় কীর্তি৷ নামায আলাদাভাবে পড়ারও ফায়দা কম নয়৷ কিন্তু তার সাথে জামায়াতে শামিল হয়ে ইমামের পিছনে নামায পড়ার শর্ত করে দিয়ে এবং জুময়া ও দু&amp;rsquo; ঈদের নামায জামায়াতের সাথে পড়ার নিয়ম করে তার ফায়দা অসংখ্য গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে৷ ব্যক্তিগতভাবে রোযা রাখায় রোযাদারদের মন ও চরিত্র গঠন কাজ কম সাধিত হতো না৷ কিন্তু সকল মুসলমানের জন্য একটি মাসকে রোযার জন্য নির্দিষ্ট করে তার ফায়দা এত পরিমান বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে, যা গুণে শেষ করা যায় না৷ এক একজন লোকের ব্যক্তিগতভাবে যাকাত আদায় করার উপকারিতাও কম নয়; কিন্তু বায়তুলমালের মারফত যাকাত দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে তার উপকারিতা এতদূর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে এর ধারণাও করা যায় না৷ কারণ ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনেই সকল মুসলমানের যাকাত &amp;lsquo;বায়তুলমালে&amp;rsquo; জমা করা হয় এবং সুসংবদ্ধভাবে প্রাপকের মধ্যে বন্টন করা হয়৷ ফলে তাতে সমাজের অভাবগ্রস্ত লোকদের অপূর্ব কল্যাণ সাধিত হয়৷ হজ্জের ব্যাপারেও তাই৷ একাকী হজ্জ করলেও হাজার হাজার মানুষের জীবনে বিরাট বিপ্লব সুচিত হতে পারে৷ কিন্তু দুনিয়ার মুসলমানকে একত্রিত হয়ে হজ্জ করার রীতি করে দিয়ে সীমাহীন কল্যাণ লাভের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে৷ &lt;br&gt;_____________________________________&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;b&gt;&lt;font size=&quot;4&quot;&gt;হজ্জের বিশ্ব সম্মেলন&lt;/font&gt;&lt;/b&gt; &lt;/div&gt;যেসব মুসলমানের ওপর হজ্জ ফরয হয় অর্থাৎ যারা কা&amp;rsquo;বা শরীফ পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারে এমন লোক দু&amp;rsquo; একজন নয়৷ প্রত্যেক এলাকায় তাদের সংখ্যা নিতান্ত কম হয় না৷ বলতে গেলে প্রত্যেক শহরে কয়েক হাজার এবং প্রত্যেক দেশে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত হয়ে থাকে৷ প্রত্যেক বছরই এদের অধিকাংশ লোকই হজ্জ করার ইচ্ছা নিয়ে ঘর থেকে বের হয়৷ দুনিয়ার যেসব জায়গায় মুসলমান বসবাস করে, তথায় হজ্জের মৌসুম নিকটবর্তী হওয়ার সাথে সাথে ইসলামী যিন্দেগীর এক নতুন চেতনা কিরূপ জেগে ওঠে, তা সত্যই লক্ষ্য করার মত৷ প্রায় রমযান থেকে শুরু করে যিলকদ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত লোক হজ্জ যাত্রায় আয়োজন করে রওয়ানা হয়৷ আর ওদিকে মহররম মাসের শেষ দিক থেকে সফর, রবিউল আউয়াল তথা রবিউস্সানী পর্যন্ত হাজীদের প্রত্যাবর্তনের ধারা চলতে থাকে৷ এ ছয় মাসকাল পর্যন্ত সকল মুসলিম লোকালয় এক প্রকার ধর্মীয় ভাবধারায় সরগরম হয়ে থাকে৷ যারা হজ্জে গমন করে আর হজ্জ করে ফিরে আসে, তারা তো ধর্মীয় ভাবধারায় নিমগ্নই হয়ে থাকে ; কিন্তু যারা হজ্জে গমন করে না, হাজীদের রওনা করাতে, এক একটি ষ্টেশন থেকে তাদের চলে যওয়া আবার ফিরে আসার সময় তাদের অভ্যর্থনা করায় এবং তাদের কাছে হজ্জের বিস্তারিত অবস্থা শুনার ব্যপারে তারাও কিছুটা হজ্জে গমনের আনন্দ লাভ করে থাকে৷   &lt;br&gt;&lt;br&gt;এক একজন হাজী যখন হজ্জে গমনের নিয়ত করে, সেই সাথে তাদের মধ্যে আল্লাহর ভয় এবং পরহেযগারী, তাওবা -ইসতেগফার এবং উন্নত ও পবিত্র চরিত্রের ভাবধারা জেগে ওঠে৷ সে তারা প্রিয় আত্মীয় ও বন্ধু বান্ধব, সহকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকল লোকের কাছে বিদায় চায়৷ নিজের সব কাজ - কারবারের চুড়ান্ত রূপ দিতে শুরু করে ৷ এতে মনে হয় যে, সে এখন আর আগের মানুষ নয়, আল্লাহর দিকে তার মনের আকর্ষন হাওয়ায় দিল পবিত্র হয়ে গেছে৷ এভাবে এক একজন হাজীর এ পরিবর্তনে তার চারপাশে লোকদের ওপর কত গভীর প্রভাব পড়ে তা অনুমান করা যায়৷ এরূপ প্রত্যেক বছরই যদি দুনিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে গড়ে এক লক্ষ লোকও এই হজ্জ সম্পন্ন করে, তবে তাদের এ গতিবিধি ও কার্যকলাপের প্রভাব আরো কয়েক লক্ষ লোকের চরিত্রের ওপর না পড়ে পারে না৷ তারপর হাজীদের কাফেলা যে স্থান অতিক্রম করে, তাদেরকে দেখে তাদের সাথে সাক্ষাত করে &amp;lsquo;লাব্বাইকা&amp;rsquo; আওয়ায শুনে সেখানকার কত মানুষের দিল অলৌকিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে৷ কত মানুষের লক্ষ্য আল্লাহর ঘরের দিকে ফিরে যায়৷ আর কত লোকের নিদ্রিত আত্মা হজ্জ করার উৎসাহে জেগে ওঠে ৷ এসব লোক যখন আবার নিজ নিজ দেশের দিকে -দুনিয়ার বিভিন্ন দিকে হজ্জের প্রাণস্পর্শী ভাবধারা বিস্তার করে প্রত্যাবর্তন করে এবং দলে দলে মানুষ তাদের সাথে সাক্ষাত করতে আসে, তাদের কাছ থেকে আল্লাহর ঘরের আলোচনা শুনে কত অসংখ্য মানুষের মনে এবং অসংখ্য পরিমন্ডলে ইসলামী ভাবধারা জেগে ওঠে৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;এ জন্যই আমি বলতে চাই যে, রযমান মাস যেরূপ বিশ্ব মুসলিমের জন্য তাকওয়া ও পরহেযগারীর মৌসুম তেমনি হজ্জের মাসও বিশ্ব ইসলামী পুনর্জাগরণের মৌসুম৷ মহান বিজ্ঞ আল্লাহ এ ব্যবস্থা এ জন্য করেছিলেন যেন বিশ্ব ইসলামী আন্দোলন শ্লথ না হয়ে যায়৷ পবিত্র কা&amp;rsquo;বাকে বিশ্বের কেন্দ্র ভুমি হিসেবে এমনভাবে স্থাপন করেছেন যেন মানব দেহের মধ্যে হৃদয়ের অবস্থান৷ দেহে যতই রোগাক্রান্ত হোক না কেন যত দিন হৃদয়ের স্পন্দন থেমে না যায় এবং সমগ্র দেহ রক্ত সঞ্চালনের পদ্ধতি বন্ধ হয়ে না যায় ততদিন যেমন মানুষের মৃত্যু হয় না সেরূপ হজ্জের এ সম্মেলন ব্যবস্থাও যতদিন থাকবে ততদিন ইসলামী আন্দোলনও চলতে থাকবে৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;একটু চোখ বন্ধ করে চিন্তা করলেই আপনাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠবে যে, পৃথিবীর দূর দূরান্তের অঞ্চল থেকে আগত অসংখ্য মানুষ যাদের আকার -আকৃতি, দৈহিক রং ও ভাষা, পোশাক -পরিচ্ছদ বিভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও যখনই কেন্দ্রের নিকটবর্তী হয় সবাই নির্দিষ্ট স্থানে এসে নিজ নিজ পোশাক -পরিচ্ছদ খুলে ফেলে এবং সকলে একই ধরনের অনাড়ম্বর &amp;lsquo;ইউনিফরম&amp;rsquo; পরিধান করে৷ এহরামের এ &amp;lsquo;ইউনিফরম&amp;rsquo; ধারণ করার পর পরিষ্কার মনে হয় যে, দুনিয়ার হাজার হাজার জাতির মধ্য থেকে এই যে লক্ষ লক্ষ ফোজ আসছে, এরা বিশ্বের বাদশাহ ও যমীন - আসমানের রাজাধিরাজ এক আল্লাহ তাআলারই ফৌজ৷ এরা দুনিয়ার হাজার হাজার জাতি ও কওম থেকে ভর্তি হয়েছে৷ এরা সকলে একই বাদশাহর ফৌজ৷ এদের সকলের ওপর একই সম্রাটের আনুগত্য ও গোলামীর চিহ্ন লেগে আছে, একই বাদশাহর আনুগত্যের সূত্রে এরা সকলেই পরস্পর বিজড়িত রয়েছে এবং একই রাজধানীর দিকে, মহাসম্রাটের সামনে উপস্থিত হবার জন্য ছুটে চলেছে৷ একই &amp;lsquo;ইউনিফরম&amp;rsquo; পরিহিত এ সিপাহী &amp;lsquo;মীকাত&amp;rsquo; অতিক্রম করে যখন সামনে অগ্রসর হয়, তখন সকলের কণ্ঠ থেকে এ একই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে আকাশ -বাতাস মুখরিত করে তোলেঃ &lt;br&gt;উচ্চারণের কন্ঠ বিভিন্ন -কিন্তু সকলের কণ্ঠে একই ধ্বনি৷ কেন্দ্র যত নিকটবর্তী হয়, ব্যবধান ততই কমে যায়৷ বিভিন্ন দেশের কাফেলা পরস্পর মিলিত হয় এবং সকলেই একত্রিত হয়ে একই পদ্ধতিতে নামায পড়ে, সকলের পোশাক এক, সকলেরই ইমাম এক, একই গতিবিধিতে ও একই ভাষায় সকলের নামায পড়া, সকলেই এক &amp;lsquo;আল্লাহু আকবার&amp;rsquo; ধ্বনির ইঙ্গিতে ওঠা-বসা করে, রুকূ-সিজদা করে, সকলে একই আরবী ভাষায় কুরআন পড়ে এবং শুনে৷ এভাবে সমবেত লক্ষ লক্ষ জনতার ভাষা, জাতি, দেশ, বংশ ও গোত্রের কৃত্রিম বৈষম্য চূর্ণ হয়ে একাকার হয়ে যায়৷ সমগ্র মানুষের সমন্বয়ে &amp;lsquo;আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী&amp;rsquo; একটি বিরাট জামায়াত রচিত হয় ৷ তার পর এ বিরাট আন্তর্জাতিক জামায়াত একই আওয়ায &amp;lsquo;লাব্বাইকা লাব্বাইকা&amp;rsquo; ধ্বনি করতে করতে চলতে থাকে৷ পথের প্রত্যেক চড়াই উৎরাইয়ে যখন এ আওয়ায উত্থিত হয়, যখন নামাযের সময়ে এবং প্রভাতে এ শব্দ অনুরণিত হয়ে ওঠে, যখন কাফেলাসমূহ পরস্পর মিলিত হবার সময় এ শব্দই ধ্বনিত হয়ে ওঠে তখন চারদিকে এক আশ্চর্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়৷ সে পরিবেশে মানুষ নিজেকে ভুলে যায়, এক অচিন্তনীয় ভাবধারায় সে মত্ত হয়ে পড়ে, &amp;lsquo;লাব্বাইকা&amp;rsquo; ধ্বনির আকর্ষণে সে এক ভাবজগতে ছুটে যায়৷ অতপর কা&amp;rsquo;বায় পৌছে দুনিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে সমাগত জনসমুদ্রের একই পোশাকে নির্দিষ্ট কেন্দ্র বিন্দুর চারদিকে প্রদক্ষিণ করা , সকলের একই সাথে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে দৌড়ানো, সকলের মিনায় উপস্থিত হয়ে তাবু জীবনযাপন করা এবং তথায় এক ইমামের কন্ঠে ভাষণ (খোতবা) শ্রবণ করা, তারপর মুযদালিফায় তাবুর নীচে রাত্রি যাপন করা, আবার মিনার দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন করা, সকলে মিলে আকাবায় পাথর দ্বারা চাঁদমারী করা, তারপর সকলের কুরবানী করা , সকলের একই কেন্দ্রে একত্রিত হয়ে নামায পড়া --- এসব কাজে যে পবিত্র পরিবেশ ও আধ্যাত্মিক মনোভাবের সৃষ্টি হয়, দুনিয়ার অন্য কোন ধর্মে বা জীবন ব্যবস্থায় তার তুলনা নেই৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;তারপর দুনিয়ার বিভিন্ন জাতির মধ্য থেকে আগত অসংখ্য মানুষের একই কেন্দ্রে সম্মিলিত হওয়া এমন নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং ঐক্যভাবের সাথে একত্রিত হওয়া এমন পবিত্র উদ্দেশ্য ও ভাবধারা এবং নির্মল কাজ-কর্ম সহকারে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা প্রকৃতপক্ষে আদম সন্তানের জন্য এটা এক বড় নিয়ামত৷ এ নিয়ামত ইসলাম ভিন্ন অন্য কোন ধর্মই দিতে পারে নি৷ দুনিয়ার বিভিন্ন জাতির পরস্পর মিলিত হওয়া কোন নুতন কথা নয় চিরকালই এরূপ হয়েছে৷ কিন্তু তাদের এ সম্মেলন হয় যুদ্ধের ময়দানে একে অপরের গলা কাটার জন্যে অথবা সন্ধি সম্মেলনে বিজিত দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেবার জন্যে কিংবা বিশ্বজাতি সম্মেলনে এক একটি জাতির বিরুদ্ধে ধোঁকা ও প্রতারণার ষড়যন্ত্র, যুলুম এবং বেঈমানীর জাল ছড়াবার জন্য; অথবা পরের ক্ষতি সাধন করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করার মতলবে৷ সমগ্র জাতির জনসাধারণের নির্মল মন, সচ্চরিত্রতা ও পবিত্র মনোভাব নিয়ে এবং প্রেম ভালোবাসা, নিষ্ঠা, মানসিক ও আধ্যাত্মিক ঐক্যভাব সহকারে একত্রিত হওয়া৷ চিন্তা, কর্ম এবং উদ্দেশ্যের পরিপূর্ণ একাগ্রতার সাথে মিলিত হওয়া--- তাও আবার একবার মিলিত হয়েই ক্ষান্ত না হওয়া বরং চিরকালের জন্য প্রত্যেক বছর একই কেন্দ্রে একত্রিত হওয়া বিশ্বমানবতার প্রতি এতবড় নিয়ামত দুনিয়ায় ইসলাম ভিন্ন অন্য কোন ধর্ম ব্যবস্থাই দিতে পেরেছে কি? বিশ্ব শান্তি স্থাপনে জাতিসমূহের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-কলহ মিটিয়ে দেয়া এবং লড়াই ঝগড়ার পরিবর্তে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা আর কেউ পেশ করতে পেরেছে কি? ইসলাম শুধু এতটুকু করেই ক্ষান্ত হয়নি ; সে আরো অনেক কল্যাণকর ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে৷ &lt;br&gt;বছরের চারটি মাস হজ্জ ও ওমরার কাজ সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে ৷ ইসলাম কা&amp;rsquo;বা যাতায়াতের এ চারটি মাস সমস্ত পথেই শান্তি অক্ষুণ রাখার নির্দেশ দিয়েছে৷ এটা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি রক্ষা করার এক স্থায়ী ব্যবস্থা৷ দুনিয়ার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ইসলামের হাতে আসলে হজ্জ ও ওমরার কারণে একটি বছরের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সময় চিরকালের জন্য যুদ্ধ এবং রক্তারক্তির হাত থেকে দুনিয়া রক্ষা পেতে পারে৷ &lt;br&gt;ইসলাম দুনিয়ার মানুষকে একটি হেরেম দান করেছে৷ এ হেরেম কিয়ামত পর্যন্ত শান্তির কেন্দ্রস্থল ৷ এখানে মানুষ মারা তো দূরের কথা, কোনো জন্তুও শিকার করা যেতে পারে না৷ এমনকি এখানকার ঘাসও কেটে ফেলার অনুমতি নেই৷ এখানকার কোনো কাঁটাও চূর্ণ করা যায় না, কারো কোন জিনিস এখানে পড়ে থাকলে তা স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ৷ ইসলাম পৃথিবীর বুকে একটি শহর প্রতিষ্ঠিত করেছে৷ এ শহরে কারো কোন হাতিয়ার নিয়ে প্রবেশ করার অনুমতি নেই৷ এখানে খাদ্যশস্য বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সঞ্চয় করে রাখা এবং তার ফলে মূল্য বৃদ্ধির কারণ সৃষ্টি করা পরিষ্কার আল্লাহদ্রোহীতা ৷ এখানে যারা অন্যের ওপর যুলুম করে তাদেরকে অল্লাহ পাক এই বলে সাবধান করে দিয়েছেনঃ &amp;quot;নুযিকহুমিন আযাবুন আলিম&amp;quot; অর্থ --&amp;ldquo;আমরা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেব৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;&lt;br&gt;ইসলাম সমগ্র পৃথিবীর একটি কেন্দ্র নির্ধারিত করেছে৷ এ কেন্দ্রের পরিচয় প্রসংগে বলা হয়েছেঃ &amp;ldquo;যারা আল্লাহর প্রভুত্ব ও বাদশাহী এবং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়াত ও নেতৃত্ব স্বীকার করে ইসলামী ভ্রাতৃসংঘে প্রবেশ করবে, ইসলামের এ কেন্দ্রে তাদের সকলেরই সমান অধিকার থাকবে৷&amp;rdquo; আমেরিকার বাসিন্দা হোক কি আফ্রিকার , চীনের বাসিন্দা হোক কি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের , সে যদি মুসলামান হয় তবেই মক্কা শরীফে তার অধিকার মক্কার আসল বাসিন্দাদের অনুরূপ হবে৷ সমগ্র হারাম শরীফের এলাকা মসজিদের ন্যায়৷ মসজিদে গিয়ে যে মুসলমান নিজের জন্য কোনো স্থান করে নেয় , সে স্থান তারই হয়ে যায়; কেউ তাকে সেই স্থান থেকে বিতাড়িত করতে পারে না, কেউ তার কাছে ভাড়া চাইতে পারে না৷ কিন্তু সে যদি সারা জীবনও সেই স্থানে বসে থাকে, তবুও সেই স্থানকে নিজের মালিকানা স্বত্ব বলে দাবী করতে এবং তা বিক্রি করতে পারে না৷ এর জন্য সে ভাড়াও চাইতে পারে না ৷ এভাবে সেই ব্যক্তি যখন সেই স্থান থেকে চলে যাবে তখন অন্য কেউ এসে এখানে আসন করে নিতে পারে , যেমন পূর্বের লোকটি পেরেছিল৷ &amp;lsquo;হারাম শারীফের&amp;rsquo; অবস্থাও ঠিক এরূপ৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ &amp;ldquo; মক্কা নগরের যে স্থানে এসে যে ব্যক্তি প্রথমে অবতরণ করবে সেই স্থান তারই হবে৷&amp;rdquo; এখানকার বাড়ী-ঘরের ভাড়া আদায় করা জায়েজ নয়৷ হযরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এখানকার লোকদের ঘরের সম্মুখস্ত প্রাঙ্গণের দুয়ার বন্ধ করতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে লোকেরা তাদের প্রাঙ্গনে এসে অবস্থান করতে পারে৷ কোন কোন ফকীহ এতদূরও বলেছেন যে, মক্কা নগরীর বাড়ীঘরের কেউ মালিক নয়, তা উত্তরাধিকার নীতি অনুসারে বন্টনও হতে পারে না৷ এসব সুযোগ-সুবিধা এবং আযাদীর মূল্যবান নিয়ামত দুনিয়ার মানুষ ইসলাম ভিন্ন অন্য কোথাও পেতে পারে কি? &lt;br&gt;এহেন হ্জ্জ সম্পর্কেই বলা হয়েছিলঃ তোমরা এটা করে দেখ এতে তোমাদের জন্য কতবড় কল্যাণ নিহিত রয়েছে৷ তার সমস্ত কল্যাণকে গুণে গুণে বলার শক্তি আমার নেই ৷ কিন্তু তবুও এই পর্যন্ত তার যে কিঞ্চিত বিবরণ ওপরে পেশ করেছি তা থেকে এ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণ লাভ করা যাবে৷ &lt;br&gt;কিন্তু এসব কথা শুনার পর আমার নিজের মনের দুঃখের কথাও খানিকটা শুনুন৷ বংশানুক্রমিক মুসলমান হীরক খনি অভ্যন্তরে ভূমিষ্ঠ শিশুর মত৷ এ শিশু যখন জন্ম মুহূর্ত থেকেই চারদিকে কেবল হীরক দেখতে পায় এবং হীরক খন্ড নিয়ে খেলা করতে থাকে, তখন তার দৃষ্টিতে হীরকের ন্যায় মহামূল্যবান সম্পদও সাধারণ পাথরের মতই মূল্যহীন হয়ে যায়৷ বংশীয় মুসলমানদের অবস্থাও ঠিক এরূপ৷ সমগ্র জগত যে নিয়ামত থেকে বঞ্চিত এবং যা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণেই তারা নানা প্রকার দুঃখ-মুসিবতে নিমজ্জিত রয়েছে, আর বিশ্ব মানব যার সন্ধান করতে ব্যাকুল রয়েছে, সেই মূল্যবান নিয়ামতসমূহ বর্তমান মুসলমানরা বিনামূল্যে লাভ করেছে, এজন্য তালাশ-অনুসন্ধান এবং খোঁজাখুজির জন্য একবিন্দু পরিশ্রমও তাদের করতে হয়নি৷ এসব ছাড়াই তারা এটা পেয়েছে শুধু এ জন্য যে, সৌভাগ্যবশত তারা মুসলিম পরিবারে জন্মলাভ করেছে৷ যে কালেমায়ে তাওহীদ মানব জীবনের সমগ্র জটিল সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে দিতে পারে শিশুকাল থেকেই তা তাদের কানে প্রবেশ করেছে, মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানাতে এবং লোকদের পরস্পরের ভাই ও দরদী বন্ধুতে পরিণত করার জন্য নামায-রোযা স্পর্শমণি অপেক্ষাও বেশী মূল্যবান৷ এরা জন্মলাভ করেই বাপ-দাদার উত্তরাধিকার হিসেবে এটা লাভ করেছে৷ যাকাত ইসলামী সমাজের এক অতুলনীয় ব্যবস্থা, এ দ্বারা শুধু মনের নাপাকীই দূর হয় না, দুনিয়ার অর্থব্যবস্থাও সুষ্ঠুতা লাভ করে---- যা থেকে বঞ্চিত হয়ে দুনিয়ার মানুষ একে অপরের বুকের রক্ত শুষে নিচ্ছে৷ এটা মুসলমানগণ প্রত্যক্ষ করছে৷ কিন্তু মুসলমানরা তা বিনা ব্যয়ে এবং বিনা শ্রমে লাভ করেছে৷ এটা ঠিক তেমনিভাবে, যেমন খবু বড় চিকিৎসকের সন্তান ঘরে বসেই বড় বড় রোগের তালিকা বিনামূল্যে লাভ করে থাকে৷ অথচ এর জন্য অন্যান্য মানুষ অত্যন্ত ব্যস্ততার সাথে সন্ধান করে বেড়ায়৷ হজ্জও একটি বিরাট ব্যবস্থা, সমগ্র দুনিয়ায় এর কোনো তুলনা নেই৷ পৃথিবীর কোণায় কোণায় ইসলামী আন্দোলনের আওয়াজ পৌঁছাবার জন্য এবং আন্দোলনকে চিরকালের তরে জীবিত রাখার জন্য এটা অপেক্ষা শক্তিশালী উপায় আর কিছুই হতে পারে না৷ বস্তুত দুনিয়ার সমগ্র মানুষকে পৃথিবীর প্রতিটি কোন থেকে এক আল্লাহর নামে টেনে এনে নির্দিষ্ট একটি কেন্দ্রে একত্রিত করে দেয়া এবং অসংখ্য বংশ গোত্র ও জাতিকে এক আল্লায় বিশ্বাসী, সদুদ্দেশ্য সম্পন্ন ও সৌহার্দপূর্ণ ভ্রাতৃসংঘে সম্মিলিত করে দেবার জন্য এটা আপেক্ষা উন্নততর কোনো পন্থা আজ পর্যন্ত আবিষ্কার করা সম্ভব হয় নি৷ যুগ-যুগান্তর থেকে জীবন্ত ও প্রচলিত এ ব্যবস্থাও মুসলমানগণ নিজেদের সম্পদ হিসেবে লাভ করেছে বিনা চেষ্টায় এবং বিনা শ্রমে৷ কিন্তু বড়ই দুঃখের কথা এই যে, মুসলমান বিনাশ্রমে প্রাপ্ত এ মূল্যবান সম্পদের কোন কদর বোঝেনি, বরং তারা এটা নিয়ে ঠিক তেমনি ভাবে খেলা করছে, যেমন হীরক খন্ড নিয়ে খেলা করে হীরক খনিতে প্রসূত শিশু সন্তান৷ আর তাকে সে মনে করে সাধারণ পাথরের ন্যায় মূল্যহীন৷ মুসলমান নিজেরদের মূর্খতা এবং অজ্ঞতার কারণে এ বিরাট মূল্যবান সম্পদ ও শক্তির উৎস নিয়ে অত্যন্ত হীনভাবে খেলা করছে৷ এর অপচয় করছে--- এটাকে নষ্ট করছে--- এসব দেখে আমার প্রাণ জ্বলে যায়৷ পাথর চূর্ণকারীর হাতে মূল্যবান হীরক খন্ড বরবাদ হতে দেখে সহ্য করা বাস্তবিকই কঠিন ব্যাপার৷ কোনো এক কবি সাত্যিই বলেছিলেনঃ&lt;br&gt;&amp;ldquo;যদিও ঈসার গাধা যায় মক্কা ভূমি&lt;br&gt;সেথাও থাকবে গাধা জেনে রাখ তুমি৷&amp;rdquo; &lt;br&gt;অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ন্যায় মহান পয়গম্বরের গাধা হলেও পবিত্র মক্কার দর্শন দ্বারা তার কোনো উপকার হতে পারে না৷ সে যদি সেখানে থেকেও যায় তথাপি সে যেমন গাধা তেমন গাধাই থেকে যাবে৷&lt;br&gt;নামায-রোযা হোক, কিংবা হজ্জ হোক, এগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের প্রশিক্ষণ৷ কিন্তু যারা এগুলোর অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝতে চায় না এর উপকার ও কল্যাণ লাভ করার কথা এতটুকুও ভাবে না; বরং যারা এ ইবাদাত সমূহের যে কোনো মাকছুদ ও উদ্দেশ্য থাকতে পারে তৎসম্পর্কেও বিন্দুমাত্র কোনো ধারণা রাখে না৷ তারা যদি পূর্ববর্তী লোকদের দেখাদেখি শুধু ওগুলোর নকলই করতে থাকে, তাহলে এটা দ্বারা সেই সুফল আশা করা যেতে পারে না৷ কিন্তু দুঃখের বিষয় সাধারণত আজকের মুসলমানগণ এভাবেই ঐ ইবাদাত গুলো করে চলেছে৷ সকল ইবাদাতের বাহ্যিকরূপ তারা ঠিকই বজায় রাখছে ; কিন্তু (লক্ষ ও উদ্দেশ্যের প্রতি দৃষ্টি না থাকার কারণে) এতে কোন প্রাণ শক্তি সৃষ্টি হচ্ছে না৷ প্রতি বছর হাজার হাজার লোক ইসলামের কেন্দ্রে গমন করে এবং হজ্জের সৌভাগ্য লাভ করে ফিরে আসে ঠিক কিন্তু হারাম শরীফের যাত্রীর স্বভাব-চরিত্রে যে পরিবর্তন কাম্য ছিল, তা যেমন দেখা যায় না তেমনি হজ্জ থেকে ফিরে আসার পরও তার মানসিক ও নৈতিক ক্ষেত্রে কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় না৷ অনুরূপভাবে যে সকল এলাকা অতিক্রম করে হজ্জে গমন করা হয়, সেখানকার মুসলমান-অমুসলমান অধিবাসীদের ওপরেও তার কোন উত্তম চরিত্রের প্রভাব পতিত হয় না৷ বরং অনেকের অসৎ স্বভাব, বদমেজাজী, অশালীন ব্যবহার ও চারিত্রিক দুর্বলতা ইসলামের সম্মানকে বিনষ্ট করে দেয়৷ বস্তুত এসব কারণেই আমাদের অনেক মুসলিম যুবকও প্রশ্ন করেন যে, &amp;lsquo;হজ্জের উপকার আমাদেরকে বুঝিয়ে দিন৷&amp;rsquo; অথচ হজ্জ তো ছিল এমন এক জিনিস যে তাকে প্রকৃতরূপে সম্পন্ন করা হলে কাফেররাও এর উপকার প্রকাশ্যে দেখে ইসলাম গ্রহণ করতো৷ যদি কোনো আন্দোলনের লক্ষ লক্ষ সদস্য প্রতি বছর বিশ্বের সকল অঞ্চল থেকে এক স্থানে সমবেত হয় এবং আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যায় বিভিন্ন দেশে ও নগর হয়ে যাওয়ার সময়ে নিজেরদের পবিত্র জীবন, পবিত্র চিন্তাধারা ও পবিত্র নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ করতে করতে অগ্রসর হয়, যেখানে যেখানে অবস্থান করে কিংবা যে যে স্থান অতিক্রম করে সেখানে নিজেদের আন্দোলনের যাবতীয় মৌলিক আলোচনা নীতির শুধু মৌখিক না করে আপন আচরণ ও কর্মতৎপরতায়ও তাকে বাস্তবায়িত করতে থাকে, আর এটা শুধু দশ-বিশ বছরেই নয় বরং বছরের পর বছর ধরে শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরেই চলতে থাকে তাহলে বলুন তো, এটা কোনো নিষ্ক্রিয় জিনিস থেকে হতে পারে কি? প্রকৃতপক্ষে হজ্জ এরূপ হলে তার উপকার সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন করার প্রয়োজনই হতো না৷ তখন অন্ধ ব্যক্তিও এর উপকার দেখতে পেত৷ বধির ব্যক্তিও এর কল্যাণ শুনতে পারতো৷ প্রতি বছরের হজ্জ কোটি কোটি মুসলমানকে নেক বান্দায় পরিণত করতো, হাজার হাজার অমুসলমানকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য করতো, লক্ষ লক্ষ অমুসলমানের অন্তরে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা বদ্ধমূল করে দিত৷ কিন্তু আফসোস! আমাদের মূর্খতার কারণে কত বড় মূল্যবান সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে৷&lt;br&gt;&lt;br&gt;হজ্জের অন্তর্নিহিত এ বিরাট সার্থকতা ও উপকারিতা পুরোপুরি লাভ করার জন্য ইসলামের কেন্দ্রস্থলে কোনো বিরাট শক্তিসম্পন্ন কর্তৃত্ব বর্তমান থাকা উচিত৷ যা এ মহান বিশ্ব শক্তিকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম৷ এখানে এমন একটি হৃৎপিন্ড (দিল) থাকা উচিত ছিল যা প্রত্যেক বছর সমগ্র বিশ্ব দেহে তাজা রক্তের দ্বারা প্রবাহিত করতে সক্ষম৷ এমন একটি মস্তিষ্ক থাকারও দরকার ছিল যা এ হাজার হাজার আল্লাহর দূতের মারফতে দুনিয়ার কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইসলামের বিপ্লবী পয়গাম পৌঁছাতে চেষ্টা করতো৷ আর কিছু না হোক, অন্তত এ কেন্দ্র ভূমিতে খালেস ইসলামী জীবন ধারার বাস্তব রূপ যদি বর্তমান থাকতো, তবুও দুনিয়ার মুসলামান প্রত্যেক বছরই সেখান থেকে খালেস ইসলামী জিন্দেগী এবং দ্বীনদারীর শিক্ষা নিয়ে নিজ নিজ ঘরে প্রত্যাবর্তন করতে পারতো৷ কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় যে, এখানে তেমন কিছুই নেই৷ দীর্ঘকাল পর্যন্ত আরব দেশে মূর্খতার অন্ধকার পুঞ্জিভূত হয়ে আছে, আব্বাসীয় যুগ থেকে শুরু করে ওসমানী যুগ পর্যন্ত সকল অক্ষম ও অনুপযুক্ত শাসক ইসলামের কেন্দ্রেস্থলের অধীবাসীগণকে উন্নতি লাভের সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে কয়েক শতাব্দীকাল ধরে তাদেরকে কেবল অধঃপতনের দিকেই ঠেলে দিয়েছে৷ ফলে আরব দেশ জ্ঞান-বিজ্ঞান, নৈতিক চরিত্র, সভ্যতা ও সংস্কৃতি ---- সকল দিক দিয়েই অধঃপতনের চরম সীমায় উপনীত হয়েছে৷ এ কারণে যে ভুখন্ড থেকে একদা ইসলামের বিশ্বপ্লাবী আলোক ধারা উৎসারিত হয়ে সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল আজ তাই ইসলামের পূর্ববর্তী জাহেলী যুগের ন্যায় অন্ধ কুপে পরিণত হয়েছে৷ এখন সেখানে ইসলামের জ্ঞান নেই, ইসলামী জীবনধারা নেই৷ মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে বুকভরা আশা ও ভক্তি নিয়ে প্রত্যেক বছর পাক &amp;lsquo;হারামে&amp;rsquo; আগমন করে ; কিন্তু এ এলাকায় পৌছে তার চারদিকে যখন কেবল মূর্খতা, মলিনতা, লোভ-লালসা , নির্লজ্জতা, আত্মপূজা, চরিত্রহীনতা, উচ্ছৃংখলতা এবং জনগণের নির্মম অধঃপতিত অবস্থা দেখতে পায়, তখন তাদের আশা-আকাঙ্খার স্বপ্ন জাল ছিন্ন হয়ে যায়৷ এখন অনেক লোক হজ্জ করে নিজের ঈমানকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে তাকে অধিকতর দুর্বলই করে আসে৷ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের পরে জাহিলিয়াতের যুগে আরব দেশে যে পৌরোহিত্যবাদ ও ঠাকুর পূজার প্রভাব বিস্তৃত হয়েছিল এবং যা শেষ নবী হযরত রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্মূল করেছিলেন, আজ তা-ই প্রবলরূপে পুনঃপ্রবর্তিত হয়েছে৷ &amp;lsquo;হারামে কা&amp;rsquo;বার&amp;rsquo; ব্যবস্থাপক পূর্বের ন্যায় আবার সেবায়েত হয়ে বসেছে৷ আল্লাহর ঘর তাদের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে৷ এ ঘরের প্রতি যারা ভক্তি রাখে তারা এদের শিকার বিশেষ ৷ বিভিন্ন দেশে বড় বড় বেতনভুক্ত এজেন্ট নিযুক্ত রয়েছে, তারা ভক্তদেরকে চারদিক থেকে টেনে টেনে নিয়ে আসে৷ কুরআনের আয়াত আর হাদীসের নির্দেশ পড়ে শুনিয়ে তাদেরেকে হজ্জ যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করে এজন্য নয় যে, আল্লাহ তাদের উপর হজ্জ ফরয করেছেন, তা স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে৷ বরং তাতে তাদের যথেষ্ট আমদানী হবে৷ এসব দেখে পরিষ্কার মনে হয় যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল এ বিরাট ব্যাবস্থা করেছেন শুধু এ পুরোহিত &amp;lsquo;পান্ডা&amp;rsquo; এবং দালালদের প্রতিপালনের জন্য৷ তারপর হজ্জ যাত্রায় বাধ্য হয়ে মানুষ যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন সফরের শুরু থেকে হজ্জ করে বাড়ী ফিরে আসা পর্যন্ত প্রত্যেক জায়গায় ধর্মীয় মজুর এবং ধর্ম ব্যবসায়ীরা জোকের ন্যায় তাদের সামনে উপস্থিত হয়৷ মুয়াল্লেম, তাওয়াফ শিক্ষাদাতা , কা&amp;rsquo;বা কুঞ্জিকা বাহক এবং স্বয়ং হেজায সরকার--- সকলেই এ ধর্ম ব্যবসায়ে সমানভাবে অংশিদার৷ হজ্জের সমস্ত অনুষ্ঠানাদিই পয়সা দিয়ে সম্পন্ন করতে হয়৷ এমন কি পবিত্র কা&amp;rsquo;বা গৃহের দরজাও পয়সা ব্যতীরেকে কোনো মুসলমানদের জন্য উম্মুক্ত হতে পারে না৷ (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) ৷ ইসলামের এ তথাকথিত খাদেমগণ এবং কেন্দ্রীয় উপাসনাগারের সেবায়েতগণও শেষ পর্যন্ত বেনারস ও হরিদ্বারের পন্ডিত পুরোহিতদের পেশা অবলম্বন করে নিয়েছে, অথচ এটাই একদা এ পুরোহিতবাদদের মূলোচ্ছেদ করেছিল ৷ যেখনে ইবদাত করানোর কাজ বিশেষ ব্যবসায় এবং ইবাদাতের স্থান উপার্জনের উপায়ে পরিণত হয়েছে, সেখানে আল্লাহর আয়াত কেবল এ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় যে, লোকে তা শুনে হজ্জ করতে বাধ্য হবে এবং এ সুযোগে তার পকেট মেরে টাকা নিয়ে যাব৷ যেখানে ইবাদতের কাজ সম্পন্ন করার জন্য মূল্য দিতে হয় এবং দ্বীনি কর্তব্য ব্যবসায়ের পন্য হয়---- এমতস্থানের ইবাদতে ইসলামের প্রাণ শক্তি কি করে বেঁচে থাকতে পারে৷ হাজীগণ যে এ ইবাদাতের প্রকৃত নৈতিক আধ্যাত্মিক উপকারিতা লাভ করতে পারবে --- সমস্ত কাজ যখন একটি কেনা-বেচার মাল হয়ে রয়েছে--- তখন এমন আশা কিছুতেই করা যায় না৷ &lt;br&gt;&lt;br&gt;এ আলোচনা দ্বারা কারো ওপর দোষারোপ করা আমার উদ্দেশ্য নয়, আমি শুধু বলতে চাই হজ্জের ন্যায় একটি বিরাট শক্তিকে কোন্ কোন্ জিনিস প্রায় নিষ্ক্রিয় ও অর্থহীন করে দিয়েছে৷ &lt;br&gt;ইসলাম এবং ইসলাম প্রবর্তিত নিয়মসমূহে কোনো ত্রুটি রয়েছে, এরূপ ধারণা কারোই মনে যেন না জাগে৷ কারণ তাতে আসলে কোনোই ত্রুটি নেই ---ত্রুটি রয়েছে তাদের মধ্যে যারা সঠিকভাবে পূর্ণ ইসলামের অনুসরণ করে চলে না৷ অতএব, এ অবস্থার জন্য দায়ী বর্তমান মুসলমানরাই৷ তাই যে ব্যবস্থা তাদেরকে মানবতার পরিপূর্ণ আদর্শে পরিচালিত করতে পারতো এবং যা অনুসরণ করে তারা নেতা হতে পারতো, তা থেকে আজ কোনো ভাল ফল লাভ করা যাচ্ছে না৷ এমনকি অবস্থা এতদূর খারাপ হয়ে গেছে যে, এ ব্যবস্থাই মানবতার পক্ষে সত্যই কল্যাণকর কিনা আজ সে সম্পর্কেও মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হতে শুরু করেছে ৷একজন সুদক্ষ চিকিৎসক যদি কয়েকটি অব্যর্থ ওষুধের তালিকা রেখে ইহলোক ত্যাগ করেন, তখন তার অকর্মণ্য ও নির্বোধ উত্তরাধিকারীগণের হাতে তা একেবারেই &amp;lsquo;অকেজো&amp;rsquo; হয়ে যায়৷ ফলে সেই তালিকারও যেমন কোনো মূল্য হয় না, অনুরূপভাবে স্বয়ং চিকিৎসকের দুর্নাম হয় --- আসল তালিকা যতই ভাল , সঠিক এবং অব্যর্থ হোক না কেন৷ এতএব এ নির্ভূল তালিকাকে কার্যকর করে তুলতে হলে চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শিতা অপরিহার্য৷ অপটু ও অজ্ঞ লোকরা সেই তালিকা অনুযায়ী ওষুধ তৈরী করলে তা দ্বারা যেমন কোনো উপকার পাওয়া যাবে না শুধু তাই নয়, বরং তাতে ক্ষতি হওয়ার যথেষ্ট আশংকা রয়েছে৷ ফলে জাহেল লোকেরা যারা তালিকার যথার্থতা যাচাই করতে নিজেরা অক্ষম--- তারাই শেষ পর্যন্ত মনে করতে শুরু করবে যে, মূলত তালিকাটাই ভুল৷ বর্তমান মুসলমানদের সর্বাত্মক অধঃপতনের ব্যাপারে ইসলামেরও ঠিক এ অবস্থা হয়েছে৷&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;b&gt;---সমাপ্ত----&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>মদীনার পথে পথে ১</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87+%E0%A7%A7</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87+%E0%A7%A7</guid><pubDate>Fri, 10 Aug 2007 23:42:33 CDT</pubDate><description>&lt;table align=&quot;bottom&quot; cellpadding=&quot;3&quot; class=&quot;wp-border-all&quot; width=&quot;400&quot;&gt;  &lt;tbody&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;h3&gt;   &lt;/h3&gt;মসজিদুন্ নববী, দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে, জুম&amp;#39;আর সালাতের পর। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;h3&gt;   &lt;/h3&gt;ভোরের স্নিগ্ধতায় মসজিদুন্ নববী। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;h3&gt;   &lt;/h3&gt;রাতের পেলবতা আর আলোর ঔজ্জ্বল্যতায়। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;h3&gt;   &lt;/h3&gt;দুপুরের রৌদ্র কিরণে সারি সারি মিনার আর গম্বুজ। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;   &lt;br&gt;ভোরীয় মিঠেল আলোয় মসজিদুন্ নববী। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;   &lt;br&gt;জুম&amp;#39;আর দিনে আল্লাহর বান্দারা ছুটে যাচ্ছে মসজিদুন্ নববীর পানে। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;   &lt;br&gt;জুম&amp;#39;আর পর উষ্ণ দুপুরের খাঁ-ময়তায় দক্ষিণ হতে। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/td&gt;  &lt;td align=&quot;middle&quot; class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;   &lt;br&gt;সংস্কার কাজ চলছে পুরো দমে, এখন পূর্বদিকটাকেও বাড়ানোর প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে। ছবি: ফএমু&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;   &lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  সকালের আধো আধো আলোয় মসজিদুন্ নববী। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;   &lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ভোরের সূর্যটা বড্ড লাজুক যেন আলোর এ শহরে আজ। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;  &lt;tr&gt;  &lt;td class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;   &lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  পুব আকাশে তখনো রবির কিরণ হেসে উঠেনি। ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/td&gt;  &lt;td class=&quot;&quot; width=&quot;50%&quot;&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;   &lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  কি অপূর্ব সৃষ্টি আল্লাহর! কত রঙ এ আলোয় লুকানো! ছবি: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/td&gt;&lt;/tr&gt;&lt;/tbody&gt;&lt;/table&gt;&lt;b&gt;  &lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;Home&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;ছবি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>সচিত্র পরিচিতি ও পথনির্দেশ</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</guid><pubDate>Fri, 10 Aug 2007 23:40:46 CDT</pubDate><description>&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;Home&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;ছবি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>হারামাইনের খোৎবা</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE</guid><pubDate>Fri, 10 Aug 2007 23:40:10 CDT</pubDate><description>&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;Home&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/font&gt;&lt;/a&gt; . &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;ছবি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>আল-হাদীস</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8</guid><pubDate>Fri, 10 Aug 2007 23:37:06 CDT</pubDate><description>&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  ___________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;Home&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  .  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  .  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  .  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  .  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  .  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  .  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;ছবি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>আল-কুরআন</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8</guid><pubDate>Fri, 10 Aug 2007 23:35:29 CDT</pubDate><description>&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  _________________________________________________________&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/Home&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;Home&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-কুরআন&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;   &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;আল-হাদীস&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;বই-পুস্তক&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;  &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;প্রবন্ধ-নিবন্ধ-লিফলেট&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;   &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A7%8E%E0%A6%AC%E0%A6%BE&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;হারামাইনের খোৎবা&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;   &lt;a href=&quot;http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%B8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&quot; target=&quot;_top&quot;&gt;&lt;font color=&quot;#d3501a&quot;&gt;ছবি&lt;/font&gt;&lt;/a&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;  &lt;font size=&quot;2&quot;&gt;&amp;copy; মূল লেখক ও স্বত্বাধিকারীর।&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item><item><title>খোলা চিঠি</title><link>http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF</link><author>hajjbd</author><guid isPermaLink="false">http://hajjbd.wetpaint.com/page/%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF</guid><pubDate>Wed, 23 May 2007 22:58:50 CDT</pubDate><description>  &lt;div align=&quot;center&quot;&gt;&lt;font face=&quot;Garamond&quot; size=&quot;5&quot;&gt;&lt;b&gt;হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি&lt;/b&gt;&lt;/font&gt;&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;div align=&quot;center&quot;&gt;&lt;b&gt;লেখক:&lt;/b&gt;&lt;br&gt; শাইখ ড. ইয়াহ্ইয়া ইবন ইব্রাহীম আল-ইয়াহ্ইয়া&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt; অনুবাদ ও সম্পাদনা :&lt;br&gt; &lt;br&gt; সাইফুল্লাহ বিন আহমাদ কারীম, &lt;br&gt; নূরুল্লাহ তারীফ, মাসউদুর রহমান নূর &lt;br&gt; ও ওহীদুজ্জামান মাসুদ &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt; বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম &lt;/div&gt;&lt;br&gt; সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলার জন্য, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা ছাড়া প্রকৃত কোন মা&amp;#39;বুদ নেই, তিনি সৎকর্মশীলদের অভিভাবক। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল, তিনি মুখোজ্জল সৎকর্মশীলদের নেতা। তিনি যথাযথভাবে আমাদের কাছে রেসালাত পৌঁছিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতের কল্যাণ কামনা করেছেন এবং আমাদেরকে শুভ্র উজ্জ্বল-স্পষ্ট দ্বীনের উপর রেখে গেছেন, যার সকল বিষয় দিবালোকের মত সুস্পষ্ট, একমাত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই এতে বক্রতার পথ অবলম্বন করে থাকে। আল্লাহর অপার করুণা ও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর এবং যারা কেয়ামত পর্যন্ত তার এ দাওয়াতে অংশগ্রহণ করে তার সুন্নাতের অনুসরণ করেছেন, তার পদাংক অনুবর্তন করে তার প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয়েছেন; তাদের সকলের উপর। &lt;br&gt; &lt;br&gt; সুপ্রিয় হাজী ভাই, &lt;br&gt; আপনাকে মহান আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলমানদের মধ্য থেকে তাঁর পবিত্র ঘর যিয়ারতের জন্য মনোনীত করেছেন। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলার কাছে আবেদন করি তিনি যেন দুনিয়া ও আখেরাতে আপনাকে অভিভাবকত্ব দান করেন এবং যেখানেই থাকুন না কেন সেখানেই আপনাকে বরকতময় করেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; সম্মানিত ভাই, &lt;br&gt; আপনি অনেক কষ্ট বরদাশ্ত করেছেন। অনেক কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করেছেন। অনেক সম্পদ-অর্থ-কড়ি ব্যয় করেছেন। নিজ দেশ, আপন-জন, পরিবার পরিজন,সন্তান-সন্ততি ছেড়ে এসেছেন। এসব কেবলমাত্র এ জন্য যে আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা আপনার উপর তাঁর পবিত্র ঘরের হজ্জ পালন করা ফরজ করেছেন, তা সম্পন্ন করার জন্যই আপনার এ আগমন। আল্লাহ্ আপনার হজ্জকে কবুল ও কলুষমুক্ত করুন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; সম্মানিত হাজী ভাই, &lt;br&gt; আপনার আগমনে আমার ভালবাসা ও অনুরাগ আপনার প্রতি। আপনার সন্তুষ্টি ও আনন্দ, আপনার নিরাপত্তা ও শান্তিতে আমার মানসিক আনন্দ, আর এটাই আমাকে আপনার প্রতি আমার কিছু করণীয় আদায়ের লক্ষ্যে কয়েকটি উন্মুক্ত চিঠি প্রেরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে আমি আমার প্রতি আমার মহিয়ান গরিয়ান প্রতিপালকের সে নির্দেশের বাস্তবায়ন করতে চাই। যাতে তিনি বলেনঃ&lt;br&gt;إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْ&lt;br&gt;العصر: 3 &lt;br&gt; &lt;br&gt; ((কিন্তু উহারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্য্যের উপদেশ দাও।)) [সূরা আল-আসরঃ ৩] &lt;br&gt; &lt;br&gt; আর আমাদের নবী, হাবীব, ইমাম ও আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে নির্দেশের অনুসরণ করনার্থে, যাতে তিনি এরশাদ করেছেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; مَثَلُ الْْمؤمنينِ فِيْ تَوَادِّهِمْ وَ تَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمََُثَلِ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عَُْضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِر الجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْْحُمّى.&lt;br&gt; &lt;br&gt; ((পরস্পরের প্রতি ভালবাসা, দয়া, করুণা ও অনুকম্পার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ হচ্ছে এক দেহের মত, যখন দেহের কোন একটি অংশ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন গোটা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়ে।))&lt;br&gt; &lt;br&gt; রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো এরশাদ করেছেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; المُؤمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضا.&lt;br&gt; &lt;br&gt; ((একজন মুমিন ব্যক্তি অপর মুমিন ব্যক্তির জন্য একটি প্রাচীরের মত, যার কিছু অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে।))&lt;br&gt; &lt;br&gt; সুপ্রিয় হাজীভাই! &lt;br&gt; সুতরাং আপনার কাছে আমার অনুরোধ ও আশা- আপনি আপনার প্রতি আন্তরিক এ ভাইয়ের চিঠিগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করবেন, সম্ভবত আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা এর মাধ্যমে আপনাকে উপকৃত করবেন। &lt;br&gt;লেখক &lt;br&gt;-ইয়াহ্ইয়া ইবনে ইব্রাহীম আল-ইয়াহ্ইয়া&lt;br&gt;. . . . . . .&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;b&gt;প্রথম চিঠি&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt; সুপ্রিয় হাজীভাই, &lt;br&gt; পনার প্রথম উদ্দেশ্যে, একমাত্র উদ্দেশ্য, যার জন্য আপনি এ পবিত্র নগরীতে আগমন করেছেন তা ভুলে গেলে চলবে না, আর তা হচ্ছে হজ্জ পালন করা। তাই জেনে নিন -আল্লাহ্ আপনাকে হেফাযত ও তত্ত্বাবধায়ন করুন- হজ্জ সহ সকল নেকআমল আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলার কাছে কবুল ও প্রতিদান যোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে- &lt;br&gt; &lt;br&gt; প্রথমত: নিরঙ্কুশভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সকল নেকআমল হতে হবে। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ&lt;br&gt; البينة:5&lt;br&gt; &lt;br&gt; ((আর তাদেরকে কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য দ্বীনকে নিরঙ্কুশ করে ইবাদাত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।)) [সূরা আল-বাইয়্যেনাহঃ ৫]&lt;br&gt; &lt;br&gt; দ্বিতীয়ত: সমস্ত নেকআমল রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত বা তরিকা অনুযায়ী সঠিকভাবে হতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লামেরশাদ করেছেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد.&lt;br&gt; &lt;br&gt; ((যে এমন কাজ করল যাতে আমাদের অনুমোদন নেই তা প্রত্যাখ্যাত।)) অর্থাৎ, তার সে আমল তার প্রতি প্রত্যাখ্যাত এবং তার কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য। &lt;br&gt; &lt;br&gt; সুতরাং আপনার সম্পূর্ণ গুরুত্ব ও প্রচেষ্টা হওয়া দরকার আপনার আমল গ্রহণযোগ্য হল কি হল না সে ক্ষেত্রে। নবী সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের ক্ষেত্রে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্যে এভাবে বলেছেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; خذوا عني مناسككم.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তোমরা আমার কাছ থেকে হজ্জের বিধান গ্রহণ করো।&amp;quot; অর্থাৎ, তোমরা জান এবং সে অনুযায়ী আমল কর যা আমি হজ্জে সম্পাদন করেছি, নিজেদের পক্ষ থেকে কোন বেদআত করো না। সুতরাং একজন মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম হচ্ছে সেভাবে হজ্জ ও উমরার বিধানসমূহ আদায় করা যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এ বিধানগুলো বর্ণিত ও অনুসৃত হয়েছে। যাতে করে এর মাধ্যমে আল্লাহর ভালবাসা ও ক্ষমা লাভ করা যায়। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; )قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ) (آل عمران:31) &lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালবেসে থাক তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ্ সমূহ ক্ষমা করবেন।&amp;quot; [সূরা আলে-ইমরানঃ ৩১] &lt;br&gt; &lt;br&gt; সুপ্রিয় হাজীভাই, &lt;br&gt; সুতরাং আপনার অন্যতম কর্তব্য হচ্ছে হজ্জের বিধানসমূহ যথাযথভাবে জেনে নেয়া এবং হজ্জের কার্যাদি শুরু করার আগে আলেমদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা। এখানে আমি হজ্জ ও উমরার সম্পাদন পদ্ধতি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করবো, আপনার কর্তব্য হবে এক্ষত্রে বিস্তারিত যা লেখা হয়েছে তা পাঠ করা ও জেনে নেয়া। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. মীকাতে পৌঁছে যথাসম্ভব অপবিত্রতা থেকে যেভাবে গোসল করে থাকেন সেভাবে গোসল করবেন। যদি উত্তম কোন সুগন্ধি থাকে তা ব্যবহার করবেন। অতঃপর ইহরামের কাপড় পরবেন। আর তা হচ্ছে ২টি সাদা চাদর। আর মহিলারা যেকোন ধরনের পোষাক পছন্দ করে, সেগুলো পরবে। তবে তাতে সৌন্দর্য্যের খোলামেলা প্রকাশ ও পুরুষদের পোষাক সাদৃশ হতে পারবে না। অতঃপর একথা বলে উমরার ইহরাম করবেঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; لَبَّيْكَ عُمْرَةً (লাব্বাইকা উমরাতান) &lt;br&gt; &lt;br&gt; অতঃপর তালবিয়া যেভাবে এসেছে তা পাঠ করবেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَ النِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكُ لَا شَرِيْكَ لَكَ.&lt;br&gt; &lt;br&gt; লাব্বায়েকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েকা লা-শারিকালাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নেয়&amp;#39;মাতা লাকা, ওয়াল মুলকা লা শারিকালাকা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; মনে রাখবেন মীকাত হতে ইহরাম করা ওয়াজিব। আপনি যদি হজ্জ অথবা উমরা পালন করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে ইহরাম ব্যতীত মীকাত অতিক্রম করা আপনার জন্য জায়েয নেই। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ২. যখন আপনি ইহরামের নিয়ত করবেন তখন আপনাকে জানতে হবে যে, ইহরামের কারণে আপনার উপর নিম্নোক্ত বিষয়গুলো হারাম হয়ে যাবেঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; ক. শরীরের যে কোন ধরনের পশম বা চুল কাটা, যেহেতু আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেছেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَلا تَحْلِقُوا رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ (البقرة: من الآية196)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করো না যতক্ষণ পর্যন্ত না হাদী (হজ্জের কুরবানী) যথাস্থানে পৌঁছবে।&amp;quot; [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৯৬] &lt;br&gt; &lt;br&gt; খ. শরীর, পোষাক-পরিচ্ছেদ ও খাদ্যে সুগন্ধি ব্যবহার করা, যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ব্যক্তির হাদীসে বলেছেন, যে ব্যক্তি বাহন থেকে পড়ে মারা গিয়েছেঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; لا تحنطوه ولا تخمروا رأسه.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তোমরা তাকে সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথা ঢেকে দিও না।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; মুহরিমের জন্য এমন পোষাক পরিধান করা জায়েয নেই যাতে সুগন্ধি রয়েছে অথবা এ জাতীয় কোন বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে যেমন ওরাস ও জাফরান ইত্যাদি। &lt;br&gt; &lt;br&gt; গ. স্ত্রী সহবাস করা। আর এটা নিষিদ্ধ কাজ সমূহের মধ্যে কঠোরতম কেননা তাহাল্লুলে আউয়ালের পূর্বে যদি স্ত্রী সহবাস ঘটায়, তাহলে তা হজ্জকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তার উপর এ হজ্জ সম্পূর্ণ করা ও একটি উট জবেহ করা অপরিহার্য হয়ে যায়। &lt;br&gt; &lt;br&gt; অনুরূপভাবে কামভাব প্রবল হয়ে সহবাসপূর্ব যে কোন কাজ চাই তা চুম্বন করা ,গুপ্তস্থান ব্যতিরেকে সহবাস করা অনুরূপ অন্যসকল কাজ হারাম বা নিষিদ্ধ। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ঘ. মুহরিমের জন্য বিবাহের আক্দ সম্পন্ন করা হারাম, মুহরিম বিয়ে করতে পারবে না এবং কাউকে বিয়ে দিতেও পারবে না। যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ &amp;quot;মুহরিম বিয়ে করবে না, অন্যকে বিয়ে দিবে না এবং বিয়ের প্রস্তাব পেশ করবে না।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; ঙ. পুরুষদের উপর বিশেষ করে সেলাই করা কাপড় পরা হারাম। সেলাই করা কাপড় বলতে বুঝায় যা শরীরের মাপ অনুযায়ী তৈরী করা হয়। যেমন পাঞ্জাবী, জামা অথবা শরীরের কোন অংশের পরিমাপে তৈরী করা হয় যেমন,গেঞ্জি,পায়জামা। পুরুষদের উপর অনুরূপভাবে মাথার সাথে জুড়ে থাকে যেমন- পাগড়ী, টুপি ইত্যাদি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা হারাম। &lt;br&gt; &lt;br&gt; চ. মুহরিম নারী পুরুষ সকলের উপর স্থলচর প্রাণী শিকার করা, শিকারে সাহায্য করা এবং শিকারকে তার স্থান থেকে তাড়ানো হারাম।&lt;br&gt; &lt;br&gt; ছ. মহিলাদের উপর বিশেষ করে নেকাব ব্যবহার করা হারাম। নেকাব হচ্ছে মুখমণ্ডল ঢাকার জন্য এমন আচ্ছাদন ব্যবহার করা যাতে কেবল চোখ খোলা রাখার ব্যবস্থা থাকে। অনুরূপভাবে মাহিলাদের উপর হাত মোজা ব্যবহার করাও হারাম আর তা হচ্ছে হাতের পরিমাপ অনুযায়ী যা তৈরী করা। এর প্রমান হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;মুহরিম নারী নেকাব পরবে না এবং হাত মোজা পরিধান করবে না।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; তবে মুহরিম নারী যদি অপরিচিত বেগানা পুরুষদের সামনে পড়ে যায় সে তার মুখমণ্ডল ঢেকে দিবে। যেহেতু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু &amp;#39;আনহা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হাজীদের দলগুলো আমার পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করতেন। আর আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম তারা যখন আমাদের পাশাপাশি চলে আসতো, আমাদের মহিলারা তাদের মাথা হতে পূর্ণগাউন তাদের মুখের উপর নামিয়ে দিতেন, [মুখ ঢেকে নিতেন] আর তারা যখন আমাদের অতিক্রম কের যেত আমরা তা খুলে দিতাম।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৩. অতঃপর মক্কা পৌঁছে কাবা ঘরের তাওয়াফ শুরু করা পর্যন্ত বেশী বেশী তালবিয়া পাঠ করবেন। যখন মক্কায় পৌঁছবেন তখন কাবা ঘরের চারদিকে সাত চক্কর তাওয়াফ করবেন হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করবেন এবং হাজরে আসওয়াদে গিয়ে এক চক্কর শেষ করবেন। অতঃপর মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে অথবা কাছাকাছি যেকোন স্থানে দু&amp;#39;রাকা&amp;#39;আত নামায পড়বেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৪.দু&amp;#39;রাকাআত নামায পড়ার পর সাফা পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা করবেন। এর পর সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাতবার সায়ী করবেন। এটা হবে উমরার সায়ী, আর তা শুরু হবে সাফা পাহাড় হতে এবং শেষ হবে মারওয়া পাহাড়ে। সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত একবার আবার মারওয়া থেকে সাফা পর্যন্ত একবার, এভাবে সাতবার মারওয়াতে গিয়ে সায়ী শেষ হবে। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৫. যখন সায়ী শেষ করবেন তখন আপনার সম্পূর্ণ মাথা হতে চুল কামাবেন অথবা ছোট করবেন, তবে কামানো উত্তম। এর মাধ্যমেই আপনার &amp;#39;উমরা শেষ হবে। এবং আপনার জন্য বৈধ হবে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৬. আর যদি আপনি শুধু মাত্র হজ্জের ইচ্ছা করে থাকেন তাহলে মীকাত হতে &amp;#39;উমরার পরিবর্তে হজ্জের নিয়ত করবেন এবং বলবেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; لَبَّيْكَ حَجًّا (লাব্বায়কা হাজ্জান)। &lt;br&gt; &lt;br&gt; অতঃপর ইহরাম অবস্থায় বেশী বেশী তালবিয়া পাঠ করতে থাকবেন জামরায় আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত। যখন আল্লাহর ঘরে পৌঁছবেন তখন আল্লাহর ঘরের চারদিকে সাত চক্কর তাওয়াফে কুদুম করবেন। আর যদি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করে থাকেন তাহলে এ সায়ী আপনার হজ্জের সায়ী হিসাবে যথেষ্ট হয়ে যাবে। আপনি মাথার চুল ছোট করবেন না, ঈদের দিন হালাল হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি ইহরাম অবস্থায় থাকবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৭. আর যদি হজ্জ এবং উমরা দু&amp;#39;টি মিলিয়ে কেরান করতে চান তাহলে মীকাতে হতে ইহরাম করার সময় এভাবে বলবেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا (লাব্বায়কা উমরাতান ওয়া হাজ্জান) &lt;br&gt; &lt;br&gt; অতঃপর জামরায় আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত বেশী বেশী করে তালবিয়া পড়বেন এবং শুধু হজ্জ পালনকারী মুফরিদ যেভাবে হজ্জের কাজ সম্পন্ন করবেন সেভাবে বাকী কাজ সম্পন্ন করবেন। &lt;br&gt;&lt;b&gt;হজ্জের কার্যাবলী&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt; ১. জিলহজ্জ মাসের আট তারিখ মধ্যাহ্নের আগেই আপনি মক্কার যেখানে আছেন সেখান থেকে হজ্জের ইহরাম করে নিবেন যদি তামাত্তু করার ইচ্ছে করে থাকেন। আর সম্ভব হলে গোসল করে নিবেন, অতঃপর ইহরামের কাপড় পরবেন এভাবে বলবেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; لَبَّيْكَ حَجًّا (লাব্বায়কা হাজ্জান) &lt;br&gt; &lt;br&gt; এ দিন থেকে জামরায় আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত বেশী বেশী তালবিয়া পাঠ করা আপনার অন্যতম কাজ হবে। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ২. এরপর মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন, সেখানে গিয়ে যোহর নামায পড়বেন দু&amp;#39;রাকাত, আসরের নামায পড়বেন দু&amp;#39;রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত ও এশা দু&amp;#39;রাকাত, তবে প্রত্যেক নামায সময় মত আদায় করবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৩. নয় তারিখ আরাফার দিন যখন সূর্য উদিত হবে, তখন তালবিয়া পাঠ করতে করতে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন। সেখানে যোহর ও আসরের নামায যোহরের ওয়াক্তে একত্রে আদায় করবেন। এক আজানে, দু&amp;#39;একামতে যোহর দু&amp;#39;রাকাত ও আসর দু&amp;#39;রাকাত পড়বেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন। কেবলামুখী হয়ে এখানে বেশী বেশী দো&amp;#39;আ ও যিকির করবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; সুপ্রিয় ভাই, &lt;br&gt; আরাফাতের সীমায় আপনার প্রবেশ নিশ্চিত করবেন। এবং সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফাতের ময়দান হতে কোন অবস্থাতে বের হবেন না। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৫. যখন সূর্য সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হয়ে যাবে তখন আরাফাত থেকে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে ধীরতা ও প্রশান্তির সাথে রওয়ানা করবেন। মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও এশা একত্রে এক আজানে ও দু&amp;#39;একামাতে আদায় করবেন। মাগরিব তিন রাকাত এবং এশা দু&amp;#39;রাকাত পড়বেন। অতঃপর সেখানে ফজর নামায পড়বেন। অতঃপর সূর্য উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দো&amp;#39;আ ও যিকিরের জন্য অবস্থান করবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৬. সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে মুযদালিফা থেকে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মুযদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। মিনায় পৌঁছে ঐদিন নিম্নোক্ত কাজসমূহ সম্পন্ন করবেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; ক. জামরায় আকাবাতে রমি বা পাথর নিক্ষেপ করবেন। মক্কা হতে এটা সবচেয়ে নিকটবর্তী জামরাহ। এতে পরপর সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রত্যেক কঙ্কর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলবেন। কঙ্কর যাতে হাউজের মধ্যে পড়ে এ ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; খ. হাদী জবেহ করবেন, তা থেকে নিজেও খাবেন এবং ফকির মিসকিনদের প্রতি সাদকাহ করবেন। &lt;br&gt; তামাত্তু ও কিরান হজ্জ সম্পাদনকারীর উপর হাদী জবেহ করা ওয়াজিব। তবে যদি সম্ভব না হয় তাহলে হজ্জের মধ্যে তিনদিন রোযা রাখবেন এবং পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে সাতটি রোযা রাখবেন। সর্বমোট দশটি রোযা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; গ. মাথার চুল কামাবেন অথবা ছোট করবেন। তবে চুল কামানোই উত্তম। মুহরিম নারী শুধুমাত্র এক কর পরিমাণ চুল ছোট করবেন।&lt;br&gt; &lt;br&gt; এ তিনটি কাজই সম্পন্ন করবেন, প্রথমে কংকর নিক্ষেপ, তারপর জবেহ, তারপর চুল কামানো; যদি সম্ভব হয় এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন। তবে এ কাজ গুলোর মধ্যে একটি অন্যটির চেয়ে আগে পরে করার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। রমি ও হলক অথব কসরের পর আপনি প্রথমিক হালাল হয়ে যাবেন। এরপর আপনি স্বাভাবিক পোষাক পরতে পারবেন এবং ইহরামের কারণে নিষিদ্ধ সকল কাজ আপনার জন্য হালাল হয়ে যাবে কেবল স্ত্রী সহবাস ব্যতীত। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৭. অতঃপর মক্কায় যাবেন, সেখানে গিয়ে তাওয়াফে ইফাদা বা হজ্জের তাওয়াফ পালন করবেন। এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে হজ্জের সায়ী শেষ করবেন যদি আপনি তামাত্তুকারী হয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে আপনি দ্বিতীয়বারের মত সম্পূর্ণরূপে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবেন এবং আপনার জন্য ইহরামের নিষিদ্ধ সকল কাজ হালাল হয়ে যাবে এমনকি স্ত্রী সহবাসও হালাল হয়ে যাবে। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৮. আর আপনি যদি কিরানকারী অথবা ইফরাদ হজ্জকারী হয়ে থাকেন তাহলে আল্লাহর ঘরে সাতবার তাওয়াফ করবেন। আর তাওয়াফে কুদুমের সাথে যদি সায়ী না করে থাকেন তাহলে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৯. অতঃপর তাওয়াফ ও সায়ী করে মিনায় ফিরে যাবেন। এবং মিনায় এগার ও বার তারিখের রাত্রি যাপন করবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১০. এরপর এগার ও বার তারিখ সূর্য হেলে যাওয়ার পর তিন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রথমটি থেকে শুরু করবেন এটা মক্কার দিক থেকে সর্বশেষটি,এরপর মধ্যবর্তীটি এরপর জামরায় আকাবায়। প্রত্যেকটিতে পরপর সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রত্যেক কঙ্কর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলবেন। প্রথম ও দ্বিতীয়টির পর কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে দো&amp;#39;আ করা মুস্তাহাব। এ দুইদিন সূর্য হেলে যাওয়ার আগে কঙ্কর নিক্ষেপ করা বৈধনা এবং তা আদায় হবে না। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১১. বার তারিখ রমি করার পর আপনি যদি ইচ্ছে করলে মিনা থেকে সূর্যাস্তের পূর্বেই প্রস্থান করতে পারবেন। আর যদি ইচ্ছে করেন সেখানে থাকতে পারবেন। মনে রাখবেন থাকাটা উত্তম। যদি থাকেন তাহলে আপনি তের তারিখ সেখানে রাত্র যাপন করবেন এবং ঐদিন সূর্য হেলে যাওয়ার পর বার তারিখের ন্যায় সবগুলো জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১২. এরপর আপনি যদি দেশে অথবা গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করেন তাহলে মক্কা থেকে বের হওয়ার আগে সাতচক্কর আল্লাহর ঘরের বিদায়ী তাওয়াফ করে নিবেন। ঋতুবতী ও প্রসবস্রাব আক্রান্ত মহিলার বিদায়ী তাওয়াফ নেই। &lt;br&gt;&lt;b&gt;মদীনা শরীফ যিয়ারত&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt; সম্মানিত ভাই, &lt;br&gt; হজ্জের মৌসুমে অথবা অন্য যে কোন সময় মুসলমানের জন্য সঙ্গত আছে মসজিদে নববী শরিফ যিয়ারত করা। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে এরশাদ করেছেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তিনটি মসজিদ ব্যতীত আর কোন মসজিদের দিকে (যিয়ারত, সম্মান ও ফযীলত লাভের উদ্দেশ্যে) ভ্রমন করো না; আমার এ মসজিদ, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মসজিদুল আকসা।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; সম্মানিত ভাই,&lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলার হেফাজত ও নিরাপত্তায় যখন আপনি মদীনা শরীফে এসে পৌছবেন প্রথমেই মসজিদে হাজির হয়ে নামায পড়বেন কেননা এ মসজিদে নামায পড়া অন্য মসজিদে একহাজার নামায পড়ার মর্যাদা সম্পন্ন। রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;আমার মসজিদে এক ওয়াক্ত নামায (মক্কার) মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যে কোন মসজিদে একহাজার নামায (পড়া) অপেক্ষা উত্তম। &lt;br&gt; &lt;br&gt; তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, তাদের কবরের সামনে গিয়ে সালাম দিবেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; প্রিয় ভাই,&lt;br&gt; আপনার জন্য মসজিদে কুবা ও যিয়ারত করা সুন্নাত। এখানে নামায পড়বেন। নবী সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করছেনঃ &amp;quot;যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে বের হয়ে এই মসজিদ অর্থাৎ, মসজিদে কুবায় আগমন করবে এবং এতে নামায পড়বে তা তার জন্য একটি উমরা সম্পন্ন করার সম পরিমান সওয়াব হবে।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; বাকী&amp;#39; কবরস্থান ও উহুদের শহীদদের কবরস্থান যিয়ারত করা আপনার জন্য সঙ্গত, যাতে আপনি তাদের জন্য দো&amp;#39;আ ও ইসতিগফার করতে পারেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী কবরস্থান ও উহুদের শহীদদের স্থানে আসতেন এবং কবর বাসীদের জন্য এভাবে দো&amp;#39;আ করতেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;আপনাদের প্রতি সালাম হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলিম! আমরাও আল্লাহর ইচ্ছায় আপনাদের সাথে মিলিত হব।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা আপনাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। পবিত্র মদীনা শরীফে এসব স্থান হচ্ছে আপনার জন্য যিয়ারতের বৈধ স্থান। এ ছাড়া অন্য কোন স্থানে যিয়ারত করা, নামায পড়া, কিছুই সুন্নাত সম্মত নয়। কেননা যদি তা আমাদের জন্য সওয়াবের কাজ হত এবং কল্যাণকর হত তাহলে আমাদের হাবীব ও নবী সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে আমাদেরকে নির্দেশ করতেন। কেননা আমরা সবাই এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি রিসালত আমাদের নিকট পৌঁছিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মাতের কল্যাণ কামনা করেছেন এবং আমাদেরকে এমন একটি উজ্জ্বল ও শুভ্র শরীয়তের উপর রেখে গেছেন যার অস্পষ্ট বিষয়গুলো দিবালোকের মত স্পষ্ট। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই এতে কেবলমাত্র বক্রতা অবলম্বন করে থাকে। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা তার দ্বীন ও নেয়ামত পরিপূর্ণ করা পর্যন্ত তাকে মৃতু্য দান করেননি। সুতরাং আমার রবের সকল দয়া, প্রশান্তি ও প্রাচুর্য তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার পরিজন ও সকল সাহাবীদের প্রতি। &lt;br&gt;. . . . . . . . . . . . . .&lt;br&gt;&lt;br&gt;&lt;b&gt;দ্বিতীয় চিঠি&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt; প্রিয় হাজী ভাই, &lt;br&gt; হজ্জের কার্যাবলীতে আমরা অনেকেই নানা ধরণের ভুল করে থাকি। এর কোনটি আমাদের না জানার কারণে, আর কোনটি আমাদের অসচেতনতা বা অবহেলার কারণে হয়ে থাকে। এ পত্রে আমরা হজ্জের নানাবিধ ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পাব, যেন আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের হজ্জ ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পাদিত হতে পারে। &lt;br&gt; &lt;br&gt; এক : ইহরামের সাথে সংশ্লিষ্ট ভুলসমূহ &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. মীকাত থেকে ইহরাম না বাধা। &lt;br&gt; ২. ইহরামের কাপড় পাল্টানো যাবে না-এ ধারণা পোষণ করা, প্রকৃতপক্ষে ইহরামের কাপড় যখন ইচ্ছা তখন পাল্টানো যাবে। &lt;br&gt; ৩. ইহরামের শুরু থেকে ইজত্বেবা করা। (ইজত্বেবা মানে হচ্ছে- ডান কাঁধ খোলা রেখে চাদরটা ডান বগলের নীচ দিয়ে এনে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেয়া।) অথচ শুধুমাত্র তাওয়াফের সময় ইজত্বেবা করা সুন্নত। তাও যদি সেটি তাওয়াফে কুদুম হয়। তাওয়াফে কুদুমকে বাংলায় আগমনী-তাওয়াফ বলা যেতে পারে। &lt;br&gt; ৪. ইহরাদের জন্য বিশেষ নামাজ পড়াকে ওয়াজিব মনে করা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; দুই: মীকাত থেকে মসজিদে হারামে পৌঁছার পূর্বে যেসব ভুল লক্ষণীয় &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. তালবিয়া না পড়ে অন্য কথা বার্তায় ব্যতিব্যস্ত থাকা। এমনকি কেউ কেউ গুনার কাজে লিপ্ত হতেও লজ্জাবোধ করেন না, যেমন- গান শুনা। &lt;br&gt; ২. সমস্বরে তালবিয়া পড়া। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;তিন : মসজিদে হারামে প্রবেশ সংক্রান্ত নানা গলদ &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. নির্ধারিত কোন দরজা দিয়ে হারামে প্রবেশ করাকে বাধ্যতামূলক মনে করা। এমনও দেখা যায় যে বাব ফাত্হ খুঁজতে খুঁজতে হাজীসাহেব ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েন। অথচ এ বিষয়টিকে এত কঠিনভাবে নেয়া ঠিক নয়, বরং আপনি সুবিধামত যে কোন দরজা দিয়ে হারামে প্রবেশ করতে পারেন। তবে বাব &amp;#39;বনী শায়বা&amp;#39;&amp;#39; দিয়ে প্রবেশ করতে পারলে ভাল। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। &lt;br&gt; ২. কিছু কিছু দো&amp;#39;আকে হারামে প্রবেশের বিশেষ দো&amp;#39;আ বলে মনে করা। প্রকৃতপক্ষে হারামে প্রবেশের বিশেষ কোন দো&amp;#39;আ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য মসজিদে প্রবেশকালে যে দো&amp;#39;আ পড়তেন হারামে প্রবেশকালেও একই দো&amp;#39;আ পড়েছেন। আর তা হল, &lt;br&gt; &lt;br&gt; بِسْمِ الله وَ الصَّلاةُ وَ السَّلاَمُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ ذُنُوْبِيْ وَ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;আল্লাহর নামে শুরু করছি। রাসূলের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ্, আমার গোনাহ্ খাতা মাফ করে দিন, আমার জন্য আপনার রহমতের দুয়ার খুলে দিন।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; চার : তাওয়াফ সংক্রান্ত নানা ত্রুটি-বিচু্যতি &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা। যেমন, কাউকে বলতে শুনা যায়-&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;(اللهم إني نويت أن أطوف بالبيت سبعة أشواط)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, আমি সাতবার কাবা শরীফ তাওয়াফ করার নিয়ত করছি।&amp;quot; এ ধরণের কোন নিয়ত না রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর না সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্নিত হয়েছে। অতএব, শুধু অন্তরে নিয়ত করাই যথেষ্ট। &lt;br&gt; ২. ঠিক হাজারে আসওয়াদের সীমানা থেকে তাওয়াফ শুরু না করা। সীমানায় পৌঁছার আগে তাওয়াফের নিয়ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সীমানা পার হয়ে তাওয়াফ শুরু করলে সে চক্কর বাতিল বলে পরিগণিত হবে। &lt;br&gt; ৩. হাজারে আসওয়াদে চুমা দেয়ার জন্য বা রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার জন্য স্থানদ্বয়ে প্রচণ্ড ভিড় করা। ভিড় সৃষ্টি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া আদৌ জায়েয নয়। &lt;br&gt; ৪. হাজারে আসওয়াদে চুমা না দিলে তাওয়াফ আদায় হবে না মনে করা। অথচ এই পাথরটিকে চুম্বন করা সুন্নতমাত্র, যা অনাদায়ে ফরজের কোন ক্ষতি হয় না। &lt;br&gt; ৫. রুকনে ইয়ামানীতে চুমা দেয়া, অথচ সুন্নত হল শুধু স্পর্শ করা। &lt;br&gt; ৬. তাওয়াফের সকল চক্করে রমল করা। (রমল মানে- ছোট ছোট পা ফেলে দ্রুত হাটা) অথচ সুন্নত হল শুধু প্রথম তিন চক্করে রমল করা। তাও শুধু পুরুষের জন্য। &lt;br&gt; ৭. প্রত্যেক চক্করের জন্য কোন একটি দো&amp;#39;আকে খাস করে নেয়া। কোন কোন তাওয়াফকারী তো একটা দো&amp;#39;আর বই সাথে রাখেন, আর অর্থ না বুঝে তোতা পাখির মত বইয়ের দো&amp;#39;আগুলো আওড়িয়ে যান-এটা আরো জঘন্য বিদআত। &lt;br&gt; ৮. হিজর বা হাতীমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করা। যেহেতু হাতীম কাবার ভিটার অংশ বিশেষ, এ কারণে হাতীমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করলে পূর্ণ কাবার তাওয়াফ করা হবে না বিধায় তাওয়াফ বাতিল বলে পরিগণিত হবে। &lt;br&gt; ৯. তাওয়াফের সময় কাবাকে বামে না রাখা। যেমন, কেউ কেউ তাদের সাথের মহিলাদেরকে ভিড় থেকে মুক্ত রাখার জন্য কয়েকজন মিলে মানববন্ধন তৈরী করে। এটা করতে গিয়ে কাবা শরীফ হয়ত তাদের কারো সামনে থাকে, কারো পিছনে থাকে, আবার কারো ডানে থাকে। অথচ এভাবে তাওয়াফ করলে আদায় না হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। যেহেতু তাওয়াফের অন্যতম শর্ত হল কাবাকে বামে রাখা। &lt;br&gt; ১০. রোকনে ইয়ামানীর মত কাবার অন্যান্য স্তম্ভগুলোকেও স্পর্শ করা। &lt;br&gt; ১১. এত উচ্চঃস্বরে দো&amp;#39;আ পড়া যাতে একাগ্রতা থাকে না, অন্যদিকে যা আল্লাহর ঘরের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে এবং তাওয়াফরত হাজীদের বিরক্ত করে। আর ইবাদাতের মধ্যে কাউকে কষ্ট দেয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ। &lt;br&gt; ১২. কারো কারো ধারণা তাওয়াফের দু&amp;#39;রাকাত সুন্নত নামাজ &amp;#39;মাকামের&amp;#39; সন্নিকটে না হলেই নয়। এজন্য তিনি তাওয়াফের স্থান সংকীর্ণ করে মানুষকে কষ্ট দেন। &lt;br&gt; ১৩. এ দু&amp;#39;রাকাত নামাজকে অত্যন্ত দীর্ঘ করা। অথচ এটি সুন্নাহ বিরোধী। যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামাজটা অত্যন্ত সংক্ষেপে আদায় করতেন সেখানে এ ব্যক্তি নামাজটাকে দীর্ঘ করে অন্যকে বঞ্চিত করে, মানুষকে কষ্ট দেয়। &lt;br&gt; ১৪. &amp;#39;মাকামে ইব্রাহীমের&amp;#39; কাছে পড়ার জন্য কোন একটি দো&amp;#39;আকে খাস করে নেয়া। আর যদি এ দো&amp;#39;আ হয় সম্মিলিতভাবে তাতো আরো জঘন্য গর্হিত কাজ। &lt;br&gt; ১৫. &amp;#39;মাকামে ইব্রাহীম&amp;#39; হাত দিয়ে স্পর্শ করা। যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ ব্যাপারে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। &lt;br&gt; &lt;br&gt; পাঁচ : সা&amp;#39;ঈ সংক্রান্ত ভুলসমূহ &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা হয়। অথচ নিয়ত করতে হবে অন্তরে। &lt;br&gt; ২. পুরুষ ব্যক্তি দুই দাগের মাঝখানে না দেঁৗড়ানো। &lt;br&gt; ৩. এর বিপরীতে- সাফা থেকে মারওয়া পুরা পথটাই দৌড়ে পার হয় অনেকে। যা অনেকগুলো অমঙ্গল নিয়ে আসে- সুন্নাহর বিরোধিতা, নিজেকে হয়রান করা, অন্যদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে তাদেরকে কষ্ট দেয়া। আর কেউ কেউ ইবাদাত থেকে তাড়াতাড়ি খালাস পাওয়ার জন্য এ কাজ করে থাকেন। তা আরো বেশী গর্হিত। কারণ এটা ইবাদাতের প্রতি অনীহার বহিঃপ্রকাশ, যা মারাত্মক গোনাহ। বরঞ্চ ইবাদাত আদায় করতে হবে পরিপূর্ণ আন্তরিকার সাথে, আনন্দ ও প্রফুল্লচিত্তে। &lt;br&gt; ৪. প্রতিবার সাফা ও মারওয়ায় আরোহনকালে নিম্নোক্ত আয়াতটি তেলাওয়াত করা হয়।&lt;br&gt; &lt;br&gt; إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ -البقرة:158&lt;br&gt; &lt;br&gt; অথচ আয়াতটি তেলাওয়াত করার কথা শুধু প্রথমবার সাফায় আরোহনকালে। কারণ আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা আয়াতে কারীমাতে যে পাহাড়কে আগে উল্লেখ করেছেন সে পাহাড় থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হবে এ কথা জানানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফাতে উঠাকালে বলেনঃ &amp;quot;আল্লাহ্ যা দিয়ে শুরু করেছেন আমিও তা দিয়ে শুরু করছিঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ &lt;br&gt;-البقرة:158&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা&amp;#39;বা গৃহের হজ্জ কিংবা &amp;#39;উমরা সম্পন্ন করে এ দুইটির মধ্যে সা&amp;#39;ঈ করলে তার কোন পাপ নেই। আর কেউ স্বতঃস্ফূর্ত সৎকার্য করলে আল্লাহ্ তো পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।&amp;quot; [সূরা আল-বাকারাঃ ১৫৮] &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. প্রতি চক্কর সা&amp;#39;ঈর জন্য আলাদা আলাদা দো&amp;#39;আ খাস করে নেয়া। &lt;br&gt; ২. মারওয়া থেকে সা&amp;#39;ঈ শুরু করা। &lt;br&gt; ৩. সাফা থেকে পুনরায় সাফা আসাকে এক চক্কর হিসাব করা। প্রকৃতপক্ষে তখন সা&amp;#39;ঈ হয়ে যাবে চৌদ্দ চক্কর। &lt;br&gt; ৪. নফল তাওয়াফের মত নফল সা&amp;#39;ঈ করা। মূলতঃ হজ্জ বা উমরা আদায়ের পর আর কোন সা&amp;#39;ঈ নেই। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;ছয় : মাথা মুণ্ডানো বা চুল কাটা সংক্রান্ত ভ্রান্তিসমূহ&lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. মাথার কিছু অংশ কামানো।&lt;br&gt; ২. মাথার একদিকের কয়েকটি চুল কাটা। এটি&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;مُحَلِّقِينَ رُؤُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ - الفتح: من الآية27&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তোমাদের কেউ কেউ মস্তক মুণ্ডিত করবে আর কেউ কেউ কেশ কর্তন করবে।&amp;quot; আয়াতের বিধানের বিরোধিতা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৩. &amp;#39;উমরা আদায়কারী মাথা নেড়া করা বা চুল কাটার আগেই ইহরামের কাপড় খুলে ফেলা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;সাত : জিলহজ্জের আট তারিখে লোকেরা যে সকল ভুল করেন &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. ইহরামের আগে দু&amp;#39;রাকাত নামাজ পড়াকে ওয়াজিব মনে করা। অনুরূপভাবে নতুন কাপড়ে ইহরাম করাকে ওয়াজিব মনে করা। &lt;br&gt; ২. ইহরামের পর পরই ইজত্বেবা করে ফেলা। অথচ ইজত্বেবা করতে হয় শুধুমাত্র তাওয়াফে কুদুমে। &lt;br&gt; ৩. যে কাপড় পরে &amp;#39;উমরা আদায় করা হয়েছে সে কাপড়ে হজ্জের ইহরাম বাধা যাবে না মনে করা। &lt;br&gt; ৪. মিনা যাওয়ার পথে শব্দ করে তালবিয়া না পড়া। &lt;br&gt; ৫. অনেকে মক্কা থেকে সরাসরি আরাফায় চলে যান, যা সুন্নতের খেলাফ। &lt;br&gt; ৬. মিনায় না এসে মক্কায় থেকে যাওয়া। &lt;br&gt; ৭. মিনাতে দুই ওয়াক্তের নামাজ একত্রে এক ওয়াক্তে আদায় করতে হবে মনে করা। (যোহর ও আসর একত্রে, এবং আসর ও মাগরিব একত্রে।) &lt;br&gt; ৮. মিনাতে কসর না পড়ে পূর্ণ নামাজ আদায় করা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;আট : আরাফায় গমন ও অবস্থান সংশ্লিষ্ট ভুল &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. আরাফা ত্যাগের সময় সশব্দে তালবিয়া না পড়া। &lt;br&gt; ২. সূর্য হেলে যাওয়ার পরও আরাফা-ময়দানের বাহিরে অবস্থান করা। &lt;br&gt; ৩. কিবলা বাদ দিয়ে পাহাড়ের দিকে ফিরে দো&amp;#39;আ করা। &lt;br&gt; ৪. পাহাড়ে অবস্থান করাকে ওয়াজিব মনে করা। &lt;br&gt; ৫. কারো কারো মাঝে এ ভুল ধারণা আছে যে, আরাফার মাঠ হারামের অংশ, অতএব আরাফা মাঠের গাছপালা কাটা যাবেনা। &lt;br&gt; ৬. কেউ কেউ মনে করেন জাবালে রহমতের বিশেষ মর্তবা রয়েছে। এ জন্য পাহাড়ের ওপরে ওঠে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন, গাছে সুতা বাঁধেন। &lt;br&gt; ৭. সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফার ময়দান ত্যাগ করা। &lt;br&gt; ৮. বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করা। আর হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া তো আরো বড় অপরাধ। যেমন, ছবি উঠানো, অশ্লীল কথা-বার্তা বলা, গান-বাজনা শুনা, মানুষকে কষ্ট দেয়া। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;নয় : মুযদালিফার পথে যেসব ভুল হয়ে থাকে &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. খুব দ্রুত চলা। &lt;br&gt; ২. মুযদালিফার সীমানায় না ঢুকে রাত্রি যাপন করা। &lt;br&gt; ৩. মুযদালিফা পৌঁছার আগে পথিমধ্যে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে ফেলা। &lt;br&gt; ৪. যেখানেই হোক না কেন ওয়াক্তের মধ্যে এশার নামাজ আদায় না করা। অনেকের গাড়ী রাস্তায় যানজটে পড়ার কারণে মুযদালিফা পৌঁছতে মধ্যরাতের পর বা ফজরের কাছাকছি সময় হয়ে যায়। কিন্তু তারা মুযদালিফা না পৌঁছার কারণে নামাজ আদায় করে না। এটাতো তাদের মস্তবড় ভুল। কারণ ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তাদের উচিত যেখানে সম্ভব সেখানে নামাজ পড়ে নেয়া। &lt;br&gt; ৫. ওয়াক্তের আগে ফজর নামাজ পড়ে ফেলা। যেমন, সুবহে সাদেকের উদয়ন নিশ্চিত না হয়ে কেউ একজনকে আজান দিতে শুনেই নামাজ পড়ে ফেলা। &lt;br&gt; ৬. রাত্রি থাকতেই মুযদালিফা ত্যাগ করা। &lt;br&gt; ৭. এ-কথা সে-কথা বা গোনাহর কাজে রাত্রিটা বরবাদ করা। &lt;br&gt; ৮. সূর্যোদয় পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা। &lt;br&gt; ৯. মুযদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করাকে ওয়াজিব মনে করা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;দশ : কংকর নিক্ষেপ সংক্রান্ত বিভিন্ন ত্রুটি-বিচু্যতি &lt;br&gt; &lt;br&gt; রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম কংকর নিক্ষেপের হেকমত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়াতে সা&amp;#39;ঈ, কংকর নিক্ষেপ এ সকল কিছুর উদ্দেশ্য হল আল্লাহর স্মরণ প্রতিষ্ঠিত করা। অতএব নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সঠিক নয়- &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. কংকরগুলো ধৌত করা, সুগন্ধি লাগানো। &lt;br&gt; ২. জমরাতগুলোকে শয়তান মনে করা। এটি একটি ভুল ধারণা। বরঞ্চ আমরা কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করি,তার ইবাদাত বাস্তবায়ন করি। লোকদের এ বদধারণা থেকে যে কত সমস্যার উদ্ভব হয় তা বলা বাহুল্য। যেমন- &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;ক. তীব্র ক্রোধ ও প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতা নিয়ে এসে মানুষকে কষ্ট দেয়া। &lt;br&gt; খ. কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে যে একটা ইবাদাত পালন করা হচ্ছে সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ গাফেল থাকা। বড় পাথর খণ্ড, কাঠ, জুতা ইত্যাদি ছুড়ে মারা। বলতে গেলে এ ভ্রান্ত ধারণার কারণে শরীয়ত অনুমোদিত আমলটা শরীয়ত গর্হিত আমলে পরিণত হয়। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;৩. পাথরগুলো পিলারের গায়ে লাগাকে আবশ্যক মনে করা। সঠিক হলো পাথরগুলো কূপের ভিতরে পড়াই যথেষ্ট। &lt;br&gt; ৪. নিজে কংকর মারতে সক্ষম হওয়া শর্তেও অন্যকে দিয়ে মারানো। &lt;br&gt; ৫. কংকরগুলো মুযদালিফা থেকেই নিতে হবে-এ ধারণা পোষণ করা। সঠিক হলো যে কোন স্থানের কংকর হলেই চলবে। &lt;br&gt; ৬. জমরাতগুলোর মাঝে ধারবাহিকতা রক্ষা না করা। অর্থাৎ, কংকর মারতে হয় প্রথমে ছোট জমরাতে, তারপর মাঝারি, সবশেষে বড় জমরাত-এই ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করা। &lt;br&gt; ৭. নিক্ষেপের সময় শুরু হওয়ার আগেই কংকর মেরে ফেলা। নিক্ষেপের সময় শুরু হয় সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার পর মুহূর্ত থেকে। &lt;br&gt; ৮. কংকর সাতটার চেয়ে কম মারা। &lt;br&gt; ৯. প্রথম ও দ্বিতীয় জমরাতে কংকর মারার পর দুআ&amp;#39; না করা। &lt;br&gt; ১০. শরীয়ত নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশী কংকর মারা। অথবা এক জমরাতে একাধিক বার মারা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; এগার : মিনাতে যে সকল ভুল হয়ে থাকে &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১. কোন ওজর ছাড়াই মিনাতে রাত্রি যাপন না করা। মিনাতে অবস্থানের মত জায়গা আছে কি নাই এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ খোঁজ-খবর না নিয়ে, নিশ্চিত না হয়ে জায়গা নাই বলে মক্কায় বা আযীযিয়াতে রাত্রি কাটানো। &lt;br&gt; ২. ১২ জিলহজ্জ সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার আগেই মিনা থেকে বেরিয়ে যাওয়া। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;প্রিয় দ্বীনি ভাই,&lt;br&gt;পরিশেষে বলতে চাই একটা বিষয়ে হাজীদের অনেকেই যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন করেন না। তা হল- হালাল রুজি দিয়ে হজ্জব্রত পালন করা। আপনি দেখবেন যে হারাম উপার্জন দিয়ে তিনি হজ্জ করতে এসেছেন। অথচ তিনি ভুলে যান &lt;br&gt; &lt;br&gt; إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّباً.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;নিশ্চয় আল্লাহ্ পবিত্র। তিনি একমাত্র পবিত্রটাই গ্রহণ করেন।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; আবার কাউকে কাউকে দেখা যায়, হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া মাত্র পরিবার-পরিজনের জন্য যতসব হারাম জিনিস-পত্র কেনায় ব্যস্ত হয়ে যান। যেমন, গানের ক্যাসেট, সিডি, বিভিন্ন বাদ্য-যন্ত্র হাবিজাবি সব। নিঃসন্দেহে এ ধরণের কাজ আল্লাহর নেয়ামতের নাশুকরী এবং এ ব্যক্তির হজ্জ কবুল না হওয়ার আশংকা হয়। সুতরাং হালাল-রুজি দিয়ে হজ্জ আদায় করুন, এবং পরিবার-পরিজনের জন্য এমন কিছু খরিদ করুন যা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে উপকারে আসবে। যেমন, ভাল দ্বীনি বই, তেলাওয়াতের বা কোন ইসলামী আলোচনার ক্যাসেট।&lt;br&gt;. . . . . . . . . . . .&lt;br&gt;&lt;b&gt;&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;b&gt;&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;b&gt;তৃতীয় চিঠি&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt; প্রিয় দ্বীনি ভাই,&lt;br&gt; আল্লাহ্ আপনাকে যাবতীয় গোনাহ্ থেকে হেফাজত করুন। জেনে রাখুন শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য বদ্ধপরিকর। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা কুরআনের অনেক জায়গায় শয়তানের সে সকল ঔদ্যত্বপূর্ণ বাণী উদ্ধৃত করেছেন। যেমন,&lt;br&gt; &lt;br&gt; وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيباً مَفْرُوضاً -النساء: من الآية118&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;সে বলল আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী করে নিব।&amp;quot; [সূরা আন্-নিসাঃ ১১৮] অন্য জায়গায় এসেছে,&lt;br&gt; &lt;br&gt;قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ -الأعراف:16&lt;br&gt; ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ -الأعراف:17&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;&amp;quot;সে বলল, &amp;#39;তুমি আমাকে শাস্তিদান করলে, এইজন্য আমিও তোমার সরল পথে মানুষের জন্য নিশ্চয় ওঁত পেতে থাকব। অতঃপর আমি তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, দক্ষিণ ও বাম দিক থেকে এবং তুমি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবে না।&amp;quot; [সূরা আল-আ&amp;#39;রাফঃ ১৬, ১৭]&lt;br&gt; &lt;br&gt; শয়তান এক পা দুই পা করে মানুষকে ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়। যা মানুষ টেরও করতে পারেনা। এজন্য শয়তানের পদাংক অনুসরণ থেকে হুশিয়ার করতে গিয়ে আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَى مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَداً وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ -النور:21&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;&amp;quot;হে মু&amp;#39;মিনগণ তোমরা শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। কেউ শয়তানের অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়। আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ কখনো পবিত্র হতে পারবে না, তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করে থাকেন এবং আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।&amp;quot; [সূরা আন্-নূরঃ ২১] &lt;br&gt; &lt;br&gt; শয়তান মানুষকে যে সব ফাঁদে ফেলতে চায় তার মধ্যে সব চেয়ে ভয়াবহ ফাঁদ হচ্ছে শির্ক। কারণ সে জানে আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা শিরকের গোনাহ্ কখনোই মাফ করবেন না। তিনি ইরশাদ করেছেন,&lt;br&gt; &lt;br&gt; إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْماً عَظِيماً -النساء:48&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;&amp;quot;নিশ্চয় আল্লাহ্ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করবেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন; এবং যে কেউ আল্লাহর শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।&amp;quot; [সূরা আন্-নিসাঃ ৪৮]&lt;br&gt; &lt;br&gt; শ্রদ্ধাস্পদ মুসলিম ভাই, &lt;br&gt; জেনে রাখুন শয়তান সরাসরি কোন শির্ক করার আদেশ দেয় না। বরং শির্কের পথ সুগমকারী কিছু কিছু আমলকে সুন্দর মোড়কে উত্থাপন করে মাত্র। শির্কের সূচনা হয় নূহ নবীর উম্মতের মাঝে। তাদের মধ্যে কিছু নেক্কার, পরহেজগার বান্দাহ্ ছিলেন। তাদের মৃতু্যর পর শয়তান এসে প্রস্তাব করল- তোমরা তো এ সকল পূণ্যবানদের কিছু ছবি আঁকতে পার। যেগুলো দেখলে তোমাদের মাঝে ইল্ম ও আমলের স্পৃহা জাগ্রত হবে। তোমরা নব উদ্যমে আমলে লেগে যাবে। তাদের অনর্্তধানের পর নতুন প্রজন্ম এল। শয়তান এসে তাদেরকে বললঃ &amp;#39;তোমাদের বাপ-দাদারা বিপদ-আপদে সাহায্য চাওয়ার জন্য এসব ছবি গুলো বানিয়েছিল।&amp;#39; এভাবে শয়তান তাদেরকে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য সত্তার ইবাদাতের দিকে নিয়ে যায়। &lt;br&gt; &lt;br&gt; সাধারণ লোকদের মধ্যে অনেকে এমন কিছু বিষয়ে লিপ্ত হন যা তাদেরকে শির্কের শেষ সীমানায় পৌঁছে দেন; কিন্তু তারা বেখবর। যেমন, এ ধরণের কথা বলা - &amp;quot;হে আমার পীর হোসাইন&amp;quot;, বা &amp;quot;হে আমার রুহানী মা যয়নব&amp;quot;, অথবা &amp;quot;ও বাবা শাহজালাল&amp;quot;, কিংবা &amp;quot;ও বাবা বায়েজিদ বোস্তামী&amp;quot;, নতুবা &amp;quot;হে আমার অমুক পীরসাহেব&amp;quot; আমাকে সাহায্য করুন, আমাকে বাঁচান, আমি আপনার আশ্রয় চাই, আমার রোগ নিরাময় করুন, আমাকে একটা সন্তান দিন, আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিন, আমার শত্রুকে পরাস্ত করার ক্ষমতা দিন, জালেমকে প্রতিহত করার তাওফিক দিন। তদ্রূপ কবরে সিজদা দেয়া, কবরের কাছে নামাজ পড়াকে পূণ্যের কাজ মনে করা, কেবলা বাদ দিয়ে কবরের দিকে ফিরে নামাজ পড়াকে উত্তম জ্ঞান করা, কবরের চতুর্দিকে তাওয়াফ করাকে কাবা-তাওয়াফের চেয়ে বেশী সওয়াবের কাজ বিবেচনা করা। উল্লেখিত সবগুলো আমল শির্ক। অথচ এগুলোকে পূর্ণের কাজ মনে করা হয়। &lt;br&gt; &lt;br&gt; কিভাবে একজন বিবেকবান মানুষ মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাইতে পারে, আশ্রয় চাইতে পারে?! যদি সে ব্যক্তি নিজের জন্য কিছু করতে পারতেন তবে তো নিজে মরতেন না। এই ওলি বা নেককার লোকটা কি রাসূলের চেয়েও বড় মর্যাদার অধিকারী যাঁর চেয়ে উত্তম মানুষ এই পৃথিবীতে আসে নাই। তাঁকে আল্লাহ্ পাক নির্দেশ দিচ্ছেন, &lt;br&gt; &lt;br&gt; قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَلا ضَرّاً إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ -الأعراف:188&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;&amp;quot;বলুন, &amp;#39;আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত আমার নিজের ভাল-মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তবে তো আমি প্রভূত কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো শুধু মুমিন সমপ্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা বৈ আর কিছু নই।&amp;quot; [সূরা আল-আ&amp;#39;রাফঃ ১৮৮]&lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা অন্যস্থানে বলেছেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; قُلْ إِنِّي لا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرّاً وَلا رَشَداً -الجـن:21&lt;br&gt; قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَداً -الجـن:22&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;বলুন, &amp;#39;আমি তোমাদের ইষ্ট-অনিষ্টের মালিক নই।&amp;#39; বলুন, &amp;#39;আল্লাহর শাস্তি হতে কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারবে না এবং আল্লাহ্ ব্যতীত আমি কোন আশ্রয়ও পাব না।&amp;quot; [সূরা জিনঃ ২১, ২২] &lt;br&gt; &lt;br&gt; রাসূলই যদি নিজের কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক না হন, আল্লাহর শাস্তি হতে কেউ তাকে রক্ষা করতে না পারে তবে আর এমন কে আছে যে অন্যের ইষ্ট-অনিষ্টের অধিকার রাখে। সাবধান! এটা কোন মুসলমানের বিশ্বাস হতে পারে না। বরং এ তো মূর্তিপূজারী মুশরিকদের বিশ্বাস। যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ -يونس:18&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;ওরা আল্লাহ্ ব্যতীত যার ইবাদাত করে তা ওদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। ওরা বলে, &amp;#39;এগুলো আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।&amp;#39; বল, &amp;#39;তোমরা কি আল্লাহ্কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিবে যা তিনি জানেন না?&amp;quot; [সূরা ইউনুসঃ ১৮] &lt;br&gt; &lt;br&gt; এরপরও কি কোন মুসলমানের উচিত মুশরিকদের অনুকরণে ওলি-আউলিয়া, পীর-দরবেশের কাছে শাফায়াত চাওয়া?!! &lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ পাক মুশরিকদের প্রসঙ্গে বলেন যে, তারা এই দাবীতে ওলি-আউলিয়া বা প্রতিমাগুলোর পূজা করত যে এরা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী ব্যক্তিতে পরিণত করবে। &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ -الزمر: من الآية3&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে, &amp;#39;আমরা তো এদের পূজা এজন্য করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সানি্নধ্যে এনে দিবে।&amp;#39; ওরা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করেছে আল্লাহ্ তার ফয়সালা করে দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফের, আল্লাহ্ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।&amp;quot; [সূরা আয্-যুমারঃ ৩]&lt;br&gt; &lt;br&gt; এটা কি কল্পনা করা যায় যে আল্লাহর কালামের উপর বিশ্বাসস্থাপনকারী কোন মুসলিম আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে ওলি-আউলিয়া বা নেককার-পরহেজগারদের উপাসনা করবে, আর মুশরিকদের মত বলবে যে আমরা তো আল্লাহ্কে পাওয়ার জন্য এদেরকে ডাকি? &lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ পাক স্পষ্ট ভাষায় এ সকল বাতিল উপাস্যদের দূর্বলতা ও অক্ষমতা বর্ণনা করে বলেন, &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ -الأعراف:197&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;আল্লাহ্ ব্যতীত তোমরা যাদেরকে আহ্বান কর তারা তো তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না এবং তাদের নিজেদেরকে পারে না।&amp;quot; [সূরা আল-আ&amp;#39;রাফঃ ১৯৭]&lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ পাক নিজে যেখানে ঘোষণা দিচ্ছেন যে, তারা তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না, বরঞ্চ তারা নিজের জন্যও কিছু করতে পারে না সেখানে কোন বিবেকবান মুসলিম কি এ বিশ্বাস করতে পারে যে তারা তাদেরকে সাহায্য করতে পারে? এরপরও যে বলবেঃ হঁ্যা এরা সাহায্য করতে পারে তবে সে আল্লাহ্কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আর যে আল্লাহ্কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সে কাফের। হোক না সে পাক্কা মুসলিম, সাচ্চা রোযাদার এবং নিজেকে মুসলিম দাবীদার। &lt;br&gt; &lt;br&gt; নবীকূল শিরোমনি, রাসূলদের সর্দার, গোটা বনী আদমের যিনি নেতা, যার সুপারিশে কিয়ামতের দিন মহা সংকট থেকে নিস্তার মিলবে, যার উচ্চ মর্যাদার কারণে নবী-রাসূল সবাই তাঁর পতাকা তলে সমবেত হবেন; তিনি যদি তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য কিছু করতে না পারেন তবে আর কার সাধ্য আছে অন্যের জন্য কিছু করার? একদিন সাফা পাহাড়ে উঠে রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বক্তব্য দিয়েছিলেন তা কি আপনি জানেন না? ইমাম বোখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনু আব্বাস ও আবু হোরায়রা থেকে বর্ণনা করেন তারা বলেন, যখন আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলার বাণীঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ -الشعراء:214&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;তোমার নিকট-আত্মীয়বর্গকে সতর্ক কর।&amp;quot; (সূরা আশ্-শু&amp;#39;আরাঃ ২১৪]&lt;br&gt; &lt;br&gt; নাযিল হল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন, &amp;#39;ও কুরাইশেরা (অথবা কোন সমীপশব্দ) নিজেদের জান নিজেরা খরিদ করে নাও। আল্লাহর শাস্তি থেকে আমি তোমাদেরকে বাঁচাতে পারব না। ও আবদে মানাফের বংশধরেরা, আল্লাহর আযাব থেকে আমি তোমাদেরকে বাঁচাতে পারব না। ও আব্বাস বিন আব্দুল মোত্তালিব, আমি আপনাকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচাতে পারব না। ও সাফিয়্যা (রাসূলের ফুফু), আমি আপনাকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারব না। ও ফাতেমা (রাসূলের মেয়ে) তুমি আমার কাছে সম্পদ দাবী করতে পার, কিন্তু তোমাকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচানোর জন্য আমি কিছু করতে পারব না।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁর আপন চাচা, আপন ফুফুর জন্য কিছু করতে না পারে; এমনকি তাঁর ঔরশজাত মেয়ের জন্যও কিছু করতে না পারে তবে অন্যের জন্য কিভাবে পারবেন?! সুতরাং সাবধান হোন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর চাচা আবু তালেবের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার মনস্থ করলেন -যে চাচা তাঁকে সবসময় সাহায্য করছেন, বিপদে আশ্রয় দিয়েছেন- আল্লাহ্ স্পষ্ট ভাষায় তাঁকে নিষেধ করে দেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ -التوبة:113&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু&amp;#39;মিনদের জন্য সংগত নয় যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চিত ওরা জাহান্নামী।&amp;quot; [সূরা আত্-তাওবাঃ ১১৩] &lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা যখন লক্ষ্য করলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচার হেদায়েতের জন্য তীব্র আগ্রহী তখন ইরশাদ করলেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ -القصص:56&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে।&amp;quot; (সূরা আল-কাসাসঃ ৫৬] &lt;br&gt; &lt;br&gt; প্রিয় মুসলিম ভাই, &lt;br&gt; যারা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য সত্তার কাছে দো&amp;#39;আ করে, সেসব অজ্ঞ-মূর্খ লোকদের কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত হবেন না। &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيراً -الفرقان:58&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;তুমি নির্ভর কর তাঁর উপর যিনি চিরঞ্জীব, যিনি মরবেন না এবং তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর, তিনি তাঁর বান্দাদের পাপ সম্পর্কে যথেষ্ট অবহিত।&amp;quot; [সূরা ফুরকানঃ ৫৮] &lt;br&gt; &lt;br&gt; অতএব একমাত্র আল্লাহর দরবারে ধর্ণা দিন। তাঁর কাছে দো&amp;#39;আ করুন। তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। অনুনয়-বিনয় একমাত্র তাঁর কাছে পেশ করুন। একমাত্র তাঁর কাছে সাহায্য চান। জেনে রাখুন, আল্লাহ্ পাক আপনার অতি নিকটে। তিনি বলেছেন, &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ -البقرة:186&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই।&amp;quot; [সূরা আল-বাকারাঃ ১৮৬] &lt;br&gt; &lt;br&gt; প্রিয় দ্বীনি ভাই, &lt;br&gt; আল্লাহ্ আপনাকে হেফাযতে রাখুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আপন চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন &amp;#39;যদি কিছু চাও তবে একমাত্র আল্লাহর কাছে চাও, সাহায্যের মুখাপেক্ষী হলেও একমাত্র আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। জেনে রাখ, সমস্ত মানুষ যদি তোমার হিতকামনায় ঐক্যবদ্ধ হয় তবুও তারা আল্লাহর লিপির বাইরে তোমার এক বিন্দুও উপকার করতে পারবে না। আর সমস্ত মানুষ যদি তোমার দুশমনি করার জন্য ঐকমত্যে পৌঁছে, তবুও তারা আল্লাহর লিপির বাইরে তোমার এক চুলও ক্ষতি করতে পারবে না। কলম তুলে রাখা হয়েছে। লিখিত-লিপি শুকিয়ে গেছে।&amp;quot; এরপরও কি আর কোন যুক্তি-প্রমাণ থাকতে পারে? আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূলের কথার উপরে কি আর কোন কথা থাকতে পারে? &lt;br&gt; &lt;br&gt; আত্মার আত্মীয় দ্বীনি ভাই, &lt;br&gt; এমন কিছু দো&amp;#39;আ আছে যেগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাদের শিক্ষা দিতেন। যেগুলো ব্যাপক অর্থবহ এবং অধিক কল্যাণবাহী। এ দো&amp;#39;আগুলো সকলেরই মুখস্থ থাকা উচিত এবং এর চাহিদা মাফিক আমল করা উচিত। নিম্নে এ ধরণের কিছু দো&amp;#39;আ উল্লেখ করার প্রয়াস পাব। &lt;br&gt;&lt;br&gt; اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ ِمنْ جَهْدِ الْبَلَاِء، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوْءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ.&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;হে আল্লাহ্, আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাবতীয় বিপদআপদ থেকে , অশুভ পরিণতি থেকে, মন্দভাগ্য থেকে, এবং শত্রুর ঠাট্টা-বিদ্রূপ থেকে। &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم أصلح لي ديني الذي هو عصمة أمري، وأصلح لي دنياي التي فيها معاشي، وأصلح لي آخرتي التي فيها معادي، واجعل الحياة زيادة لي في كل خير، واجعل الموت راحة لي من كل شر.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, আমার দ্বীনদারীকে পরিশুদ্ধ করে দিন। যার উপর নির্ভর করে আমার সবকিছুর শুদ্ধতা। দুনিয়াকে আমার জন্য উপযোগী করে দিন। যেখানে রয়েছে আমার জীবিকার উপকরণ। আখেরাতকে আমার জন্য শুভময় করুন। যেখানে আমাকে ফিরে যেতেই হবে। আমার হায়াতকে নেক কাজে লাগাবার তাওফিক দিন। আর মৃতু্যকে যাবতীয় কষ্ট-ক্লেশ থেকে নাজাতের ওসিলা করে দিন।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم إني أسألك من الخير كله: عاجله وآجله ما علمتُ منه وما لم أَعْلَمْ، وأعوذ بك من الشر كله: عاجله وآجله ما علمتُ منه ومَا لَمْ أَعْلَمْ، اللهم إني أسألك من خير ما سألك منه عبدك ونبيك صلى الله عليه وسلم، وأعوذ بك من شر ما استعاذ منه عبدك ونبيك -صلى الله عليه وسلم- .اللهم إني أسألك الجنة وما قرب إليها من قول أو عمل، وأعوذ بك من النار وما قرب إليها من قول أو عمل، وأسألك أن تجعل كل قضاء قضيته لي خيرا.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, আমি আপনার কাছে সমুদয় কল্যাণ চাই। তা নিকটে হোক অথবা দূর ভবিষতে হোক, তা আমার জ্ঞান-সীমায় থাকুক অথবা না থাকুক। এবং আমি সমুদয় অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই। তা নিকটে হোক অথবা দূর ভবিষতে হোক, আমার জ্ঞান-সীমায় থাকুক অথবা না থাকুক। আপনার বান্দাহ, আপনার নবী আপনার কাছে যে কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন আমিও আপনার কাছে সে কল্যান প্রার্থনা করি। আপনার বান্দাহ্, আপনার নবী যে অনিষ্ট থেকে পানাহ্ চেয়েছেন আমিও তা থেকে পানাহ্ চাই। হে আল্লাহ্, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জান্নাতের পথ সুগমকারী কথা ও কাজ করার তাওফিক চাই। আর জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই এবং জাহান্নামের পথে ধাবিতকারী কথা ও কাজ থেকে মুক্তি চাই। আমি আপনার কাছে আরো আবদার করছি আমার জন্য যা কিছু নির্ধারণ করেছেন সবই যেন কল্যাণকর হয়। &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم احفظني بالإسلام قائما، وبالإسلام قاعدا، واحفظني بالإسلام راقدا، ولاتشمت بي عدوا ولاحاسدا، اللهم إني أسألك كل خير خزائنه بيدك، وأعوذ بك من كل شر خزائنه بيدك.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, দাঁড়ানো, বসা, শোয়া সর্বাবস্থায় ইসলামের দ্বারা আমাকে হেফাযত করুন। আমাকে শাস্তি দিয়ে শত্রু বা নিন্দুকের হাসির খোরাক বানাবেন না। হে আল্লাহ্, আমি আপনার কাছে সমুদয় কল্যাণ কামনা করি; যার ভাণ্ডার আপনার হাতেই রয়েছে এবং যাবতীয় অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থণা করি; যার ভাণ্ডারও আপনার হাতে রয়েছে।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم إني أسألك يا ألله بأنك الواحد الأحد، الصمد الذي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ أن تغفر لي ذنوبي إنك أنت الغفور الرحيم.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্! আপনি এক ও অদ্বিতীয়। আপনি অমুখাপেক্ষী। আপনি কাউকে জন্ম দেননি, কারো ঔরশজাতও নন। আপনার সমতুল্য কেউ নেই। আমি আপনার কাছেই প্রার্থনা করছি। আমার যাবতীয় গোনাহ্ মাফ করে দিন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم إني أسألك بأن لك الحمد لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك، المنان، يا بديع السماوات والأرض يا ذا الجلال والإكرام، يا حي يا قيوم أسألك الجنة وأعوذ بك من النار.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, সকল প্রশংসা আপনারই জন্য। আপনি ছাড়া ইবাদাতের উপযুক্ত কোন উপাস্য নেই। আপনি এক, আপনার কোন শরীক নেই, আপনি অনুকম্পাকারী। হে আকাশ ও জমিনের স্রষ্টা, হে মহিমাময় ও মহানুভব, হে চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই, জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم إني أعوذ بك من زوال نعمتك وتحول عافيتك، وفجاءة نقمتك، وجميع سخطك.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, আমি আপনার নেয়ামতের অনর্্তধান থেকে ও ক্ষমার নামঞ্জুরি থেকে আশ্রয় চাই। এবং আকস্মিক শাস্তি থেকে ও যাবতীয় অসন্তুষ্টি থেকে পানাহ্ চাই।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; যদি আপনি কোন দুঃশ্চিন্তায় পড়েন বা বিপদগ্রস্ত হন তবে নিম্নোক্ত দো&amp;#39;আটি পড়তে পারেন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; لا إله إلا الله العظيم الحليم، لا إله إلا الله رب العرش العظيم، لا إله إلا الله رب السماوات ورب الأرض ورب العرش الكريم.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন মা&amp;#39;বুদ নেই। তিনি অতি মহান; সহনশীল। আল্লাহ্ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য কোন মা&amp;#39;বুদ নেই। তিনি মহান আরশের মালিক। আল্লাহ্ ছাড়া ইবাদাতের উপযুক্ত কোন মা&amp;#39;বুদ নেই। তিনি আকাশ-জমিন ও মহান আরশের প্রতিপালক।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; يا حي يا قيوم برحمتك أستغيث فأصلح لي شأني كله ولا تكلني إلى نفسي طرفة عين.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে চিরঞ্জীব, হে সর্বসত্তার ধারক, আপনার রহমতের ওসিলা দিয়ে আমি সকাতর নিবেদন করছি- আমার অবস্থা পরিবর্তন করে দিন। এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিবেন না।&amp;quot;&lt;br&gt;&lt;br&gt; لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ -الانبياء: من الآية87&lt;br&gt;&lt;br&gt;&amp;quot;তুমি ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই; তুমি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমালংঘনকারী।&amp;quot; [সূরা আম্বিয়াঃ ৮৭]&lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم إني عبدك، وابن عبدك، وابن أمتك، ناصيتي بيدك، ماض في حكمك، عدل في قضاؤك، أسألك بكل اسم هو لك، سميت به نفسك، أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحدًا من خلقك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك: أن تجعل القرآن ربيع قلبي، ونور صدري ، وجلاء حزني، وذهاب همي.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, আমি আপনার বান্দা এবং আপনারই বান্দা-বান্দীর পুত্র। আমার ভাগ্য আপনার হস্তে, আমার উপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালাই ইনসাফপূর্ণ। আপনার যতগুলো নাম আছে আমি সবগুলো নামের ওসিলা দিয়ে আপনার কাছে দো&amp;#39;আ করছি- যে নামগুলো আপনি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন, অথবা কিতাবে নাযিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টিজীবের কেউ একজনকে শিক্ষা দিয়েছেন অথবা স্বীয় ইলমের ভাণ্ডারে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন- কুরআন দ্বারা আমার হৃদয়কে প্রশান্ত করে দিন, বক্ষকে জ্যোর্তিময় করে দিন। কুরআনের মাধ্যমে আমার দুঃখ-বেদনা দূর করুন, আমাকে দুশ্চিন্তা-মুক্ত করুন। &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللهم إني أسألك العافية في الدنيا والآخرة، اللهم إني أسألك العفو والعافية في ديني ودنياي وأهلي ومالي، اللهم استر عوراتي وآمن روعاتي، اللهم احفظني من بين يدي ومن خلفي وعن يميني وعن شمالي ومن فوقي، وأعوذ بعظمتك أن أغتال من تحتي.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, আমি আপনার নিকট ইহকাল ও পরকালের নিরাপত্তা কামনা করি। হে আল্লাহ্, আমাকে দ্বীন ও দুনিয়ার নিরাপত্তা দিন। হে আল্লাহ্, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি মার্জনার আর কামনা করছি আমার দ্বীন-দুনিয়া, আমার পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির নিরাপত্তা। হে আল্লাহ্, আমার দোষগুলোকে ঢেকে রাখুন, চিন্তা ও উদ্বিগ্নতাকে শান্তি ও নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করে দিন। হে আল্লাহ্, অগ্র-পশ্চাত, ডান-বাম, উর্ধ এসব দিক থেকে আমাকে আপনার হেফাজতে রাখুন এবং পায়ের দিক থেকে গুপ্ত হত্যার শিকার হওয়া থেকেও আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই।&amp;quot;&lt;br&gt;. . . . . . . . . . . .&lt;br&gt;&lt;b&gt;চতুর্থ চিঠি&lt;/b&gt;&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;প্রিয় পাঠক,&lt;br&gt; আপনি নিশ্চয় আমার সাথে সাক্ষ্য দিবেন যে, আমাদের নবী, আমাদের প্রিয়পাত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দাহ্ ও রাসূল। আল্লাহ্ তাঁকে জগতবাসীর জন্য রহমতসরূপ প্রেরণ করেছেন। তাঁকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে এবং সমস্ত সৃষ্টিকূলের উপর সাক্ষী বানিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন, উম্মতকে নসীহত করেছেন। আমাদেরকে এমন এক সরল-সোজা, আলোকোজ্জ্বল পথে রেখে গেছেন যে পথে দিবা-নিশি সমান। একমাত্র দুর্ভাগাই এই পথ থেকে বিচু্যত হতে পারে। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা তাঁর মাধ্যমে হেদায়েতের দিশা দিয়েছেন, অন্ধত্ব দূর করেছেন। আল্লাহ্ তাঁর খ্যাতিকে সমুন্নত করেছেন, তাঁর অন্তর খুলে দিয়েছেন, তাঁর কাঁধ থেকে যাবতীয় বোঝা অপসারণ করেছেন। অন্যদিকে তাঁর নির্দেশ লঙ্ঘনকারীর জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা অনিবার্য করে দিয়েছেন। অতএব তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অনুরূপভাবে তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবাদের উপরও আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। তদ্রূপ কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল অনুসারী, অনুগামী ও তাঁর দ্বীন প্রচারকের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। &lt;br&gt; &lt;br&gt; তাঁর আনুগত্য করা, তাঁকে ভালবাসা আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বান্দার উপর ফরজ করে দিয়েছেন। তাঁকে শ্রদ্ধা করা, সম্মান করা ও তাঁর অধিকার আদায় করাও ফরজ। তবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্যই বা কি? নিঃসন্দেহে আমাদের উপর তাঁর অনেক অধিকার রয়েছে। যেমন- &lt;br&gt; &lt;br&gt; এক : তাঁর প্রতি বেশী বেশী দরূদ পড়া। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা ঘোষণা দিয়েছেন, &lt;br&gt;&lt;br&gt; إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً -الأحزاب:56&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;&amp;quot;আল্লাহ্ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং ফিরিশ্তাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম কর। নবী করিম সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলেছেন, &amp;#39;যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার সালাত পড়ে (রহমত কামনা করে) আল্লাহ্ তাঁর প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; প্রিয় দ্বীনি ভাই,&lt;br&gt; জেনে রাখুন, রাসূলের প্রতি সালাত-সালাম পেশ করার সর্বোত্তম পদ্ধতি তা, যা তিনি নিজে তাঁর সাহাবাদেরকে শিখিয়ে গেছেন। বোখারী ও মুসলিমে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাদের বললেনঃ তোমরা বল, &lt;br&gt; &lt;br&gt; اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে আল্লাহ্, তুমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরদের রহমত বর্ষণ কর; যেমনটি বর্ষণ করেছিলে ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয় তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানিত। এবং তুমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি বরকত নাযিল কর যেভাবে বরকত নাযিল করেছিলে ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয় তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানিত।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; দুই : একনিষ্ঠভাবে অন্তর থেকে তাঁকে ভালবাসা এবং সকল ভালবাসার উপরে তাঁর ভালবাসাকে প্রাধান্য দেয়া। তিনি বলেছেন, &lt;br&gt; &lt;br&gt; لايؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده و الناس أجمعين.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তোমাদের কেউ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও অন্য সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় না হই।&amp;quot; &lt;br&gt; &lt;br&gt; আর তাঁর ভালবাসার অন্যতম প্রমাণ হল তাঁকে অনুসরন করা। তাঁর আদব-আখলাকে নিজেকে সুশোভিত করা। সকল পথ ও মতের উপরে তাঁর সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দেয়া। তাঁর নিষেধকৃত যাবতীয় সবকিছু থেকে বিরত থাকা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; তিন : তাঁর নির্দেশ পালন করা, নিষেধ থেকে বিরত থাকা, এবং তাঁর আনীত সংবাদে বিশ্বাস স্থাপন করা। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা ইরশাদ করেছেন, &lt;br&gt; &lt;br&gt; وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ. (الحشر: من الآية7(&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর; আল্লাহ্ তো শাস্তি দানে কঠোর।&amp;quot;[সূরা হাশরঃ ৭] &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা অন্যত্র বলেছেন, &lt;br&gt; &lt;br&gt; قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ. (آل عمران:31)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;বল, &amp;#39;তোমরা যদি আল্লাহ্কে ভালবাস তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।&amp;quot; [সূরা আলে-ইমরামঃ ৩১]&lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা আরো বলেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً . (الأحزاب:21) &lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।&amp;quot; [সূরা আল-আহযাবঃ ২১] &lt;br&gt; &lt;br&gt; চার : রাসূলের সুন্নাহর কাছে ফয়সালা চাওয়া এবং কোনরূপ বৈরীভাব প্রকাশ না করে তাঁর রায়ে সন্তুষ্ট থাকা। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলছেন, &lt;br&gt; &lt;br&gt; فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً. (النساء:65)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু&amp;#39;মিন হবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার তোমার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বদ্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে লয়।&amp;quot; [সূরা আন্-নিসাঃ ৬৫] &lt;br&gt; &lt;br&gt; পাঁচ : একমাত্র তাঁর আনীত শরীয়ত মোতাবেক আমরা আল্লাহর ইবাদাত করবো। নানা যুক্তি প্রমাণ, খেয়াল-খুশি, ব্যক্তি-স্বার্থ, বাপ-দাদার রসম-রেওয়াজ অথবা বিদআত দ্বারা প্রভাবিত হব না। বরং বিশুদ্ধ সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা প্রমাণিত হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করবো। যেহেতু তিনিই আল্লাহর বাণীবাহক। নিঃসন্দেহে তিনি আমানতদারির সাথে আল্লাহর রিসালাহ পৌঁছে দিয়েছেন। উম্মতকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। যা কিছু কল্যাণকর তিনি তার নির্দেশনা দিয়েছেন, যা কিছু ক্ষতিকর তা থেকে তিনি সতর্ক করেছেন। (আমাদের পিতা-মাতা তার জন্য উৎসর্গ হোক।) আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা তাঁর মাধ্যমে নেয়ামতকে পূর্ণ করেছেন, দ্বীনকে কামেল ঘোষণা করেছেন। অতএব একমাত্র তাঁর শরীয়তেই রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً . (المائدة: من الآية3)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাংগ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য একমাত্র দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।&amp;quot; [সূরা আল-মায়েদাঃ ৩]&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;. . . . . . . . . . . . .&lt;br&gt;&lt;b&gt;&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;b&gt;পঞ্চম চিঠি&lt;/b&gt;&lt;br&gt;&lt;br&gt; প্রিয় হাজী ভাই,&lt;br&gt; আল্লাহ্ আপনাকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করুন। আপনি কি জানেন বর্তমান বিশ্বের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, বিজাতিদের সর্বগ্রাসী আক্রমণে এবং সকল কুফরী শক্তির দরাজ কণ্ঠের প্রকাশ্য শত্রুতাময় পরিস্থিতিতে মুসলিম জাতির যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আকীদা; যাকে নির্মল, পরিপাটি ও বিশুদ্ধ করা দরকার। কেননা, সঠিক আকী্বদাই মুসলিম জাতিকে অন্য সকল জাতি থেকে বিশেষত্ব দিয়েছে এবং কাফের-মুশরিকদের মধ্যে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে। সঠিক আক্বীদাই হতে পারে মুসলিম ঐক্যের মূলমন্ত্র এবং শত্রুর যাবতীয় শত্রুতাকে পরিহত করার ধারলো অস্ত্র। একমাত্র আকীদার মাধ্যমে শত্রুর যাবতীয় ষড়যন্ত্রের সঠিক রূপরেখা উপলব্দি করা সম্ভব। অতএব আকীদাই হলো মুসলিম উম্মাহর বিশেষত্ব। &lt;br&gt; &lt;br&gt; আকীদার যে দিকটির উপর মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব নির্ভরশীল, যা কুফরী জাতীয়তায় বিলীন হওয়া থেকে উম্মাহ্কে রক্ষা করে এবং উম্মাহর ঐক্য ও সংহতিকে মজবুত রাখে তা হল - &amp;#39;বাবুল ওলা ওয়াল বারা&amp;#39; তথা &amp;quot;বন্ধুত্ব এবং শত্রুতার অধ্যায়&amp;quot;। (এর দ্বারা উদ্দেশ্যে হল, একজন মুমিন তার বন্ধু বা শত্রু নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কি নীতিমালা অবলম্বন করবে তার নির্দেশনা।) আর এই আকীদাটি মুসলিম জীবন থেকে মুছে ফেলার জন্য শত্রুরা সব ধরণের মিডিয়ার মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কিভাবে এই আকীদাকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করবে, অথচ আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা প্রতিদিন অন্ততঃ সতের বার ইয়াহূদী এবং খৃষ্টানদের নীতি থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ.&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;সূরা ফাতেহা পাঠ করা ছাড়া কোন নামাজ নেই।&amp;quot; আপনি কি মনে করেন যে, মুসলিম সমাজগুলোর উপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণে খুব শীঘ্র এই আকীদা বিলীন হয়ে যাবে? অথচ তারা প্রতিটি দিন-রাতে পাঠ করছেঃ &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ. -الفاتحة:6&lt;br&gt; صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ. -الفاتحة:7&lt;br&gt; &lt;br&gt;&amp;quot;আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন; তাদের পথ যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয় যারা আপনার অভিশাপ প্রাপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট।&amp;quot; অর্থাৎ, তাদের পথ নয় যাদের উপর অভিসম্পাত পতিত হয়েছে। আর তারা হচ্ছে ইয়াহূদীরা। কেননা তাদের কাছে ইলম ছিল, কিন্তু তারা ইলম অনুযায়ী আমল করেনি। আর তাদের পথও নয় যারা পথভ্রষ্ট, তারা হচ্ছে খৃষ্টান সমপ্রদায়। যারা আল্লাহর ইবাদাত করেছে অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার মধ্য দিয়ে। &lt;br&gt; &lt;br&gt; প্রত্যেক মুসলিমের সামনে মহাগ্রন্থের যে আয়াতগুলো রয়েছে, তা সকল মুসলিমকে কোন কাফেরের প্রতি কোন রকম আস্থা, ঝোঁক ও বিশ্বাস স্থাপন করা থেকে সতর্ক করে দিচ্ছে, তাদের সাথে কারো সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা; চাই তার কুফরী যে রকমই হোক না কেন। কুরআনে-কারীম &amp;#39;একক সত্তার ইবাদাত&amp;#39; এবং &amp;#39;বন্ধুত্ব ও শত্রুতা&amp;#39; বিষয়ে প্রতিটি দিক থেকে বিশদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা পেশ করেছে। যার ফলে পূর্ববর্তী মুসলিম সমাজ তার সব ধরণের কাজ-কর্মে, সর্ব পরিস্থিতিতে ছিল এক দেহের ন্যায়। কাফেরের প্রতি তাদের কোন আস্থা ছিল না। তাদের সংবাদ, প্রতিশ্রুতি, অঙ্গিকার বা কথা-বার্তায় তারা বিশ্বাস করত না। আর যখনি &amp;#39;বন্ধুত্ব ও শত্রুতার আকীদা&amp;#39; দূর্বল হয়ে পড়ে বা সমূলে হারিয়ে যায় এবং মানুষের মাঝে এ বিষয়ে অজ্ঞতা বিরাজ করে তখনি তারা তাদের শত্রুদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে তাদের উপর নেমে আসে নিকৃষ্টতম আযাব, তাদের সম্মান ও মর্যাদা ধুলায় ভুলুন্ঠিত হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে আলেমসমাজ জেগে উঠেন- বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে জাতিকে হুশিয়ার করেন, ইলম ছড়িয়ে দেন এবং সন্দেহ-সংশয়ের জবাব দেন। এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আলেমরা যা উল্লেখ করে থাকেন তার কিছু নিম্নে পেশ করার প্রয়াস পাব। &lt;br&gt; &lt;br&gt; এক : মুসলিম আল্লাহর কিতাবে পাঠ করেন যে, মুসলিমদের ব্যাপারে কাফেরদের অবস্থান দু&amp;#39;টি। হয় তাকে নিকৃষ্টভাবে হত্যা করবে অন্যথায় তাকে তার দ্বীন থেকে ফিরিয়ে আনবে। এর বাইরে অন্য কিছু না।&lt;br&gt; &lt;br&gt; إِنَّهُمْ إِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَنْ تُفْلِحُوا إِذاً أَبَداً. (الكهف:20)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;যদি তারা তোমাদের উপর বিজয়ী হয়, তাহলে তোমাদের হত্যা করবে অথবা তাদের ধর্মে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিবে, তাহলে তোমরা কখনোই সফল হবে না।&amp;quot; [সূরা আল-কাহ্ফঃ ২০] &lt;br&gt; &lt;br&gt; দুই : সতর্ক মুসলিম মানেই একথা জানেন যে, কাফেররা আমাদের হত্যা এবং কষ্ট দিতে বদ্ধপরিকর আর তারা ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তিবোধ করবে না যতক্ষণ না আমাদেরকে আমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে না দিবে যদি তারা পারতো। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ. (البقرة: من الآية217)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তারা তোমাদেরকে হত্যা করতেই থাকবে যতক্ষণ না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে না দিবে যদি তারা তা পারতো। আর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তার দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের অবস্থায় মৃতু্যবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের আমলসমূহ ধ্বংস হয়ে গেল। আর তারাই হচ্ছে জাহান্নামবাসী এবং তারা সেখানে সর্বদাই থাকবে।&amp;quot; [সূরা আল-বাকারাহঃ ২১৭] &lt;br&gt; &lt;br&gt; তিন : ইয়াহূদী এবং খৃষ্টানদের জন্য আপনি যতই হীন হন না কেন এবং নিজের অধিকার ত্যাগ করে তাদের সন্তুষ্টির যতই চেষ্টা করুন না কেন এবং যতই অপদস্থতা ও অপমানকে মেনে নেন না কেন এবং তাদের প্রতিটি ইচ্ছাই পূরণ করুন না কেন, তবুও তারা কখনোই আপনার উপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করবেন। এবং নিজ দ্বীন, আকীদা ও স্বজাতি থেকে পৃথক না হবেন। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ . (البقرة: من الآية120)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা কখনোই আপনার উপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করবেন।&amp;quot; [সূরা আল-বাকারাহঃ ১২০] &lt;br&gt; &lt;br&gt; চার : তারা আমাদের প্রতি যতই মমত্ববোধ, ভালবাসা এবং অধিকার সংরক্ষণের আগ্রহ দেখাক না কেন, এসব তাদের বেলায় শুধুমাত্র মৌখিক। অন্যদিকে তাদের অবস্থা এবং অন্তরসমূহ আমাদের শত্রুতায় বদ্ধ পরিকর। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; يُرْضُونَكُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ وَتَأْبَى قُلُوبُهُمْ وَأَكْثَرُهُمْ فَاسِقُونَ. (التوبة: من الآية8)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;তারা তাদের মুখ দিয়ে তোমাদের সন্তুষ্ট করে আর তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ ব্যক্তিই ফাসেক।&amp;quot; [সূরা আত্-তাওবাহঃ ৮] &lt;br&gt; &lt;br&gt; পাঁচ : তারা আমাদের ক্ষতি করতে প্রচেষ্টার কোন ত্রুটি করে না। যখন আমাদের উপর কোন অনিষ্ট বা বিপদাপদ পৌঁছে, তখন এটাই হয় তাদের আনন্দ, খুশি এবং ভালবাসার উদ্দেশ্য। তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী দেখতে পাবে যে, কেবল তাদের মৌখিক প্রকাশ আর তাদের অন্তর যা গোপন করে তা অত্যন্ত জঘন্য। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ لا يَأْلُونَكُمْ خَبَالاً وَدُّوا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآياتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ. (آل عمران:118)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের ব্যতীত অন্য কাউকে সঙ্গী-সাথী হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের ক্ষতি করতে ছাড়বে না। তারা তোমাদের কষ্ট দিতে চায় আর তাদের মুখ থেকে শত্রুতা প্রকাশ পেয়েছে আর তাদের অন্তর যা গোপন করে তা অতি জঘন্য। আমি তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ বর্ণনা করে দিয়েছি; যদি তোমরা বুঝতে পার।&amp;quot; [সূরা আলে-ইমরানঃ ১১৮] &lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা আরো বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; إِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئاً إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ. (آل عمران:120)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;যদি তোমাদের কারো কল্যাণ সাধিত হয়, তা তাদের কষ্ট দেয়, আর যদি তোমাদের কোন অনিষ্ট হয়, তাতে তারা খুশি হয়। যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং আল্লাহ্কে ভয় কর, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্ তাদের সকল কর্ম বেষ্টনকারী।&amp;quot; [সূরা আলে-ইমরানঃ ১২০] &lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা খবর দিচ্ছেন যে, তারা নির্জনে যখন একে অপরের সাথে মিলিত হয় তখন আমাদের উপর সবচাইতে নিকৃষ্ট কঠিন রাগ ও হিংসা পোষণ করে। আল্লাহ্ বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ . (آل عمران: من الآية119)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;যখন তারা একাকী হয় তখন তোমাদের উপর রাগে নিজেদের আঙ্গুল কামড়ায়।&amp;quot; [সূরা আলে-ইমরানঃ ১১৯] &lt;br&gt; &lt;br&gt; আর এটা খুবই পরিচিত বিষয় যে, মানুষ যখন রাগান্বিত হয়, তখন নিজ আঙ্গুল কামড়ায়। কিন্তু তারা যখন রাগান্বিত হয় তখন আমাদের প্রতি তাদের রাগের প্রচণ্ডতার কারণে তাদের সব আঙ্গুলই কামড়ায়। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ছয় : সন্তান-সন্ততি বা আত্মীয়-স্বজনদের বিপদের আশংকা করে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার যুক্তি অগ্রহণযোগ্য। আল্লাহ্ বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ . (الممتحنة: من الآية1)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার এবং তোমাদের শত্রুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না এবং তাদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করো না।&amp;quot; [সূরা আল-মুমতাহিনাঃ ১] &lt;br&gt; &lt;br&gt; অতঃপর আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা যারা মাল এবং সন্তান-সন্তুতির অভিযোগ করে, তাদের উপমা দিয়ে বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; لَنْ تَنْفَعَكُمْ أَرْحَامُكُمْ وَلا أَوْلادُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَفْصِلُ بَيْنَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ. (الممتحنة:3)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;কেয়ামতের দিন তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন উপকারে আসবে না; বরং তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে। আর আল্লাহ্ তোমাদের কর্মসমূহ দেখছেন।&amp;quot; [সূরা আল-মুমতাহিনাঃ ৩] &lt;br&gt; &lt;br&gt; সাত: কাফেররা যদিও তাদের নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য করে থাকে এবং তাদের মাঝে যুদ্ধ-বিগ্রহও সংঘটিত হয়, কিন্তু এ জাতির বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধ করতে হয় তখন তারা একীভুত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাবে। তখন তারা সে বিষয়ে এক জাতিতে পরিণত হবে এবং একে অপরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পোষণ করবে। আর মুমিনরা যখন পরস্পর ঐক্যবদ্ধ না হবে এবং পরস্পরের বন্ধুত্ব গ্রহণ না করবে তখন তাদের উপর নিপতিত হবে মহাধ্বংস এবং বিরাট পরীক্ষা। আল্লাহ্ বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ. (لأنفال:73)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;আর যারা কুফরী করেছে তারা একে অপরের বন্ধু, তারা যা করে তা হবে দুনিয়ার মধ্যে বিপদ এবং মহাধ্বংস।&amp;quot; [সূরা আল-আনফালঃ ৭৩] &lt;br&gt; &lt;br&gt; আট: নিজের অজান্তে ইয়াহূদী বা খ্রীষ্টানে পরিণত হওয়া থেকে সতর্ক থাকা তোমাদের সবার জন্য আবশ্যক। কারণ আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেছেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ. (المائدة:51)&lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু আর তোমাদের যে ব্যক্তি তাদের বন্ধু হবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অত্যাচারী সমপ্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না।&amp;quot; [সূরা আল-মায়েদাঃ ৫১] &lt;br&gt; &lt;br&gt; মহান আল্লাহ্ পিতা এবং ভাইকেও যেখানে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন যদি তারা কাফের হয়; তাহলে সেখানে কিভাবে অন্যদের গ্রহণ করা যাবে? আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْأِيمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ. (التوبة:23) &lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের পিতা এবং ভাইকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের চেয়ে কুফরকে বেশী ভালবাসে, আর তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, তারাই হবে অত্যাচারী।&amp;quot; [সূরা আত্-তাওবাহঃ ২৩]&lt;br&gt; &lt;br&gt; আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা কাফেরকে ভালবাসা থেকে সতর্ক করেছেন যদিও তারা পিতা বা সন্তান বা ভাই হয়। আল্লাহ্ তা&amp;#39;আলা বলেনঃ&lt;br&gt; &lt;br&gt; لا تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْأِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ. (المجادلة:22) &lt;br&gt; &lt;br&gt; &amp;quot;এমন কোন জাতি পাবে না যারা আল্লাহ্ এবং কেয়ামতের দিবসকে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের ভালবাসে, যদিও তারা তাদের পিতা বা সন্তান বা ভাই বা আত্মীয় হয়। এরা তারাই যাদের অন্তরে আল্লাহ্ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ্ দ্বারা জোরদার করা হয়েছে।&amp;quot; [সূরা মুজাদালাহঃ ২২] &lt;br&gt; &lt;br&gt; সম্মানিত ভাই, জেনে রাখুন, কাফেরদের ভালবাসা, তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ যেসব আলামত যা আলেমগণ বর্ণনা করেছেন, সেগুলো যেমন- &lt;br&gt; &lt;br&gt; ১) চরিত্র এবং পোষাক এবং অন্যান্য বিষয়ে তাদের সদৃশ হওয়া, কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু &amp;#39;আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-&lt;br&gt; &lt;br&gt; من تشبَّه بقومٍ فهو منهم&lt;br&gt; &lt;br&gt; অর্থাৎ, &amp;quot;যে ব্যক্তি কোন সমপ্রদায়ের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে&amp;quot;। &lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;২) মুসলিমদের উপর তাদের সাহায্য-সহযোগিতা, এটা ইসলাম বিরোধিতার মধ্যে একটি এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগের কারণসমূহের মধ্যে একটি। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৩) তাদেরকে বন্ধু বানানো যে বন্ধুত্বের মাধ্যমে তারা মুসলিমদের গোপন খবর নিতে পারে এবং এমনিভাবে তাদেরকে সঙ্গী-সাথী এবং উপদেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করা। &lt;br&gt; &lt;br&gt; ৪) তাদের ঈদ এবং আনন্দানুষ্ঠানে শরিক হওয়া বা তাতে সহযোগিতা করা বা তাদের অভিনন্দন জানানো।&lt;br&gt; &lt;br&gt; ((((((কাজ চলছে))))))&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt; ***&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt; আপাততঃ দৃশ্যমান ভুলগুলোর জন্য দুঃখিত। খুব শীঘ্রই বানান ভুলসহ অন্যান্য এডিটিং সম্পন্ন করবো ইনশাআল্লাহ।&lt;br&gt; &lt;br&gt; &lt;br&gt;  &lt;br&gt; &lt;br&gt;  &lt;hr size=&quot;1&quot;&gt;&lt;br/&gt;</description></item></channel></rss>